ওসমানীনগরে লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও করা রবিউল জীবিত উদ্ধার
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ আগস্ট ২০২৫, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
ওসমানীনগর প্রতিনিধিঃ
সিলেটের ওসমানীনগরের এক কিশোরকে দাফনের ১৭ দিন পর জীবিত অবস্থায় তার আত্মীয় বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে কুলাউড়া থানা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া কিশোরের নাম রবিউল ইসলাম নাঈম (১৪)। সে উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের গদিয়ারচর গ্রামের কণাই মিয়ার ছেলে। শনিবার হবিগঞ্জ জেলার নবিগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের এক আত্মীয় বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুলাউড়া থানার ওসি ওমর ফারুক।
এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সে জীবিত থাকলেও বিনা অপরাধে হত্যা মামলার প্রধান আসামী হয়ে জেল হাজতে রয়েছেন রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ী বগুড়ার শিবগঞ্জের বাসিন্দা বুলবুল ফকির।
জানা যায়, ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় বুলবুল ফকিরের রেষ্টুরেন্টে কাজ করতো নাঈম। গত ২৪ জুলাই সে হঠাৎ উদাও হয়ে যায়। নাঈমের মা ছেলেকে নিখোঁজ উল্লেখ করে ওসমনীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন। এর পর গত ৩ আগস্ট মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানা এলাকা থেকে এক অজ্ঞাত কিশোরের লাশ উদ্ধার হয়। সেই লাশটি নাঈমের বলে চিহ্নিত করে পুলিশের কাছ থেকে গ্রহণের পর ৫ আগস্ট দাফন সম্পন্ন করে। লাশ দাফনের আগে ওসমানীনগর ও কুলাউড়া থানায় মামলা করতে চাইলে প্রথমে দুটি থানা মামলা নিতে বিলম্ব করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ৬ আগস্ট লাশ নিয়ে রবিউলের মা ও স্বজনরা সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে এঘটনায় রবিউলের পরিবারের পক্ষ থেকে কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার প্রধান আসামী হিসেবে দোকান মালিক বুলবুল ফকির এখন পর্যন্ত জেল হাজতে রয়েছে। হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কুলাউড়া থানার এসআই মুস্তাফিজুর রহমান শনিবার নাঈমের আত্মীয় মোঃ জুবেলের বাড়ি থেকে কিশোরকে উদ্ধার করে জবানবন্ধি গ্রহণের জন্য আদালতে প্রেরণ করে। কিশোরকে জীবিত অবস্থায় আত্মীয় বাড়ি থেকে উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন মিথ্যা অপবাধে একজন নিরপরাদ মানুষ হাজতবাস করছে।
কুলাউড়া থানার এসআই মুস্তাফিজ বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে কিশোর নাঈমকে তার আত্মীয় জুবেলের বাড়ি থেকে উদ্ধার করার পর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিশোরের মা এবং মামা আদালতে রয়েছেন।
নাঈমের পরিবারের একাধিক সদস্যের সাথে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।







