রুপা হক ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাঙ্গালীর আশা জাগানিয়া স্বপ্নের সোপান
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ এপ্রিল ২০১৭, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
লন্ডন অফিসঃ আগামী ৮ জুন ব্রিটেনের পার্লামেন্ট নির্বাচন। মধ্যবর্তী এ নির্বাচনে কিন্তু এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে তোড়জোড়। প্রধান দুই পার্টি লেবার ও ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ এবং মধ্যপন্থী লিবডেম তাদের প্রার্থী মনোনয়ন করবে শীগ্রই। ব্রিটেনের পার্লামেন্টের প্রার্থী মনোনয়ন পেতে অনেক কাট-খড় পোড়াতে হয়। রুপা হক যে দল থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন তা নিশ্চিত।
ব্রিটেনে প্রার্থীদের তাদের প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীকে যেমন তৃনমূলের পার্টির সক্রিয় কর্মীর, ক্যাম্পেইনার, লিফলেট বিতরণ, ডোড় টু ডোর ক্যাম্পেইন, টেলিফোন ক্যাম্পেইন ইত্যাদি নানান কর্মসূচীর সাথে বছরের পর বছর সক্রিয় থাকার প্রমাণ ও তথ্য, যাচাই,বাছাই, সরেজমিনে থাকার প্রমাণ থাকা চাই, তেমনি পার্টির ইলেক্টোরাল ভোটারদের ভোট ছাড়াও পার্টির সিলেকশন বোর্ডের কাছে নানান পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। একজন প্রার্থীর বহুমুখী প্রতিভার ও ক্যালিবারের যোগ্যতা যথাযথভাবে যাচাই এবং ব্রিটেনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পলিটিক্স, ফরেন পলিসি, ইত্যাদি নিয়ে জ্ঞানের পরীক্ষায় যখন উত্তীর্ণ হন কেবলই তিনি মনোনয়নের চূড়ান্ত টিকেট লাভ করতে পারেন। এখানে প্রার্থী মনোনয়নের জন্য টাকার আর পেশী শক্তির কোন খেলার স্থান নেই।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে রোশনারার সাথে গত নির্বাচনে রুপা ও টিউলিপ সিদ্দিক নাম লিখিয়েছিলেন এবং বেশ সুনামের সাথেই তারা তিনজন কাজ করেছেন। এই তিন বাঙালি নারী, যারা ব্রিটিশ-বাংলাদেশী অথচ মূলধারার রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
রূপা – পুরো নাম রূপা আশা হক, পেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সোসিওলজির শিক্ষক। শিক্ষকতা করছেন লন্ডনের কিংস্টন ইউনিভার্সিটিতে একজন সিনিয়র লেকচারার হিসেবে। এর আগে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেছেন।পিএইচডি করেছেন কালচারাল স্টাডিজের উপর। এরপর ২০১৫ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে।
রুপা নিয়মিত গার্ডিয়ান, দ্য স্টেটসম্যান, ট্রাইবুন, সহ নানা পত্রিকা ও জার্নালে কলাম লিখে থাকেন। তার বিখ্যাত বই বিয়ন্ড কালচার ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয়, যা ২০০৭ সালে ফিলিপস আব্রাহাম মেমোরিয়াল প্রাইজের জন্য শর্ট লিষ্টেড নির্বাচিত হয়।
রুপা হক ২০০৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে কনজারভেটিভের সেইফ সিট বাকিংহাম শায়ারের চিজহাম-আমেরশাম সিটে শেরিল গিলানের সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করে হেরে যান। ২০১০ সালে তিনি লন্ডন বারা অব ইলিং এর ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন।
আগামী ৮ জুনের সাধারণ নির্বাচনে ইলিং সেন্ট্রাল ও একটন সংসদীয় আসন থেকে লেবার দলের পক্ষে পার্লামেন্টে প্রতিদ্বব্ধিতা করার জন্য পার্টির মনোনয়ন চাইবেন। টানা ২য় বার নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন রুপা তা অনেকটা নিশ্চিত। কেননা এই আসন লেবারের জন্য অনেকটা নিশ্চিত আসন, ভোটার লেবারের পক্ষে। দিন রাত তিনি ক্যাম্পেইন করে চলেছেন।তিনি আশাবাদী তার জয়ের ব্যাপারে। রুপা হক সহ তারা তিন বোন। সকলেই কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তার বড় বোন নোরা হক একজন আর্কিট্যাক্ট। ছোট বোন কনি হক বিখ্যাত বিবিসি প্রোগ্রাম ব্লু পিটারের একজন জনপ্রিয় এংকর।
রুপার মা বাবা ১৯৬০ সালের দিকে পাবনা থেকে এসে ব্রিটেনে এসে বসবাস শুরু করেন। তার বাবা মোহাম্মেদ হক ব্রিটেনে আসার পর ইষ্ট লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেন। একসময় সহোতে তিনি রেস্টুরেন্ট ব্যবসাও খুলেছিলেন।
বলা যায় রুশনারা ও টিউলিপের সাথে আবারো ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যাচ্ছেন এই বাংলাদেশী।








