সিলেটে শঙ্কায় বিদ্যুতের ৫০ হাজার গ্রাহক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ জুলাই ২০২৫, ৩:৩২ অপরাহ্ণ

ওয়েছ খছরুঃ
সার্ভার জটিলতার কারণে সিলেটের বিদ্যুতের ৫০ হাজার গ্রাহকের শঙ্কা কাটছে না। সেই সঙ্গে চলছে দুর্ভোগও। তীব্র গরমে চারদিকে হাঁসফাঁস। এই অবস্থায় রোববার দুপুর থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা তারা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন। এ নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে সিলেটে। তোপের মুখে বিদ্যুতের কর্মকর্তারাও। বিকালে বিদ্যুৎ চলে আসায় আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও শঙ্কা কাটছে না। সিলেট বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ ২ ও ৫ অঞ্চলে সবার আগে ডিজিটাল প্রিপ্রেইট মিটার চালু করা হয়েছিল। যে মিটারকে সংক্ষেপে ‘এসটিএস মিটার’ বলে। দুই অঞ্চলে গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। ৭-৮ বছর আগে বিদ্যুৎ বিভাগের ম্যানুয়্যালি মিটারকে বাদ দিয়ে ওই মিটারগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। এরপর থেকে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ অফিস থেকে কার্ড কিনে রিচার্চের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছেন। বিদ্যুতের এসটিএস মিটার এখন ব্যাকডেটের। আপডেট মিটার হচ্ছে ‘ইউনিফাইড মিটার’। যে মিটারের মাধ্যমে গ্রাহকরা ঘরে বসে অ্যাপসের মাধ্যমে টাকা রিচার্জ করতে পারেন। নগরের অর্ধেক এলাকায় এখন সেই মিটার বসানো হয়েছে। কিন্তু পুরাতন এসটিএস মিটার বসানো গ্রাহকরা বারবারই পড়ছেন ভোগান্তির মুখে।
রোববার সকাল ১০টা থেকে এসটিএস মিটারে সমস্যা দেখা দেয়। দুপুরের মধ্যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে অন্তত ৫০ হাজার গ্রাহক। সিলেটের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- এসটিএস মিটারের সার্ভার ঢাকায়। সিলেটের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে কেবল রিচার্জ জটিলতার বিষয়টি দেখা দেয়। হঠাৎ করে সার্ভার ডাউন হয়ে যাওয়ার কারণে সবাই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। সিলেটে ক’দিন ধরে তীব্র গরম চলছে। এই অবস্থায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। তারা বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। রাতভর অপেক্ষার পর কোনো সুরাহা না হওয়ায় সকালে নগরের উপ-শহরের এবিসি পয়েন্ট সংলগ্ন অফিসে হাজার হাজার গ্রাহক ভিড় করেন। কেউ কেউ বিক্ষোভ করেন। বিকাল ৩টা পর্যন্ত গ্রাহকরা অপেক্ষা করার পর সার্ভার ঠিক করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
দুপুরে বিদ্যুতের প্রকৌশলী সঞ্জীব শিকদার বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন-সিলেট-২ ও সিলেট-৫ অঞ্চলের অন্তত ৫০ হাজার গ্রাহক রোববার থেকে দুর্ভোগে পড়েন। এতে অনেকেই অফিসে যোগাযোগ করলেও সার্ভার ঢাকায় থাকায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় গ্রাহকদের শান্ত রাখার চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন- এসটিএস মিটারের সার্ভারে নানা সময় জটিলতা দেখা দেয়। এই জটিলতার কারণে বার বারই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এ জন্য এখন এসটিএস মিটারের স্থলে ইউনিফাইড মিটার বসানোর কাজ চলছে। কিন্তু লোকবল সংকট। মাত্র ৭-৮ জন লোক দিয়ে একসঙ্গে একদিনে ৫০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুতের নতুন মিটার প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে না। এ জন্য আমরা সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ করছি। তিনি বলেন- সংকট কাটাতে অনেকেই নিজেদের উদ্যোগে মিটার প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করেছেন। তারা পূর্বের মিটারের যথাযথ প্রমাণ দেখাতে পেরেছেন আমরা তাদের ইউনিফাইড মিটার দিয়ে দিয়েছি।







