ইলিশের চড়া দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা স্বীকার মৎস্য উপদেষ্টার
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৯:২৫ অপরাহ্ণ

সুরমা নিউজ ডেস্কঃ
ইলিশের চড়া দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, বাজারে দাম কমাতে না পারাটা আমারও কষ্টের কারণ। আমি কোনো আত্মপক্ষ সমর্থন করব না। ব্যর্থতা বলতে চাইলে বলতে পারেন। তবে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে।
আজ সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫’ এবং সারা দেশে ইলিশের প্রাপ্যতা, মূল্য ও সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় ইলিশের দাম এখনো বেশি। ঢাকায় ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি এক হাজার থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকায়। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশের দাম ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা এবং ৯০০ গ্রামের বেশি হলে প্রতি কেজি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আমি খুব সুখবর দিতে পারছি না। এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।
তিনি আরও বলেন, আমি আগেও বলেছি, বাংলাদেশের মানুষ যেন সাশ্রয়ী দামে ইলিশ খেতে পারে, সে জন্য আমরা গবেষণা চালাচ্ছি। আসল সমস্যাটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। ইলিশের প্রাপ্তিটা শুধুমাত্র যে অভিযান চালিয়ে মা ইলিশ রক্ষা করলে হচ্ছে না, আমরা দেখছি আরও অনেক কারণ আছে। আশা করছি, এ বছর না পারলেও আগামীতে ভালো অবস্থায় আসতে পারব।
রপ্তানি ও বাজারমূল্যের তুলনাতে অসামঞ্জস্যের কথা উল্লেখ করে ফরিদা আখতার বলেন, এ বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ১০৩ টন ইলিশ রপ্তানি করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত করেছে প্রতি কেজি ইলিশের রপ্তানি মূল্য ১২ দশমিক ৫০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। গত ১৮ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ২২ মেট্রিক টনের বেশি ইলিশ রপ্তানি হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, আগামী ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণ, ক্রয় ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে ৩৭ জেলার ১৬৫ উপজেলার ৬ লাখ ২০ হাজার জেলে পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সাড়ে ১৫ হাজার টন চাল দেওয়া হবে। ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়া এবং বাজারে দাম না কমায় আমরা উদ্বিগ্ন। জনসাধারণের কষ্ট আমরাও অনুভব করছি।







