ফাতেমা যেন বাধা পেরিয়ে বিজয়ের আলোকবর্তিকা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৯ অপরাহ্ণ

ফারজানা মৃদুলাঃ
নিজের প্রতি শতভাগ আত্মবিশ্বাস থাকলে কীভাবে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়, তার প্রমাণ গল্পের নায়িকা ফাতেমা আক্তার। ১লা জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা ফাতেমা ধৈর্যশীল, দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী ও আত্মনির্ভরশীল। শরৎ ঋতু প্রেমী ফাতেমাকে নীল রং ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে।
ও আমার দেশের মাটি তোমার ’পরে ঠেকাই মাথা
দেশের এই গানগুলো যেন বারবর তার মনে জায়গা করে নেয়।ফাতেমা শুধু একজন উদ্যোক্তা নন, তিনি সাহসী মনোভাবের প্রতীক, যিনি প্রতিটি পদক্ষেপে নিজেকে বিশ্বাস করে সামনে এগিয়ে চলেছেন।নিজের হাতেই গড়া শোরুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যেখানে মিশে ছিল গর্ব, আবেগ আর ভালোবাসার এক অনন্য মুহূর্ত।এই স্মৃতিটি তার মনের মনি কোঠায় যতনে আছে।
শিক্ষাজীবনে যাত্রা শুরু দেলপাড়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে, আর পড়াশোনা শেষ করেন দনিয়া কলেজ এন্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
ছোটবেলায় বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল মেয়ে হোক ডাক্তার। কিন্তু ফাতেমা নিজের স্বপ্নে বুনেছেন উদ্যোগের রঙিন জালে।বাবা তার জীবনের আদর্শ, যিনি শিখিয়েছেন সত্যের পথে হাঁটো।
আজ তার স্বপ্ন নিজের মাধ্যমে আরও অনেক মেয়েকে স্বাবলম্বী করে তোলা।
যেসব মহীয়সী নারীরা, নারীদের জন্য পথ তৈরি করেছেন, তাদের মতোই হতে চান তিনি এক দীপ্ত অনুপ্রেরণা।
উদ্যোগের জন্মলগ্নে নারী হয়েও যখন একা হাতে বস্তা টেনে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে ছুটেছেন, তখনও হাল ছাড়েনি বিশ্বাস ছিলো মনে একদিন জয় আসবেই।সত্যিকারের অগ্রগতি তখনই সম্ভব, যখন নারীরা স্বাবলম্বী হবে।
তাই আজও তিনি লড়ছেন নিজের স্বপ্নের জন্য, অন্য নারীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য।
কেউ মিথ্যা বললে বা ঠকালে খুব ব্যাথিত হয় ফাতেমা। উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে মায়ের উৎসাহই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি। সবসময় পাশে থেকে ভরসা দিয়েছেন মা।
প্রথমে সেভাবে সাপোর্ট পায়নি, অনেক বাজে কথা শুনতেও হয়েছে “বাহিরে কেন যায়” এই নিয়ে। যখন ফাতেমা বাধা ডিঙিয়ে এগিয়ে যেতে থাকলো, তখন স্বামীও পাশে দাঁড়িয়েছেন, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে স্বপ্নপূরণে সহযোগী হয়ে চলছে এখন অবদি।
যখন মনে হয় সম্ভব নয়, তখন নিজের মধ্যে একটা জেদ জাগে, আমি পারবোই, হেরে যাবো না। কষ্ট যতই আসুক, হার মানা আমার জন্য নয়। স্বপ্নবাজ এই ব্যাক্তি চায় তার মাধ্যমে নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাক, ছোট ছোট দুই শোরুম নিয়ে শুরু করলেও, শোরুমগুলো আরও বড় হয়ে ছড়িয়ে পড়ুক।
সন্তানদের নিয়ে ফাতেমার ইচ্ছা, সন্তানরা মানুষের মতো মানুষ হয়ে উঠুক।
নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হোক, সুসন্তান হিসেবে গড়ে উঠুক।
চেষ্টা থাকলে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায়। কিন্তু সবচেয়ে খুশি হবে যখন তারা নিজেদের যোগ্যতায় স্বাবলম্বী ও প্রকৃত মানুষ হবে।
নারীদের নিয়ে ফাতেমার বিশেষ চাওয়া, প্রত্যেক নারীকেই স্বাবলম্বী হতে হবে, যা পারে, তা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিটি মানুষের ভেতরে কোন না কোন প্রতিভা থাকে, বাধা আসবেই, কিন্তু থেমে গেলে চলবে না। সাহসী পথচলাই আপনাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে।
“ফাতেমা আক্তার শুধু একজন উদ্যোক্তা নন, তিনি সাহস আর ধৈর্যের এক জীবন্ত প্রতীক। বাধা পেরিয়ে নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার সংগ্রামে তিনি প্রমাণ করেছেন, নারীর মনোবল আর দক্ষতা নিয়ে পৃথিবীতে অসীম সম্ভাবনা আছে। তার অনুপ্রেরণা শুধু নিজের জন্য নয়, শত শত নারীর জন্য। যারা স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে নতুন আলোর মুখ হতে চায়। ফাতেমার গল্প থেকে আমরা শিখি, সংকটকেই সাহসের সিঁড়ি বানাতে হয়, আর স্বপ্নের পথে বাধা নয়, শুধুই অনুপ্রেরণা।”






