ভিসা পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দিতে হবে ১৫ হাজার ডলার
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ আগস্ট ২০২৫, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ

সুরমা নিউজ ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে আগ্রহী পর্যটকদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন একটি পাইলট প্রোগ্রাম চালু করবে ওয়াশিংটন। যার অধীনে পর্যটক ও ব্যবসায়িকদের ভিসা দেওয়ার পরেও সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের বন্ড নেওয়া হতে পারে।
জাম্বিয়া ও মালাবির ভ্রমণকারীরা এ নীতির প্রথম নিশানা হবেন বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে।
সোমবার এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানানো হয়েছে। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে অবস্থান করা দর্শনার্থীদের সংখ্যা কমানো।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন ভিসা প্রোগ্রামটি ২০ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে এবং প্রায় এক বছর চলবে। যেসব ভিসা আবেদনকারীর ওপর বন্ড আরোপ হবে, তাদের জন্য কনস্যুলার কর্মকর্তাদের তিনটি বিকল্প থাকবে—৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। তবে সাধারণত অন্তত ১০ হাজার মার্কিন ডলারের বন্ড আরোপের দিকে বেশি নজর দেওয়া হবে।
মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই প্রকল্পের অধীনে মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তারা এমন দেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের ওপর বন্ড আরোপের ক্ষমতা পাবেন, যেসব দেশের ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ থাকার হার বেশি। এছাড়া, যেসব দেশের স্ক্রিনিং ও যাচাই প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায় না সেসব থেকে আসা ব্যক্তিদের ওপরেও এই বন্ড প্রযোজ্য হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা আরও হয়েছে, ভ্রমণকারীরা যদি তাদের ভিসার শর্ত অনুযায়ী দেশ ত্যাগ করেন, তবে এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শেষ দিকে একই রকম পাইলট প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছিল। তবে করোনা মহামারির কারণে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো এখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সীমান্ত সুরক্ষায় বেশি বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে থাকা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে জোর দিয়েছেন ট্রাম্প।
চলতি বছরের জুনে একটি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন ট্রাম্প। এর অধীনে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কারণে ১৯ দেশের নাগরিকরা পুরোপুরি বা আংশিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কারণে কিছু দর্শনার্থী যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকছেন। ২০২৩ সালের মে মাসে ট্রান্সআটলান্টিক বিমানভাড়া কমে করোনার আগের স্তরে নেমে আসে, আর কানাডা ও মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ২০ শতাংশ কমে যায়।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র প্রভাবিত দেশগুলো চিহ্নিত করার মানদণ্ড ব্যাখ্যা করে বলেন, এই তালিকা হালনাগাদ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘যেসব দেশের ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ থাকার হার বেশি, স্ক্রিনিং ও যাচাইয়ের ঘাটতি রয়েছে, বসবাসের শর্ত ছাড়াই বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ আছে, এবং বৈদেশিক নীতি বিবেচনায় আছে—সেসব দেশকে তালিকাভুক্ত করা হবে।’
স্টেট ডিপার্টমেন্ট অনুমান করতে পারেনি কতজন ভিসা আবেদনকারী এই পরিবর্তনের আওতায় পড়তে পারেন। ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত অনেক দেশের ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ থাকার হারও বেশি—এর মধ্যে চাদ, ইরিত্রিয়া, হাইতি, মিয়ানমার ও ইয়েমেন রয়েছে।
মার্কিন ভ্রমণ সংস্থা ইউএস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে ভিসা বন্ড চালু করা হবে। আনুমানিক দুই হাজার আবেদনকারীর ওপর প্রকল্পটি পরীক্ষা করা হবে। এর মধ্যে যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের হার তুলনামূলক কম সেসব দেশের নাগরিকরা এই বন্ডের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগের ২০২৩ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকার অনেক দেশ—যেমন বুরুন্ডি, জিবুতি এবং টোগোতেও ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ থাকার হার বেশি।
এছাড়া, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে পাস হওয়া এক ব্যাপক ব্যয় প্যাকেজে একটি বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে অনুমোদিত যেকোনো নন-ইমিগ্রান্ট ভিসাধারীর জন্য ২৫০ মার্কিন ডলারের “ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি” ধার্য করা হয়েছে। যারা ভিসার শর্ত মেনে চলবেন, তাদের জন্য এই ফি ফেরতযোগ্য হতে পারে। ২৫০ ডলারের এই ফি ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।







