সন্ধ্যার রিমোটে সংস্কৃতির পরাজয়!
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
ভারতীয় সিরিয়াল পারিবারিক সম্পর্কের নীরব ঘাতক সচেতনতার চশমা দিয়ে দেখা জরুরি এখনই।
প্রতিদিন সন্ধ্যার পর আমাদের সমাজের বেশিরভাগ পরিবারে টিভির পর্দায় শুরু হয় এক অন্য রকম যুদ্ধ। ভারতীয় সিরিয়াল দেখার উদ্ভট উম্মাদনা। বিশেষ করে জি বাংলা, স্টার জলসার মতো চ্যানেলগুলোর নাটক যেন আজকাল বিনোদনের চেয়ে বিষ ছড়ানো যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।
এই সিরিয়ালগুলোতে প্রতিনিয়ত যা দেখা যায় শাশুড়ি-বউয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ননদ-ভাবীর ঘৃণা, পরকীয়ার গ্ল্যামারাইজেশন, পরিবার ভাঙার পেছনে চক্রান্তের রাজনীতি। এইসব গল্প আমাদের চোখে-মন-মস্তিষ্কে এমনভাবে ঢুকছে যে, ধীরে ধীরে আমাদের বাস্তব জীবনেও এর প্রতিফলন দেখা দিচ্ছে।
একটি বউ কেন শাশুড়ির প্রতিপক্ষ হবে?
ননদ-ভাবীর সম্পর্ক কেন সন্দেহ আর দ্বন্দ্বে ভরা থাকবে? এই ধরনের চিন্তা কি কোনো সুস্থ সমাজের পরিচয় দেয়?
আমাদের সমাজে এতদিন যে পারিবারিক বন্ধন, মায়া-মমতা, শ্রদ্ধা-ভালোবাসা টিকে ছিল, আজ তা ভাঙনের মুখে। কারণ আমরা নিজ হাতে অপসংস্কৃতিকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
অথচ আমাদের দেশের নাট্যজগতে বহু নাট্যকার মনের গভীর থেকে তুলে আনছেন জীবনের কথা, সম্পর্কের সৌন্দর্য, সমাজের ইতিবাচক বার্তা। আমাদের নিজেদের নাটক-চলচ্চিত্রে আছে বাস্তবতা, দায়িত্বশীলতা, নৈতিকতা। তবুও কেন আমরা মুখ ফিরিয়ে থাকি নিজের সংস্কৃতি থেকে?
ভারতীয় সিরিয়াল মনের অজান্তে বিনোদনের আড়ালে বিষবাষ্প।
দিনের পর দিন ভারতীয় সিরিয়াল আমাদের মনন ও পারিবারিক বন্ধনকে বিষিয়ে তুলছে।
এইসব দেখে আমরা অজান্তেই রপ্ত করছি নেতিবাচকতা।
মানুষের ভেতরের কোমলতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে সাজানো স্ক্রিপ্টের বিষাক্ত ছোবল।
সমাজ যদি এই ‘বিনোদন’কে নিয়ন্ত্রণ না করে, তবে সম্পর্ক ভাঙবে, মূল্যবোধ হারাবে, আর আমরা হারাবো নিজেদের মানবিকতা।
অভিনয় নয়, এ যেন অপপ্রয়াস চলছে সম্পর্ক ভাঙার।
এই ভারতীয় সিরিয়ালগুলোর প্রতি নজরদারি প্রয়োজন। এখনই সময় গণসচেতনতার না, হলে আমাদের আগামী প্রজন্ম বড় হবে অবিশ্বাস, দ্বন্দ্ব আর মেকি সম্পর্কের গল্প নিয়ে।
সুস্থ সংস্কৃতি চাই, তবে শুরু হোক আজ থেকেই। বন্ধ হোক বিষ ছড়ানো সিরিয়াল,
চর্চা হোক দেশীয় শিল্প, ভালোবাসা আর সৌন্দর্যে।
লেখক: সঞ্চালক ও সংবাদকর্মী







