কাতারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জমজমাট পাখির ব্যবসা
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ জুলাই ২০১৭, ৪:৩০ পূর্বাহ্ণ
সুরমা নিউজ ডেস্ক: কাতারের অন্যতম পর্যটন স্থান ঐতিহ্যবাহী সুক ওয়াকিফ বাজারের প্রধান আকর্ষণ পাখির বাজার। পাখির কিচিরমিচিরে সবসময় কোলাহলমুখর এই হাটে মিলবে পছন্দের নানা প্রজাতি ও রং-বেরঙের পাখি। পাখির আকর্ষণে এ বাজারে প্রতিদিন ঘুরতে আসেন নানা দেশ থেকে আসা পর্যটকরা। এখানে রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কয়েকটি দোকান।
সুক ওয়াকিফ বাজারে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কয়েকটি দোকানের নাম হলো- টিআর পিজিওন লফট, রনি মৃধা পিজিওন হাউজ, মুন্তজা বার্ড শপ ও এসএস পিজিওন ফার্ম ইত্যাদি।
‘মুন্তজা বার্ড শপ’ এর মালিক বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের মুন্তজা।
তিনি এ বাজারের ব্যাপারে বলেন, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের ক্রেতারা সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই আসেন এ বাজারে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। শীত মৌসুমে কেনাবেচা বেশি হয়। গরমকালে ক্রেতার সংখ্যা স্বাভাবিকভাবে কমে যায়।
আরবিতে এর নাম ‘সুক আল হামাম’। এখানে বিক্রি হয় বাজপাখি, মেকাউ, টিয়া, লাভ বার্ড ও কবুতরসহ দেশ-বিদেশের নানা প্রজাতির পোষাপাখি। বছরজুড়ে প্রতিদিনই নানা বয়সের দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর থাকে এ পাখির বাজার।
বিশেষ করে টিয়াপাখির কদর এখানে অনেক বেশি। ছোট বড় নানা আকারের বিভিন্ন রঙের বিদেশি পাখিগুলো ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে। আরও পাওয়া যায় বিদেশি কুকুর, বেড়াল, ইঁদুর ও খরগোশসহ অন্য অনেক প্রজাতির প্রাণী।
কুমিল্লার মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, কাতারের জাতীয় পাখি হলো ফেলকন বা বাজপাখি। এ পাখি মনিবের প্রতি বিশ্বস্ত বলে কাতারের আমির ও ব্যবসায়ীরা বাজপাখি পুষতে পছন্দ করেন। তাই স্থানীয় বাজারে এ পাখির কদর বেশি।
দীর্ঘদিন ধরে এ বাজারে ব্যবসা করছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। আরব ও ইউরোপের নানা দেশ থেকে তারা পাখি কিনে এনে এখানে বিক্রি করেন ক্রেতাদের কাছে। এ বাজারে আছে সর্বনিম্ন একশ’ রিয়াল থেকে শুরু করে কয়েক হাজার রিয়াল মূল্যের দামি পাখি।
কেবল পশু-পাখি নয়, বরং এখানে পাওয়া যায় রঙিন মাছ, অ্যাকুরিয়াম, পশু-পাখির খাঁচা, পাখির খাবার-দাবার, ওষুধপত্রসহ নানা সামগ্রী। ফলে নতুন পোষাপ্রাণী কিনতে যেমন অনেকে এখানে আসেন, তেমনিভাবে ঘরে থাকা পশু-পাখির জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেও আসেন স্থানীয় নাগরিক, অভিবাসী ও পর্যটকরা।
যুগ যুগ ধরে পশু-পাখি শৌখিন মানুষের পরিবারের সদস্যদের মতোই মর্যাদা ও আদর পেয়ে আসছে। মানুষের সেই শখ ও চাহিদা পূরণে এ বাজারের প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।







