সিলেটে জাবুর কেন এনসিপি ছেড়ে দিলেন?
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ আগস্ট ২০২৫, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

ওয়েছ খছরুঃ
সাংবাদিক পরিবারের সন্তান আবুল আহসান জাবুর। শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের বড় ভাই। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠনের সময় তাকে সিলেট জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেয়া হয়। সেই জাবুর বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগ নিয়ে সিলেটে নানা প্রশ্ন। কেন জাবুর পদত্যাগ করলেন- এ নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। তবে জাবুরের ভাষ্য, ‘তার পিতা ও ভাই সাংবাদিক ছিলেন। তারা ছিলেন রাজনীতির বিতর্কের ঊর্ধ্বে। পরিবারের কারণেই তিনি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন।’ জাবুরের পদত্যাগের আগে সিলেটে ঘটে গেছে একটি ঘটনা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির দিন সিলেটে আহত জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। নগরের শাহী ঈদগাহে শিল্পকলা একাডেমিতে এ অনুষ্ঠান চলাকালে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও জুলাইযোদ্ধা সেলিম আহমদের সঙ্গে ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ওইদিন সেলিম আহমদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আবুল আহসান জাবুর।
একপর্যায়ে তিনি নিজের আসন থেকে উঠে গিয়ে জুলাইযোদ্ধা সেলিমকে জোরপূর্বক অনুষ্ঠানস্থল থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। আর এ দৃশ্যটির ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা। তারা এর প্রতিবাদে বিকালেই নগরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ঘটনাকারীদের ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটামও দেন তারা। তবে, ঘটনার পর সিলেটের এনসিপি নেতারা নীরব ছিলেন। তারা পাল্টা কোনো বক্তব্য বা প্রতিবাদ করেননি। এই অবস্থায় পরদিন বুধবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ তার কার্যালয়ে বিবদমান দু’পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে সিলেট বিএনপি ও এনসিপি’র নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ঘটনার জন্য এনসিপি নেতা আবুল আহসান জাবুর ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এতে সন্তুষ্ট হন উপস্থিত থাকা সেলিম আহমদসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলার নেতারাও। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টির সুরাহা হওয়ার পর বেরিয়ে এসে তারা সাংবাদিকদের সামনে ব্রিফিংও করেন।
ওই সময়ও জাবুর ঘটনার জন্য সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। ফলে ৫ই আগস্ট শিল্পকলা একাডেমির ঘটনার নিষ্পত্তি ওখানেই ঘটে। কিন্তু বৈঠকের পরদিন বৃহস্পতিবার আবুল আহসান জাবুর এনসিপি’র সদস্য পদ ও জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি পদত্যাগপত্র এনসিপি’র দলীয় কার্যালয়ে প্রেরণ করে বিষয়টি গণমাধ্যমকেও জানান। তার পদত্যাগ নিয়ে নতুন করে সিলেটে আলোচনা চলছে। পদত্যাগপত্রে জাবুর উল্লেখ করেছেন- ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে ব্যস্ত থাকায় দলের কার্যক্রমে সময় দিতে পারছেন না। তাই স্বপদে বহাল থাকা নতুন রাজনৈতিক দলের বন্দোবস্তের মধ্যে পড়ে না। স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে অব্যাহতি ও পদত্যাগ করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।’ সিলেট জেলা এনসিপি’র প্রধান সমন্বয়ক নাজিম উদ্দিন শাহান শুক্রবার বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, দলের সিলেট জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক আবুল আহসান জাবুর তার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তার ভাই শহীদ হয়েছেন, মা অসুস্থ। এ কারণে দলে সময় দিতে না পারছেন না। এজন্য তিনি পদত্যাগ করেছেন।
৫ই আগস্ট শিল্পকলার ঘটনা ও পরবর্তীতে এনসিপি তার পাশে না দাঁড়ানোর জন্য ক্ষোভের কারণে কি এই পদত্যাগ এ প্রশ্নের জবাবে শাহান বলেন- ওই ঘটনা ভিন্ন। ঘটনার সঙ্গে পদত্যাগের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যক্তিগত কারণে জাবুর পদত্যাগ করেছেন বলে জানান তিনি। তবে এনসিপি সূত্র জানিয়েছে, শিল্পকলা একাডেমির ঘটনা নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা প্রকাশ্যে সিলেটের রাজপথে জাবুরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। এমনকি তারা আল্টিমেটাম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নানাভাবে অপদস্থ করা হয়েছে। কিন্তু এনসিপি’র পক্ষ থেকে ওই সময় তার পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। তার পক্ষে কেউ পাল্টা কর্মসূচি তো দূরের কথা কোনো কথাই বলেননি। এতে করে হতাশ হন জাবুর নিজেই। আর হতাশা ও ক্ষোভ থেকে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলে ওই সূত্র জানিয়েছে। তবে, এ ব্যাপারে পরিষ্কার করে কিছুই বলছেন না সিলেটের শহীদ তুরাবের বড় ভাই আবুল আহসান জাবুর।
মানবজমিনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেছেন, শহীদ সাংবাদিকের ভাই হিসেবে আমাকে এনসিপিতে অনেকটা জোর করেই নেয়া হয়েছে। আমি সাংবাদিক পরিবারের সন্তান হিসেবে রাজনীতির বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে চাই। কিন্তু পরবর্তীতে আমার বিরুদ্ধে মিছিল, নানা অপপ্রচার আমাকে আহত করেছে। এটা আমার পরিবারের সঙ্গে যায় না। তিনি বলেন, ঘটনার দিন আমি শিল্পকলা একাডেমির অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে বসা ছিলাম। সুর, চিৎকার শুনে যাই। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমি ওই সময় সেলিম আহমদকে বের করে দেই। ঘটনাটি ঠিক হয়নি বিধায় পরবর্তীতে দুঃখ প্রকাশ করেছি। কিন্তু আমি চাই না আমাকে ও আমার পরিবারকে নিয়ে কোনোপক্ষ রাজনীতি করুক। এ ছাড়া, মায়ের অসুস্থতার জন্য তাকে সব সময় বিয়ানীবাজারের বাড়িতে বেশি থাকতে হয় বলে জানান জাবুর। সুত্র-মানবজমিন







