প্রবাসী বিএনপির কাণ্ডারি মুকিব : তপ্ত মরুর বুকে চাষাবাদ করছেন সবুজ ধানের শীষ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ জুলাই ২০১৭, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
আলম হোসেন: আহমদ আলী মুকিব। সৌদি আরব বিএনপির সভাপতি। একইসঙ্গে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ। ২৪ ঘণ্টাই ডুবে থাকেন দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। তপ্ত মরুর বুকে তিনিই চাষাবাদ করছেন সবুজ ধানের শীষ। উড়াচ্ছেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের পতাকা। সাংগঠনিক কাজে চষে বেড়াচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যে থেকে ইউরোপে। পাড়ি দিচ্ছেন হাজার মাইল। অংশ নিচ্ছেন হাসিনাবিরোধী বিক্ষোভে কিংবা দলীয় কর্মসূচিতে। যখনই দেশে দলের কোন নেতাকর্মী হত্যা-গুমের শিকার হন সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে দেন মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপে। সামনে থেকে দেন নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে সৌদি আরব, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে গড়ে তুলেছেন বিএনপির শক্ত ভিত। প্রবাসের ভোটারবিহীন সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়তেও রাখছেন জোরালো ভূমিকা।
বিএনপির নিবেদতি প্রাণ এই বিএনপি নেতার বাড়ি হবিগঞ্জের হাওরবেষ্টিত আজমিরীগঞ্জের উপজেলার শিবপাশা গ্রামে। পিতা আলহাজ হাফেজ আবদুশ শহীদও ছিলেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারী। আশির দশকেই আজমিরীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন আহমদ আলী মুকিব। নব্বই দশকের গোড়ার দিকে সৌদি আরব পাড়ি দেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি জড়িয়ে পড়েন সৌদি আরব শাখা বিএনপির রাজনীতিতে। ‘৯৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় দুর্গত মানুষের জন্য তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের ত্রাণ তহবিল সংগ্রহে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। ফলে ৯৮ সালে সৌদি আরব শাখা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যান দলের জন্য। ওয়ান-ইলেভেনের দুঃসময়ে তাকে প্রবাসে আন্দোলন গড়ে তোলার দায়িত্ব দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ২০০৯ সালে পান পদোন্নতি। নির্বাচিত হন সৌদি আরব শাখা বিএনপির সভাপতি। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ বিএনপির শাখা শক্তিশালী ভিত গঠনে মনোনিবেশ করেন। বিগত ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে প্রবাসে জনমত গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। গুম-খুন, মামলা-হামলাসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের প্রতিবাদে সোচ্চার আন্দোলন গড়ে তুলে তুলেন ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যে। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সঙ্গে বিএনপির কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরিতে নেপথ্যে ভূমিকা রাখেন। এছাড়া সরকারের প্রতিটি অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে প্রবাসে জোরালো কর্মসূচি পালনে ভূমিকা রাখেন তিনি। চষে বেড়ান মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ। নিবিড় যোগাযোগ রাখেন প্রবাসী শাখা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে। তার তত্ত্বাবধায়নে গঠিত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, লেবানন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন শাখা বিএনপির কমিটি। শিগগিরই ঘোষণা করা হবে কুয়েত, জর্ডান ও ওমান শাখা বিএনপির কমিটি। তবে শুধু বিদেশ-বিভুই নয়, নিজ জেলা হবিগঞ্জের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও রয়েছে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। দুর্যোগ-দুর্বিপাকে ঢাল হয়ে দাঁড়ান নেতাকর্মীদের পাশে। দেন সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা। হবিগঞ্জ ও আজমিরীগঞ্জের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তবে স্বাধীনতার পর থেকেই অবহেলিত তার জন্মস্থান আজমিরীগঞ্জ। হাওরবেষ্টিত ওই এলাকাটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়নি জেলা সদরের সঙ্গে। আশির দশকের পর হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনটি উদ্ধার করতে পারেনি বিএনপি। প্রতিবারই নৌকার প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হন। তাই উন্নয়নবঞ্চিত এলাকাটির পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এলাকার সাধারণ মানুষও তার সান্নিধ্য পেয়ে আপ্লুত। আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের সাধারণ মানুষ। তিনিও সায় দিয়েছেন। এ বিষয়ে আহমদ আলী মুকিব বলেন, বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ উপজেলা দুটি হাওরবেষ্টিত হওয়ায় এলাকাটি খুবই অবহেলিত। আশির দশকের পর সেখানে উন্নয়ন হয়নি। তাই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষিত ভিশন-২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এলাকার উন্নয়নে কাজ করছি। দলের চেয়ারপারসন যদি আমাকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেন তাহলে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।








