ভেজাল ও নিম্নমানের মসলায় সয়লাব ওসমানীনগরের হাটবাজার
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ মে ২০১৭, ৯:২৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভেজাল ও নিম্নমানের মসলায় সয়লাব সিলেটের ওসমানীনগরের হাট বাজার মেশানো হচ্ছে ইট ও কাঠের গুঁড়াও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে। রমাজান মাসে অসাধু ব্যবসায়ীরা এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মাংস ও ইফতারি রান্নার মূল উপাদান হলো মসলা। এ জন্য বেশ আগেভাগে প্রস্তুতি সেরে রেখেছে ভেজাল মসলা উৎপাদন ও বিক্রয়কারী সিন্ডিকেট। ভেজাল ও নিম্নমানের মসলায় ভরে গেছে থানার হাটবাজার। দোকানে দোকানে পৌঁছে গেছে এসব ভেজাল ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মসলা। এসব মসলার মধ্যে মরিচের সঙ্গে ইটের গুঁড়া, হলুদে মটর ডাল, ধনিয়ায় স মিলের কাঠের গুঁড়া ও পোস্তদানায় সুজি মেশানো হচ্ছে। বেশি মুনাফার লোভে কয়েকটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র বাজারে এসব ভেজাল মসলার জোগান দিচ্ছে। অসাধু দোকানদাররাও বেশি লাভের আশায় এসব ভেজাল মসলা বেশি বিক্রি করছে।
ওসমানীনগরের বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে মসলা বিক্রেতা এবং ভেজাল মসলা কিনে প্রতারিত হওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশেষ করে হাটবাজারের পাশে ফুটপাতে বসে বিক্রি করা খোলা মসলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভেজাল রয়েছে। এই ভেজাল মসলা কিনে মানুষ একদিকে যেমন প্রতারিত হচ্ছে, আবার অন্যদিকে এসব খেয়ে আক্রান্ত হচ্ছে নানা জটিল রোগে। ব্যবসায়ীদের অনেকে জানান, রমাজান মাসে মসলার চাহিদা অনেক বেশি থাকে। এ জন্য ভেজাল ও নিম্নমানের মসলা উৎপাদনকারী চক্রটি বেশ আগে ভাগে দোকানে দোকানে সরবরাহ দিয়েছে এসব ভেজাল মসলা। এরই মধ্যে গোয়ালাবাজার, তাজপুর, বেগমপুর, শেরপুর, বুরুঙ্গা, উমরপুর, দয়ামীরসহ অনেক হাটবাজারগুলো ভরে গেছে ভেজাল মসলায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাজপুর বাজারের কয়েকজন মুদি দোকানদার জানান, থানায় বেশ কয়েকটি ভেজাল মসলা উৎপাদনকারী সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা গোপন কারখানায় ভেজাল মসলা উৎপাদন ও প্যাকেটজাত করে পুরো ওসমানীনগর ও আশপাশ হাটবাজারের মুদির দোকানসহ খোলাবাজারে সরবরাহ করে। থানার হাটবাজার ও গ্রামে গড়ে উঠেছে মসলা তৈরির কারখানা। মেশিনে ভাঙ্গিয়ে খুব সহজেই মসলা তৈরি করে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
ভেজাল মসলা উৎপাদনকারীরা বাজার থেকে নিম্নমানের মরিচ, হলুদ, ধনিয়া, গোলমরিচ, দারুন চিনি, তেজপাতা ও পোস্তদানাসহ বিভিন্ন মসলা কিনে কারখানায় নানা ধরনের ভেজাল উপাদান মিশিয়ে প্যাকেট করে ও খোলা অবস্থায় বাজারজাত করে। ওসমানীনগর গোয়ালাবাজারের একাধিক ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, উৎপাদন কারীরা তিনভাবে বাজারে ভেজাল মসলা সরবারহ করে। কিছু বিক্রি করে প্যাকেট ছাড়া, কিছু বিক্রি করে সাধারণ প্যাকেটে করে আবার কিছু বিক্রি করে নামি-দামি মসলা কম্পানির লেবেল লাগিয়ে। আর এসব ভেজাল মসলা কিনে মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের এ ব্যাপারে কোন নজরদারী নেই।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে এব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।







