করোনা, পর্তুগালে বৈধ-অবৈধ সমান স্বাস্থ্য সুবিধা
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ এপ্রিল ২০২০, ১:১০ পূর্বাহ্ণ

সুরমা নিউজ ডেস্ক:
দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের দেশ পর্তুগালে বৈধ- অবৈধ মিলে প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশির বাস। সরকারি কোনো পরিসংখ্যান নেই। সকালে এক হিসাব হলে বিকালে অন্য- এই হলো ট্যুরিস্ট আর ট্রানজিটের জন্য খ্যাতি পাওয়া ইউরোপের ওই রাষ্ট্রের চিত্র। দেশটির ইমিগ্রেশন আইনও ইউরোপের অন্য রাষ্ট্রগুলোর চেয়ে খানিকটা সহনশীল, অভিবাসী বান্ধব। পর্তুগাল সরকার করোনা সঙ্কটের সূচনাতেই অতিমাত্রায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। যার সুফল তারা পেয়েছে। করোনায় গোটা ইউরোপ যখন মৃত্যুপুরিতে পরিণত হয়েছে বিশেষত পর্তুগালের বর্ডার স্পেনের মর্গগুলো যখন উপচে পড়ছে তখন এই দেশটির করোনা পরিস্থিতি বলতে গেলে নিয়ন্ত্রণে।
দ্য গার্ডিয়ানের রিপোর্ট মতে, ঈশান কোণে কালো মেঘের ছায়া দেখেই পর্তুগাল তার সব স্কুল কলেজ, ইউনিভার্সিটি বন্ধ করে দেয়।
পরে ধীরে ধীরে গোটা দেশই লক ডাউনে চলে যায়। ফলে লাভ যেটা হয়েছে, তা হলো- করোনার চরম ঝুঁকিতে থাকা দেশটির ২২ ভাগ মানুষ, যাদের বয়স ৬৫ বছরের ওপরে তারা আপাতত দৃষ্টিতে বেঁচে গেছেন। সোয়া কোটি জনসংখ্যার সংখ্যার ওই দেশে করোনার সংক্রমণ এখন অনেকটাই কম, অন্তত গতিতে স্থিতাবস্থা এসেছে। মঙ্গলবার দেশটিতে নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ৫১৬ জন, মারা গেছেন ২৭ জন। আগের দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬৫৭, মারা যান ২১ জন। তার আগের দিনে অর্থাৎ ১৯ শে এপ্রিল ৫১২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল, ওই দিনে মারা যান ২৭ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২১ হাজার ৩শ ৭৯। মারা গেছেন ৭৬২ জন, যা ফ্রান্স ইতালির একদিনের মৃত্যুর ঘটনা!
লিসবনস্থ বাংলাদেশ মিশন এবং স্থানীয় বাংলাদেশ কমিউনিটির হিসাব মতে, পর্তুগালে ২০ শে এপ্রিল পর্যন্ত ১৩ জন বাংলাদেশির করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে গতকাল সেই সংখ্যা আচমকা ১৮ তে পৌঁছে গেছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। সংখ্যা যাই হোক কারও অবস্থা গুরুতর নয়, কেউ মারাও যাননি। যারা আক্রান্ত তারা নিজ বাসায় কিংবা আইসোলেশন সেন্টারে আছেন। কূটনৈতিক সূত্র এবং স্থানীয় বাংলাদেশ কমিউনিটি করোনা দুর্ভোগের এই কঠিন সময়ে যে খবরটি উচ্ছাসের সঙ্গে শেয়ার করে তা হলো- করোনা পরিস্থিতিতে পর্তুগালে থাকা বৈধ-অবৈধ সকলের জন্য সমান স্বাস্থ্য সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। ১৮ই মার্চের আগে যারা দেশটিতে নিরাপদ এন্ট্রি অর্থাৎ বৈধ পথে দেশটিতে প্রবেশ করেছেন মর্মে রিপোর্ট করেছেন তারা এ সুবিধা পাবেন। তাছাড়া যাদের হাতে থাকা ডকুমেন্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, বা হতে যাচ্ছে তার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৩০ শে জুন পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। এতেও অবৈধরা হয়রানীমুক্ত থাকবেন। নবাগত এবং কর্মহীন প্রায় হাজার তিনেক বাংলাদেশি খাদ্য সঙ্কটে আছেন। কমিউনিটির সঙ্গে মিলে দূতাবাস প্রায় ১২০০ জনের একটি তালিকা করেছে। যার মধ্যে ৩ শতাধিকের কাছে প্যাকেটজাত ত্রাণ পৌছানো সম্ভব হয়েছে, বাকিটা পৌছানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে এর পুরোটাই বাংলাদেশ সরকারের অর্থে নয়, কমিউনিটিরও সহায়তা রয়েছে বলে জানা গেছে।







