স্বস্তিতে সিলেটী মেয়ে রুশনারা, চ্যালেঞ্জে টিউলিপ-রূপা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ এপ্রিল ২০১৭, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
লন্ডন অফিসঃ হুট করে মধ্যবর্তী নির্বাচন বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নবাগত দুই এমপি রূপা হক ও টিউলিপ সিদ্দিককে। একদিকে তাদের আসনগুলো তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, অন্যদিকে এমপি হিসেবে নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে যোগ্যতা প্রমাণে সময় পেয়েছেন মাত্র দুই বছর। আবার ৮ জুন এর নির্বাচনে আসন দুটি দখলে নেয়া ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের অন্যতম লক্ষ্য। সবমিলিয়ে বাঙালি এই দুই এমপির জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচন বড় রকমের চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
এর বিপরীতে আরেক এমপি রুশনারা আলী তুলনামূলক স্বস্তিতে আছেন বলা চলে। ২০১০ সাল থেকে তিনি এমপি। ২০১৫ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি দ্বিতীয় দফা এমপি নির্বাচিত হন। তাঁর নির্বাচনী এলাকা লেবার দলের ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত। কাজেই আসন হারানোর মত ঝুঁকি রুশনারার নেই।
রুশনারা আলী পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনের এমপি। রূপা হক পশ্চিম লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড একটন আসনের এমপি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনের হ্যামস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনের এমপি। এরা তিনজনই লেবার দলীয় রাজনীতিক।
এদিকে, ৮ জুন অনুষ্ঠেয় যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লেবার দলীয় এমপি রূপা হকের আসনে প্রার্থী না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে পরিবেশবাদী দল গ্রিন পার্টি।
প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র টোরি (কনজারভেটিভ পার্টির আরেক নাম) পার্টিকে ক্ষমতা থেকে নামাতে এমন কৌশল নিয়েছে প্রগতিশীল দলটি। আসন্ন নির্বাচনে এটি প্রথম কোনো কৌশলগত প্রার্থীতা ছাড়ের ঘটনা।
পশ্চিম লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড একটন আসনের গ্রিন পার্টির সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) এমন সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে রূপা হক মাত্র ২৭৪ ভোটের ব্যবধানে কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী এঞ্জি ব্রে কে পরাজিত করে প্রথমবারের মত এমপি নির্বাচিত হন। আসনটি এবার দখলে নিতে মরিয়া ক্ষমতাসীনরা। গত নির্বাচনে আসনটিতে গ্রিন পার্টির প্রাপ্ত ভোট ছিল ১৮শ ৪১। দলটি রূপা হককে সমর্থন দেয়ায় ক্ষমতাসীনদের লক্ষ্য পূরণ সহজ হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
টিউলিপের আসনটিও তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। লন্ডনের হ্যামস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে মাত্র ১১শ ৩৮ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন টিউলিপ। আসনটি বরাবরই কনজারভেটিভ দলের ‘টার্গেট সিট’। রূপা এবং টিউলিপ মাত্র দু বছরের মাথায় আসন ধরে রাখার যে চ্যালেঞ্জে পড়েছেন, রূশনারার ক্ষেত্রে চ্যলেঞ্জ ততটা নয়। রূশনারা ২০১০ সাল থেকে বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনের এমপি। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এই আসনে তিনি গত নির্বাচনে ২৪ হাজার ৩১৭ ভোট বেশি পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। লেবার দলের নিরাপদ আসন হিসেবে বিবেচিত এ আসনে রূশনারার জয় অনেকটা সহজ বলে ধরে নেয়া হচ্ছে।
ক্ষমতাসীনরা এই নির্বাচনকে ব্রেক্সিট (ইউরোপিয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ) বাস্তবায়নের নির্বাচন হিসেবে প্রচার করছে। বিপরীতে বিরোধী দলগুলো ইইউ’র সাথে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার বিপক্ষে। ব্রেক্সিটের চাইতেও তারা শিক্ষা, আবাসন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় ক্ষমতাসীনদের ব্যর্থতা ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর ওপর জোর দিচ্ছে।
টোরি দলকে ঠেকাতে প্রগতিশীল দলগুলোকে জোটবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছে গ্রিন পার্টি এবং স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (এসএনপি)। কিন্তু লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন জোটের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড একটনের মত অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতেও কৌশলগত ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।







