ভূমিকম্পের ‘ডেঞ্জারজোন’ সিলেট, ভূকম্পবিদদের সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলসমূহ নিয়ে নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। সেখানে সমগ্র দেশকে তিনটি পৃথক জোনে ভাগ করা হয়েছে—জোন-১ উচ্চ ঝুঁকি, জোন-২ মাঝারি ঝুঁকি, এবং জোন-৩ কম ঝুঁকি। এর মধ্যে জোন-১ সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, আর এই তালিকার শীর্ষেই রয়েছে সিলেট অঞ্চল।
নতুন মানচিত্র অনুযায়ী দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল তথা সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৯টি জেলা, ঢাকার টাঙ্গাইল–গাজীপুর–নরসিংদীর অংশবিশেষ, পুরো কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, এবং পার্বত্য অঞ্চলের কিছু অংশকে উচ্চঝুঁকিপ্রবণ চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজরকাড়া এলাকা হলো সিলেট, যাকে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই “ডেঞ্জার জোন” হিসেবে বিবেচনা করছেন।
সিলেট কেন সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে?
ভূকম্পবিদদের মতে, সিলেট অঞ্চল একাধিক সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থান করছে। বাংলাদেশের চারপাশে যে পাঁচটি প্রধান ভূমিকম্প উৎপত্তিস্থল রয়েছে, তার মধ্যে তিনটির সরাসরি প্রভাব সিলেটে পড়ে। তাই সিলেটকে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা দিচ্ছেন তারা।
এগুলো হলো—
প্লেট বাউন্ডারি-২ (নোয়াখালী–সিলেট)
প্লেট বাউন্ডারি-৩ (সিলেট–ভারত)
ডাউকি ফল্ট, যা ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে নেমে এসেছে
এ ছাড়া নিকটবর্তী মধুপুর ফল্টের ভূতাত্ত্বিক চাপও সিলেট অঞ্চলে প্রভাব ফেলছে। ফলে সিলেট দেশের সবচেয়ে সক্রিয় ভূকম্পন বেল্টের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতিহাস বলছে—সবচেয়ে ঘন ঘন কম্পন সিলেটেই
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত অন্তত পাঁচবার বড় ধরনের ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশে, যার অধিকাংশের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট, মৌলভীবাজার ও পার্বত্য অঞ্চল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও সিলেট শহর ও আশপাশে ধারাবাহিক হালকা-মাঝারি কম্পন রেকর্ড হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কম্পন বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে।
বাংলাদেশের চারপাশে পাঁচটি উৎপত্তিস্থল
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দেশের চারপাশে পাঁচটি সক্রিয় কম্পন উৎস রয়েছে—
1. প্লেট বাউন্ডারি-১ (মিয়ানমার–নোয়াখালী)
2. প্লেট বাউন্ডারি-২ (নোয়াখালী–সিলেট)
3. প্লেট বাউন্ডারি-৩ (সিলেট–ভারত অভিমুখে)
4. ডাউকি ফল্ট (মেঘালয়–সিলেট সীমান্ত)
5. মধুপুর ফল্ট (ময়মনসিংহ অঞ্চল)
এর মধ্যে বিশেষ করে ডাউকি ফল্ট বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় ফল্ট, যার সরাসরি প্রভাব সিলেটের ওপর পড়ে।
তুলনামূলকভাবে নিরাপদ দক্ষিণাঞ্চল
অন্যদিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ—খুলনা, যশোর, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চল—জোন-৩ এ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলক কম।








