নিউ ইয়র্কে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ : বাংলাদেশি কূটনীতিক গ্রেপ্তার
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ জুন ২০১৭, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
সুরমা নিউজ ডেস্ক:
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি এক কূটনীতিকের বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি হলেন নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ডেপুটি কনসাল জেনারেল মোহাম্মেদ শাহেদুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশি নাগরিককে নিজ বাসায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে বিনা বেতনে কাজ করানো এবং নির্যাতের অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার (১২ জুন) সকালে নিউ ইয়র্কের পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার কয়েক ঘণ্টা পর কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে হাজির করলে বিচারক ড্যানিয়েল লুইস ৫০ হাজার ডলারের বন্ড বা নগদ ২৫ হাজার ডলারে তার জামিন মঞ্জুর করেন। আগামী ২৮ জুন পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে এরই মধ্যে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশি দূতাবাস কর্মকর্তা শাহেদুল ইসলাম ২০১২-২০১৬ সালের মে মাস পর্যন্ত কোনও বেতন ছাড়াই মোহাম্মদ আমিন নামের এক ব্যক্তিকে তার বাড়িতে কাজ করতে বাধ্য করেন। গত বছর মে মাসে আমিন পালিয়ে যান এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।
আমির অভিযোগ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর পরই শাহেদুল ইসলাম তার পাসপোর্ট কেড়ে নেন এবং তাকে দিয়ে দৈনিক ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করতো। তার পরিবার ও বাইেরর কারও সঙ্গে তাকে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না।
কুইন্স কাউন্টির অ্যাটর্নির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ৪৫ বছর বয়সী শাহেদুল ইসলাম ডেপুটি কনসাল জেনারেল অব বাংলাদেশ হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি কুইনসের নিকটবর্তী জ্যামাইকা এলাকায় বসবাস করেন।
নিউ ইয়র্কের কুইন্সবরোর অ্যাটর্নি রিচার্ড ব্রাউন এমন অভিযোগকে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন কনস্যুলার তার বাড়িতে আরেকজনকে কাজে বাধ্য করতে শারীরিক জোর খাটিয়েছেন এবং হুমকি দিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রথমদিন থেকেই ওই কর্মীকে কাজে আটকে রাখার জন্য তার পাসপোর্ট কেড়ে নিয়েছেন। তাকে বেতন দিতে অস্বীকার করেছেন এবং অন্যদেশে থাকা তার পরিবারকে বিপদে ফেলার ভয়-ভীতি দেখান। এইসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিশ্চিতভাবেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার জন্য শাস্তি পেতে হবে।’
সূত্র : রয়টার্স।







