ওসমানীর দুর্নীতি তদন্তে মাঠে দুদক
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৫:২২ অপরাহ্ণ

ওয়েছ খছরুঃ
সিলেটে নতুন জেলা প্রশাসক যোগদানের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে উদ্দেশ্য করে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। নানা সেক্টরে অনিয়ম, দুর্নীতি নিয়ে তার নজর কাড়ার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগ লেখা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুর্নীতি নিয়ে। অনেকেই বলেন-হাসপাতালে দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ডিসিকে একবার হাসপাতাল পরিদর্শন করার অনুরোধও জানিয়েছেন অনেকেই। মঙ্গলবার নতুন ডিসি যখন তার সেমিনার কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তখনো উঠে আসে এ প্রসঙ্গটি। ডিসি বলেছিলেন-তিনি ওসমানী মেডিকেলে যাবেন। তবে ডিসি যাওয়ার আগেই ওসমানীতে গিয়ে পৌঁছেছে দুদকের তদন্ত টিম। অভিযোগ বিস্তর। হাসপাতালের নানা সেক্টরে দুর্নীতির অভিযোগ। গেইট থেকে ক্যান্টিন সবখানেই অনিয়ম আর অনিয়ম। রোগী ও স্বজনরা যেন দুর্নীতিবাজদের কাছে আয়ের উৎস। কয়েক মাস হাসপাতালের নার্সিং সেক্টরে দুদক হানা দিয়েছিল। বিদেশে থেকেও বেতন নিচ্ছিলেন কয়েকজন নার্স। সেটিও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দুদকের সিলেট কার্যালয়ের কর্মকর্তারা হঠাৎ করেই অভিযান পরিচালনা করেন।
এক ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযানে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, ওয়াশরুম, রোগীদের খাবার পরিবেশন ব্যবস্থা, প্যাথলজি বিভাগসহ নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- হাসপাতাল জুড়ে অপরিচ্ছন্নতা, আউটসোর্সিংয়ে অনিয়ম, ২৬২ জন কর্মচারীর বেতন তিন মাস ধরে আটকে রাখা, রোগীদের নির্ধারিত খাবার মেন্যুর চেয়ে কম দেয়া, হাসপাতালের ওষুধ বাইরে বিক্রি করা, এম্বুলেন্সে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ দেখিয়ে প্রতিটি এম্বুলেন্স থেকে মাসে বাড়তি ১ হাজার ৮০০ টাকা নেয়া। দুদকের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে পাওয়া এসব অভিযোগের রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে। সিলেটের কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র প্রতিষ্ঠান এই হাসপাতাল। এখানে রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেন দুর্নীতির ছাপ। হাসপাতালটি ৫০০ শয্যার হলেও তারা ৯০০ বেডের রোগী সুবিধা পায়। কিন্তু বাস্তবে সেবা দেয়া হয় দেড় থেকে দুই হাজার রোগীর। রোগীর ভিড় বেশি থাকায় হাসপাতালে নানা সেক্টরে দালাল, সুবিধাভোগীদের অবস্থান বেশি। দুদকের অভিযানের সময় খোঁজ নেয়া হয় হাসপাতালের ক্যান্টিনের। এটি এখন পরিচালনা করেন সাবেক ওয়ার্ড মাস্টার দেলোয়ার হোসেন। ক্যান্টিনে খাবারে নানা অনিয়মের বিষয়টি দুদকের কাছে ধরা পড়েছে। এ কারণে ক্যান্টিনের নথি দুদক নিয়ে গেছে। সেগুলো দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- অভিযানে নানা সেক্টরে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এখন সেগুলো অধিকতরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
রওশন-জব্বারের বিরুদ্ধে তদন্ত: সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহুল আলোচিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ওয়ার্ড মাস্টার রওশন হাবিব। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। একাধিক অভিযোগের পর তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আরেকজন হচ্ছেন নৈশপ্রহরী আব্দুল জব্বার। তার বিরুদ্ধেও দুদকের অনুসন্ধান চলছে। তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকেও তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. প্রণয় কান্তি দাশকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির সদস্যরা আজ হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন এবং ওয়ার্ড মাস্টার রওশন হাবিব ও নৈশপ্রহরী জব্বারের জবানবন্দি গ্রহণ করবেন। ৩০শে আগস্ট এক পত্রে তদন্ত কমিটির প্রধান ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে লিখিত এক পত্রে বিষয়টি জানিয়েছেন। পত্রে তিনি উল্লেখ করেন-সাক্ষীসহ রওশন হাবিব ও আব্দুল জব্বারকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়ার অনুরোধ করা হয়। একই সঙ্গে রূপা খানম ও ইসলাম উদ্দিন সহ সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন- দুর্নীতির অভিযোগে আগেই হাসপাতালের নৈশপ্রহরী আব্দুল জব্বারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।







