মুসলিম নেতাদের সাথে বৈঠকে গাজা যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেন ট্রাম্প
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
বুধবার (২৪শে সেপ্টেম্বর) বৈঠকের শুরুতে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা গাজার যুদ্ধ শেষ করতে চাই। আমরা এটি শেষ করতে যাচ্ছি। হয়তো আমরা এখনই এটি শেষ করতে পারি।”
তিনি আরও বলেন, “এটি আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। এই বৈঠকটি আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমরা এমন কিছু শেষ করতে যাচ্ছি যা সম্ভবত কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না।”
বৈঠকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিশর, জর্ডান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প জানান, এই বৈঠকে ইসরায়েল ছাড়া সব বড় শক্তিই উপস্থিত ছিল, তবে আগামী সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। ট্রাম্প ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণেরও প্রশংসা করেন, যেখানে সুবিয়ান্তো বলেছিলেন যে শান্তির জন্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের কোনো মন্তব্য না করে কেবল হাত নাড়েন এবং হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বৈঠক কেমন হয়েছে জানতে চাইলে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেন।
প্রত্যাশা করা হয়েছিল যে ট্রাম্প ও উইটকফ গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার তৈরি করেছেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকটিকে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেছেন। ন্যাটো সদস্য তুরস্ক গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলার তীব্র সমালোচনা করে আসছে এবং এটিকে গণহত্যা বলে দাবি করেছে, যা জেরুজালেম দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। তুরস্ক ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য স্থগিত করেছে এবং গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে।
এরদোয়ান সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠক থেকে একটি যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হবে এবং তিনি বৈঠকের ফলাফলে ‘সন্তুষ্ট’। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম (WAM) জানিয়েছে, বৈঠকে গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ করে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সংবাদ সংস্থাটি আরও জানায়, বৈঠকে সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে ভয়াবহ মানবিক সংকট মোকাবিলার পদক্ষেপগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।








