ওসমানীনগরের মামুন অপহরণ মামলায় সিলেটে গ্রেফতার
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ মে ২০১৭, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
বিশেষ প্রতিনিধিঃ ওসমানীনগরের উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর পশ্চিমগাঁওয়ের মামুনকে (৩৫) অবশেষে অপহরণ মামলায় গ্রেফতার করেছে সিলেট কতোয়ালী থানা পুলিশ। রোববার সকালে দক্ষিণ সুরমা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সিলেট কোতোয়ালী থানার ওসি গৌছুল হোসেন মামুনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক মামুনকে গতকাল দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ওসমানীনগরের সিকন্দরপুর পশ্চিমগাঁওয়ের মুক্তার খানের পুত্র মামুন খান (বন্দুক মামুন নামে এলাকায় পরিচিত) ও গ্রামের একটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে। ওই বিরোধকে পুঁজি করে মামুন খানের আশ্রয়ে থাকা প্রণধীর সূত্রধর ও তার সহযোগীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা প্রতি রাতেই বন্দুক দিয়ে গুলি ছুঁড়ে এলাকাকে আতংকিত করে তুলছে। চলতি বছরের ১৭ মার্চ রাতে মামুন খান ও প্রণধীরের এক সহযোগীর বাড়িতে সিলেট র্যাব-৯ এর একটি দল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান চালায়। র্যাবের এই অভিযানের জন্য মামুন ও প্রণধীর একই গ্রামের মৃত আব্দুর রবের পুত্র শাকিলকে দায়ি করে। র্যাব চলে যাওয়ার পর মামুন, প্রণধীর ও তাদের সহযোগীরা শাকিলের বসত বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর এবং শাকিলের শিশু কন্যা সহ কয়েক জনকে আহত করে বলে জানা যায়। হামলার ঘটনায় শাকিল বাদি হয়ে মামুন খান সহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে ওসমানীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৪৫/১৭। মামলা দায়েরের পর ক্ষিপ্ত হয়ে চলতি বছরের ৩ এপ্রিল শাকিল আহমদের ভাই শাহান মিয়াকে মামুন, প্রণধীর ও তার সহযোগীরা সিলেট শহরের কীন ব্রীজ এলাকা থেকে জোর পূর্বক গাড়ীতে তুলে অপহরণ করে। অপহরণের পর শাহানের পরিবারের কাছে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফছার উদ্দিনের সহযোগীতায় ৪ এপ্রিল অপহৃত শাহানকে ঢাকার ফকিরাপুল এলাকা থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় অপহৃতার ভাই শাকিল বাদি হয়ে মামুন, প্রণধীর সহ তাদের ১০ সহযোগীকে অভিযুক্ত করে ২৫ এপ্রিল সিলেট চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-সিআর-৫৬৬/১৭। আদালতের নির্দেশ এই মামলাটি সিলেট কতোয়ালী থানার পুলিশ ২ মে এফআইআর ভুক্ত করে। অপহরণের ঘটনার মূল হোতা মামুনকে রবিবার আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করেছে সিলেট কতোয়ালী থানার পুলিশ।
উল্লেখ্য,মামুন ও প্রণধীরের বিরুদ্ধে ওসমানীনগর থানা সহ সিলেট আদালতেও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।








