জাফলংয়ে ‘বারকি ডুবাও’ অভিযানের ৪ দিন পর ইউএনও বদলি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ আগস্ট ২০২৫, ৮:০০ অপরাহ্ণ

সুরমা নিউজ ডেস্কঃ
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে বালুভর্তি ৩৫টি বারকি নৌকা ডুবিয়ে দিয়ে টাস্কফোর্সের অভিযান করা ইউএন রতন কুমার অধিকারীকে বদলি করা হয়েছে।
গত ৩১ জুলাই বারকি ডুবাও অভিযানের চার দিনের মাথায় তাকে বদলি করা হয়েছে। তবে তার বদলির বিষয়টি সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর থেকে নিশ্চিত করা হলেও কারণ হিসেবে কিছু বলা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউএনও রতন কুমার অধিকারীকে গত ৫ আগস্ট বদলির আদেশ হয়। বদলির আদেশে তার পদায়ন করা নতুন কর্মস্থল মৌলভীবাজার সদর উল্লেখ করা হয়েছে। এতে স্বাক্ষর রয়েছে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী।
বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক বদলি।’
দপ্তরসংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র জানায়, বালু ও পাথরমহাল সুরক্ষায় দায়িত্ব পালনে আন্তরিক না হওয়ায় বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে টাস্কফোর্সের অভিযান প্রত্যক্ষ করার বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তিনি চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি গোয়াইনঘাটে যোগ দিয়েছিলেন। তার স্থলে মো. রাজিব হোসেন নতুন ইউএনও নিযুক্ত হয়েছেন। আগামী রবিবার নাগাদ তার দায়িত্ব গ্রহণের কথা।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারীর নেতৃত্বে টাস্কফোর্সের অভিযানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে পিয়াইন নদের জিরোপয়েন্ট, বল্লাঘাট ও নয়াবস্তি এলাকায় বালুবাহী ৩৫টি বারকি নৌকা ডুবানো হয়। এর আগে গত ২৭ জুলাই খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সরাসরি অভিযানে ৫০টি বারকি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল। টাস্কফোর্সের অভিযানে ‘বারকি ডুবাও কাণ্ড’ নিয়ে গণমাধ্যমে দুটো সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
‘বারকি’ সিলেট অঞ্চলে জলজীবিকার একটি ঐতিহ্যবাহী নৌকা। বালু ও পাথরমহালে হাতে বাওয়া নৌকাটির প্রচলন প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো। স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে, ব্রিটিশ শাসনের গোড়াপত্তনকালে জলপথে চুন পরিবহনে ব্যয়বহুল জাহাজের বিপরীতে হাতে বাওয়া নৌকার প্রচলন হয়। লম্বা আকৃতির এই নৌকাটি জন বারকি নামে ব্রিটিশ নৌ-কারিগর প্রথম তৈরি করেছিলেন বলে নাম পড়ে ‘বারকি’। বর্ষা মৌসুমে একটি বারকি নৌকায় অন্তত চারজন শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহ হয়। সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্ত নদ-নদী ও বালু-পাথরমহালে অন্তত ৫০ হাজার বারকি নৌকা চলাচল করে। গত বছর এমন মৌসুমে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে ধলাই নদে এ রকম একটি অভিযানে বারকি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে গত বছরের ১ জুন গণমাধ্যমে ‘ইউএনওর বারকি ডুবাও কাণ্ডে তোলপাড়’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রকাশ হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশে ১১ জুন তৎকালীন ইউএনও সুনজিত কুমার চন্দকে কোম্পানীগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। অমানবিকতায় ঘটনাটি ‘বারকি ডুবাও-কাণ্ড’ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বারকি শ্রমিকের বিক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদী নানা কর্মসূচি পালন করেছিলেন।
প্রায় এক বছর পর কোম্পানীগঞ্জ পাশের উপজেলা গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ের পিয়াইন নদ অববাহিকায় অভিযানে বারকি-ডুবাও ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
খবরের কাগজ







