যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য চাইবে ৫ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া হিস্ট্রি
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২:২৭ অপরাহ্ণ

সুরমা নিউজ ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদেশি পর্যটকদের জন্য আরও কঠোর বিধিনিষেধ আনছে সরকার। ভিসা ছাড়াই ৯০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ পাওয়া প্রায় ৪০ দেশের নাগরিকদের গত পাঁচ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া ইতিহাস জমা দিতে হতে পারে—এমনই প্রস্তাব করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)। প্রস্তাবনাটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয়েছে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশসহ মোট প্রায় ৪০টি দেশের নাগরিকদের এই শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব দেশের মানুষ ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্র্যাভেল অথরাইজেশন (ইস্টা) মাধ্যমে ভিসা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ৯০ দিন থাকতে পারেন।
নতুন প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে—গত ৫ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর নাম/হ্যান্ডেল জমা দিতে হবে, গত ৫ বছরের টেলিফোন নম্বর,গত ১০ বছরের ই-মেইল ঠিকানা, এবং পরিবার-সম্পর্কিত অতিরিক্ত তথ্যও ইস্টা ফরমে যুক্ত হতে পারে। তবে ঠিক কোন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া তথ্য চাওয়া হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে সীমান্ত নীতিতে কঠোরতা আরোপ করেন। নতুন ভ্রমণ নীতিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে এবং ডিজিটাল গোপনীয়তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলবে।
ট্রাম্প অবশ্য এ নিয়ে উদ্বেগহীন। বুধবার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন—“আমরা নিরাপত্তা চাই। ভুল ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দিতে চাই না। এর বাইরে আমি কোনো সমস্যা দেখি না।”
ইমিগ্রেশন ল ফার্ম ফ্র্যাগোমেন জানায়, সোশ্যাল মিডিয়া ইতিহাস যাচাই করতে হলে ইস্টা অনুমোদনে বাড়তি সময় লাগবে। ফলে পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে।
ইতিপূর্বেও ট্রাম্প প্রশাসন শিক্ষার্থী ভিসা, এইচ-১বি কর্মী ভিসাসহ বিভিন্ন আবেদন যাচাইয়ের সময় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা চালিয়েছে। মার্কিন দূতাবাস এমনকি সতর্ক করেছে—ভুল বা অসম্পূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া তথ্য ভবিষ্যৎ ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণ হতে পারে।
ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের সোফিয়া কোপ বলেন—“এই নীতি বেসামরিক স্বাধীনতার ওপর গুরুতর হস্তক্ষেপ। ব্যক্তিগত ডিজিটাল জীবনের ওপর এ ধরনের রাষ্ট্রীয় নজরদারি উদ্বেগজনক।”
আগামী বছর মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি ভ্রমণকারীর সংখ্যা বাড়ার কথা। কিন্তু কঠোর নতুন নীতির কারণে পর্যটনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্ব ভ্রমণ ও পর্যটন পরিষদের বিশ্লেষণ বলছে—২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী ব্যয় হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকা একমাত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি ও সীমান্ত কঠোরতার কারণে কানাডিয়ান পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ একটানা ১০ মাস ধরে কমেছে; অথচ তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি দর্শনার্থীর এক-চতুর্থাংশ প্রতিনিধিত্ব করত।
প্রস্তাবিত নীতি এখন ৬০ দিনের জনমত গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। সিবিপি জানিয়েছে—এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়; বরং নতুন নিরাপত্তা বিকল্প নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রথম ধাপ মাত্র।






