আরিফের প্রশংসায় কয়েস লোদী, বললেন- ‘ভাই আমার অভিভাবক, আমার নেতা’
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ আগস্ট ২০২৫, ৫:১০ অপরাহ্ণ

সুরমা নিউজ:
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেছেন, ‘ আরিফ ভাই আমার অভিভাবক। আমার রাজনৈতিক নেতা’।
শনিবার নগরের ১৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আগপাড়া ও ভাইয়ার পাড়া এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। এসময় আরিফুল হক চৌধুরীও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
এই সভায় ভবিষ্যতে আরিফুল হকের পরামর্শ নিয়েই কাজ করবেন বলেও মন্তব্য করেন কয়েস লোদী।
কয়েস লোদীর মুখে আরিফুল হক চৌধুরীর প্রশংসামূলক এই বক্তব্যের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। সিলেট বিএনপির এক শীর্ষ নেতা সম্পর্কে আরেক শীর্ষ নেতার এমন বক্তব্যকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা। একে এই দুই নেতার মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গীত হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ।
সিলেট বিএনপি বর্তমানে দুটি বলয়ে বিভক্ত। দলের চেয়ারপার্সনের দুই উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী এই দুই বলয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন। মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী খন্দকার মুক্তাদির বলয়ের নেতা হিসেবেও পরিচিত।
কিছুদিন আগে মহানগর বিএনপির একটি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে আরিফ-লোদী উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়। এনিয়ে দলের নেতাকর্মীরাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। এই বিরোধ মেটাতে কেন্দ্রিয় নেতাদেরও হস্তপেক্ষপ করতে হয়। এছাড়া আগামী সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও দুই নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে জানা গেছে। কয়েস লোদী সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন বলে জানিয়েছেন তার অনুসারীরা। অপরদিকে, সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও ফের মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। এই নিয়েও দুই নেতার মধ্যে দুরত্ব রয়েছে বলে দলে কানাঘুষা আছে।
তবে এসব গুঞ্জন আর কানাঘুষাকে উড়িয়ে দিয়েছে শনিবার ১৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে কয়েস লোদীর বক্তব্য। এ অনুষ্ঠানে আরিফুল হককে পাশে রেখে কয়েস লোদী বলেন- ‘এই ওয়ার্ড আরিফ ভাইর। এই নগরীও আরিফ ভাইর। আমি ১৫ বছর আরিফ ভাইয়ের সাথে কাজ করেছি। তিনি মেয়র ছিলেন। আমি কাউন্সিলর ছিলাম। প্যানেল মেয়র ছিলাম।
কয়েস আরও বলেন, তিনি (আরিফ) আমার অভিভাবক। আমার রাজনৈতিক নেতা। তার নেতৃত্বে রাজনীতি করেছি। সিটি করপোরেশনেও কাজ করেছি। ব্যক্তিগতভাবে তাকে আমি শ্রদ্ধা করি। তিনিও আমাকে মায়া করেন। এর বাইরে তার সাথে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। খুবই মধুর। আশা করি, তিনি আমার জন্য দোয়া করবেন। ভবিষ্যতেও তার পরামর্শ নিয়েই কাজ করবো। এটাই সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।







