লোডশেডিং নিয়ে শঙ্কা সিলেটে
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ জুলাই ২০২৫, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
দুই সপ্তাহ ধরে সিলেটে অসহনীয় গরম। তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি পর্যন্ত গিয়ে উঠে। হাঁসফাঁস অবস্থা। এই অবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পায়নি সিলেটের মানুষ। এক-তৃতীয়াংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে করে সিলেট নগর ও গ্রাম সবখানেই ভোগান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে রাতে লোডশেডিং অসহনীয় যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- গত এক সপ্তাহ ধরে সিলেটের কুমারগাঁও ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বিকল অবস্থায় রয়েছে। সেটি সচল হতে সময় নিচ্ছে। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিড থেকে সিলেটের জন্য বিদ্যুতের বরাদ্দ কম। এ কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিতরণ বিভাগ জানিয়েছে- সিলেটে গরম মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা ৭শ’ মেগাওয়াটের উপরে। সেখানে ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে দেখা যাচ্ছে প্রতিদিনই ২৫ থেকে ৩০ ভাগ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছে সিলেট। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কুমারগাঁও ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র দ্রুত সচল করার তাগিদ তাদের।
সিলেট বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদির জানিয়েছেন- শুষ্ক বা গরম মৌসুমে সবখানেই বিদ্যুতের চাহিদা বেশি। সিলেটে বর্তমানে চাহিদা বেশি। সরবরাহ কম থাকার কারণে লোডশেডিং করতে হয়। তিনি বলেন- চাহিদা মতো বিদ্যুৎ পাওয়া গেলে লোডশেডিং থাকবে না। গতকাল তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকায় লোডশেডিং কম হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে কুমারগাঁও ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নিয়ে সহসাই কোনো সুখবর নেই। চলতি সপ্তাহে সেটি সচল হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানিয়েছেন- প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ে। ট্রান্সফরমারটিতে আগুন ধরে যাওয়ায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে সেটি মেরামত করতে সময় লাগছে। বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ নিয়ে এসে কাজ করতে হয়। এ কারণে সেটির ত্রুটি সারাতে সময় বেশি লাগছে।
কুমারগাঁও ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমান গতকাল বিকালে জানিয়েছেন- বিকল থাকা ট্রান্সফরমার সচল করতে প্রকৌশলী টিমের সদস্যরা কাজ করছেন। দ্রুতই কাজ করা হচ্ছে। তবে সেটি সচল হতে হতে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগবে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেট মহানগরীসহ আশপাশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কুমারগাঁও ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। সেটি এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকায় সরবরাহে চাপ পড়ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন- ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বিকল হওয়ায় তারা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সমস্যায় ভুগছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফেঞ্চুগঞ্জ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। যার কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পল্লী বিদ্যুৎ-১ এর জেনারেল ম্যানেজার আব্দুর রশিদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- পল্লী বিদ্যুৎ-১ এর আওতাধীন এলাকায় প্রতিদিনের চাহিদা ১১৩ মেগাওয়াট। গত কয়েকদিন ধরেই চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এতে করে গ্রাহকরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
এদিকে- সিলেট মহানগরীতে পাঁচটি ডিভিশনে ১৩টি সাবস্টেশন আছে। তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণে বর্তমানে সমস্যা বেশি হচ্ছে। ফিউজ ছিঁড়ে যাওয়া, তার ছিঁড়ে পড়ে যাওয়া বৃদ্ধি পেয়েছে। তার উপর কুমারগাঁওয়ের পাওয়ার স্টেশন বন্ধ। এই পাওয়ার স্টেশনের ট্রান্সফরমার পুড়ে গেছে। এর পর থেকেই সিলেটে লোডশেডিং বেড়ে গেছে এবং ভোল্টেজও কম হচ্ছে। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে না সিলেটে। সিলেটে নগর ও গ্রামে সমানতালে লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা বেশি লোডশেডিং হয়। সিলেট নগরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, মহাজনপট্টি, সুবহানীঘাট সহ কয়েকটি এলাকায় পিকআওয়ারে লোডশেডিং করা হয়। এতে করে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। তারা জেনারেটর চালিয়ে ব্যবসা করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন সিলেট ব্যবসায়ী নেতারা। তারা জানান, ক্রমাগত লোডশেডিং থাকার কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তারা সিলেটের প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।








