৯শ’ জনের আমলনামা তারেক রহমানের হাতে
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ আগস্ট ২০২৫, ৭:০২ অপরাহ্ণ
ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ধরে প্রস্তুতি জোরদার করছে বিএনপি। বিভিন্নভাবে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। এক্ষেত্রে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী খুঁজছে বিএনপি। প্রতিটি আসন থেকে ৩ জন করে নিয়ে ৯০০ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর একটি তালিকা ও তাদের আমলনামা লন্ডনে তারেক রহমানের হাতে পৌঁছানো হয়েছে। তাদের সম্পর্কে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এদিকে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। প্রায় প্রতিটি আসনেই ৩ থেকে ৫ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
এবার বিএনপির প্রার্থী হওয়ার জন্য শুধু দলের নেতৃত্বে থাকাকেই যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। পাশাপাশি প্রার্থীদের বিষয়ে আরও যা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে সে সবের মধ্যে রয়েছে-কারা অতীতে দলের জন্য বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছেন, বিগত দেড় দশকের আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে সক্রিয় ছিলেন, কারা সুশিক্ষিত, ভদ্র, মার্জিত ও ক্লিন ইমেজের, কাদের নামে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নেই, বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর কারা দখল-দুর্নীতিতে জড়িত হননি। সেই সঙ্গে এলাকায় জনপ্রিয়তার বিষয়টিও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। এ জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের আমলনামা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে দলের পক্ষ থেকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য মতে, আপাতত ৩০০ আসনেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। তফসিল ঘোষণার পর সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে কিছু আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে। তবে কোন কোন আসনে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তাই সকল আসনকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি চলছে।
হাইকমান্ডের নির্দেশ অনুসারে এবার প্রার্থী করার ক্ষেত্রে দলের ত্যাগী এবং ক্লিন ইমেজের নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। তবে নিজ নিজ সংসদীয় আসনে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে আগেভাগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে।
সূত্র জানায়, দীর্ঘ ১৯ বছর পর সার্বিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগ্রহ বেড়েছে। একই আসনে বেশ ক’জন জনপ্রিয় সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তাই এ বিষয়টি বিএনপি হাইকমান্ডকে ভাবিয়ে তুলেছে। কাকে রেখে কাকে প্রার্থী করা হবে এটি তা চূড়ান্ত করতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কৌশল। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর
নেওয়া হচ্ছে। আর এ জন্য হাইকমান্ডকে সহযোগিতা করছেন দলের ক’জন সিনিয়র নেতা। তারাও তারেক রহমানের মতো সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ফাইল ওয়ার্ক করছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করছে। প্রতিটি সংসদীয় আসনেই একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছে। তবে দলীয় হাইকমান্ড বিস্তারিতভাবে যাচাই-বাছাই করে অধিকতর যোগ্যতাসম্পন্ন একজনকে নির্বাচনে প্রার্থী করবে। এবার যেসব আসনে বিএনপির একাধিক গ্রহণযোগ্য সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছে সার্বিক বিবেচনায় একজনকে মনোনয়ন দিয়ে অন্যদের মধ্যে কাউকে জাতীয় সংসদের উচ্চ কক্ষের জন্য মনোনীত করা হবে। আবার কাউকে জেলা পরিষদ কিংবা উপজেলা পরিষদে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হবে। আর দল ক্ষমতায় গেলে কাউকে কাউকে টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্র কিংবা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে স্থান দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি আগেই প্রতি আসনে ৩ জন করে সম্ভাব্য প্রার্থী ঠিক করে রাখে। সেখান থেকে একজনকে চূড়ান্ত বাছাই তালিকায় স্থান দেওয়া হবে। তবে শেষ মুহূর্তে এই ৩ জনের বাইরেও নতুন করে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় সংযোজন বিয়োজন করে অধিকতর যাচাই-বাছাইকরা হবে। এবার নতুন উদ্যমে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চলছে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সম্ভ্যব্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে অধিকতর গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের নিয়ে সারাদেশে ৩০০ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। তারপর সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হলে কিছু আসন ছেড়ে দেওয়া হবে।








