কুমিল্লায় ঝাড়ফুঁকের নামে ধর্ষণের চেষ্টা, ব্যর্থ হয়ে মা-মেয়েকে হত্যা
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৫:৩১ অপরাহ্ণ

সুরমা নিউজ ডেস্ক:
ঝাড়ফুঁক করার সুবাদে কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়ার বাসায় প্রবেশ করে ধর্ষণের চেষ্টা করলে তার মা বাধা দেন। এতে মোবারক ক্ষুব্ধ হয়ে মা তাহমিনা বেগমকে অন্য একটি রুমে নিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। ধর্ষণের চেষ্টা করলে সুমাইয়া প্রতিরোধ করে। এরপর তাকেও গলা টিপে হত্যা করে। এ ঘটনায় মূলহোতা মো. মোবারক হোসেন (২৯)কে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় কুমিল্লা নগরীর রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল দুপুর ২টায় কুমিল্লা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কুবি লোক বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথিকে কথিত জিনে ধরায় মা তাহমিনা বেগম এক মাদ্রাসার হুজুরের কাছে ঝাড়ফুঁক করার জন্য যেতেন। সেখানে মোবারকের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। মোবারককে তিনি বলেন, ‘তার মেয়েকে বাসায় গিয়ে ঝাড়ফুঁক দিতে’। আনুমানিক একমাস ধরে মোবারক তাদের বাসায় যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টায় মোবারক একটি কমলা রঙের শপিং ব্যাগ এবং কালো রঙের একটি ব্যাগ নিয়ে তাহমিনার বাসায় যায়। এ সময় সে আফরিনকে ঝাড়ফুঁক করে বাসায় পানি ছিটায়। বেলা সাড়ে ১১টায় বাসার বাহিরে যায়। এর কিছুক্ষণ পর পুনরায় বাসায় যায়। এরপর আফরিনের রুমে গিয়ে তাকে ধর্ষণচেষ্টার সময় তাহমিনা বেগম দেখে ফেলেন। তখন তিনি বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক সময় তাহমিনা বেগমকে তার রুমে নিয়ে গিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর আফরিনের রুমে প্রবেশ করে ফের ধর্ষণচেষ্টা করে। আফরিন প্রতিরোধ করতে গেলে তাকে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মোবারক। এর পরপরই মোবারক তাদের ঘর থেকে ৪টি মোবাইল ও ১টি ল্যাপটপ চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান বলেন, ধর্ষণ হয়েছে কিনা বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বিচারের দাবিতে কুবি শিক্ষার্থীদের অবস্থান
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন ও তার মা তাহমিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন শতাধিক শিক্ষার্থী। তারা জানান, প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টা সময় দেয়ার পরও তারা ঘটনার বিস্তারিত জানাতে গড়িমসি করছে। এজন্য তারা পুলিশ সুপার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের হোতাকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া মুঠোফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যান জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বেলা ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তার কথা না শুনে বিক্ষোভ করতে থাকেন।







