ব্রিটেনে আরও কমছে বেনিফিট : ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশী কমিউনিটির লক্ষাধিক শিশু
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ এপ্রিল ২০১৭, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
লন্ডন অফিসঃ চলতি সপ্তাহ থেকে আরও কমছে বেনিফিট। দুই পরিবারের দুই সন্তান পর্যন্ত সীমিত করা হয়েছে চাইলড ট্যাক্স ক্রেডিট, বাতিল হচ্ছে ফ্যামিলি এলিমেন্ট বেনিফিট, প্রতিবন্ধী ভাতা সপ্তাহে ৩০ পাউন্ড করে কর্তন করা হয়েছে। আর ১৮ থেকে ২১ বছর বয়সী যারা হাউজিং বেনিফিট পেতেন, তাদের হাউজিং বেনিফিট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরিবর্তন আসছে বিধবা ভাতার ক্ষেত্রেও। কাল ৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার থেকে মোট ৬ ধরণের বেনিফিটে কর্তন কার্যকর হচ্ছে। এসব বেনিফিট কর্তণের ঘোষণা বেশ আগেই দিয়েছিল সরকার।
ফলে বাংলাদেশী পরিবারগুলো অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দুইয়ের অধিক সন্তানের পরিবার নিয়ে অনেকেই আগামীতে সংকটের মুখোমুখি হবেন।
এসব বেনিফিটের মধ্যে সবচেয়ে মারত“ক হলো চাইলড ট্যাক্স ক্রেডিডে কর্তন। সরকার বলছে, সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য চাইলড ট্যাক্স ক্রেডিট দাবি করা যাবে। তিন বা ততোধিক সন্তান হলে তাদের জন্য এ বেনিফিট দাবি করা যাবে না। চাই? ট্যাক্স ক্রেডিটে এমন পরিবর্তনের ফলে খুব দ্রুত দুই লাখ শিশু দারিদ্র সীমায় পতিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। আর কোনো কোনো সংবাদ মাধ্যম বলছে ২০২০ সালের মধ্যে এই বেনিফিট কর্তনের শিকার হবে অন্তত ৫ লাখ শিশু।
কর্মজীবী বাবা-মা প্রতি সন্তানের জন্য বছরে ২ হাজার ৭৮০ পাউন্ড পর্যন্ত চাইলড ট্যাক্স ক্রেডিড দাবি করতে পারতেন। ৬ এপ্রিলের পর কোনো পরিবারের প্রথম দুই সন্তানের এ বেনিফিট দাবি করা যাবে। তৃতীয় বা এর পরের সন্তানের জন্য এ বেনিফিট দাবি করা যাবে না। ৬ এপ্রিল এবং তারপর জন্ম হওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। যেসব পরিবার দুইয়ের অধিক সন্তানের জন্য বর্তমানে চাইলড ট্যাক্স ক্রেডিড পাচ্ছে তাদের বেনিফিট অব্যাহত থাকবে। একইসাথে ৬ এপ্রিলের আগে জন্ম হওয়া সকল সন্তানের জন্য বেনিফিট অব্যাহত থাকবে। তবে ২০১৮ সালের অটামের পর যদি কোনো পরিবার চাইলড ট্যাক্স বেনিফিট করে সেক্ষেত্রে তৃতীয় বা তার পরের সন্তানগুলো ৬ এপ্রিল ২০১৭ এর আগে জন্ম নিলেও তাদের জন্য বেনিফিট দাবি করা যাবে না। ২০২০ সাল নাগাদ সরকার চাইলড ট্যাক্স বেনিফিটে বছরে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড কর্তন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
চাইলড ট্যাক্স ক্রেডিডে কর্তনের ফলে বছরে ১৭ হাজার পাউন্ড আয় করা একটি পরিবার বছরে ৬১০ পাউন্ডের ক্ষতির শিকার হবে। আর সরকার যে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করেছে তাতে লাভ হবে মাত্র বছরে ৮০ পাউন্ড।
ফ্যামিলি এলিমেন্ট
এতদিন আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় চাইলড ট্যাক্স ক্রেডিটের অতিরিক্ত হিসেবে পরিবারগুলো একটি বেনিফিট পেত। এটাকে বলা হয় ফ্যামিলি এলিমেন্ট। যার পরিমান ছিল পরিবারপতি বছরে প্রায় ৫৪৫ পাউন্ড। ৬ এপ্রিল থেকে এ বেনিফিট দাবি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ৬ এপ্রিলর আগে জন্ম নেয়া শিশুদের জন্য যারা চাইরড ট্যাক্স ক্রেডিড পাচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে কেবল বেনিফিট অব্যাহত থাকবে। ২০২০ সাল নাগাদ সরকার এ খাত থেকে বছরে ৫৪০ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২০ পর্যন্ত ৯ লাখ ৭০ হাজার পরিবার এ কর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে আশঙ্কা।
প্রতিবন্ধী ভাতা
যারা ডিসএবিলিটি বেনিফিট এমৗয়মেন্ট অ্যান্ড সার্পোট অ্যালাউন্স দাবি করেন, তারা এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে ২৯ পাউন্ড ৫ পয়সা করে কম পাবেন। অর্থাত ১০২ পাউন্ড ১৫ পয়সার বদলে পাবেন ৭৩ পাউন্ড ১০ পয়সা করে। যা জব সিকার অ্যালাউন্সের সমান। এ বেনিফিট কর্তনের ফলে দীর্ঘ মেয়াদে প্রায় ৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে ধারণা। ২০২০ সাল নাগাদ সরকার এ বেনিফিটে বছরে ৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ বাচাতে চায়।
৩ এপিল থেকে যারা এ বেনিফিট দাবি করছেন তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। যারা আগে থেকে এ বেনিফিট পাচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হবে না।
হাউজিং বেনিফিট
১৮ থেকে ২১ বছর বয়সীদের হাউজিং বেনিফিট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে যারা আগে থেকে এ বেনিফিট পেয়ে আসছেন তাদের ক্ষেত্রে কোনো পবির্তন ঘটবে না। একইসাথে ইয়াং বয়সীদের যাদের সন্তান আছে, অ্যাপ্রেনটিস হিসেবে কর্মরত বা সপ্তাহে অন্তত ৮৯ দশমিক ৬০ পাউন্ড আয় করে তাদের ক্ষেত্রেও হাউজিং বেনিফিট অব্যাহত থাকবে। তরুণদের বেনিফিট নির্ভর জীবন যাপনে অভ্যস্থ হওয়া ঠেকাতে সরকার এ নিয়ম এনেছে। ১১ হাজার তরুণ এ বেনিফিট কর্তনের শিকার হবে বলে ধারণা। ২০২০ সাল নাগাদ সরকার বছরে এ বেনিফিটের খরচ ১০৫ মিলিয়ন সাশ্রয় করতে চায়।
বিধবা ভাতা
স্বামী বা স্ত্রী মারা যাওয়ার পর যে বিধবা ভাতা দেয়া হয় সে বেনিফিটেও পরিবর্তন আসছে। বর্তমান নিয়মে তিন ধরনের বিধবা ভাতা দেয়া হয়। নতুন নিয়মে এগুলোকে একীভূত বিরিভম্যান্ট সাপোর্ট পেমেন্ট নামে কেবল একটি বেনিফিট দেয়া হবে। যার পরিমান এককালীন ৩ হাজার ৫০০। সেইসঙ্গে মাসে ৩৫০ পাউন্ড করে ১৮ মাস পর্যন্ত। যাদের শিশু রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এককালীন ২৫০০ পাউন্ড এবং ১০০ পাউন্ড করে পরিবারের বাকী সদস্যদের জন্য। যাদের স্বামী বা স্ত্রী ৬ এপ্রিল ২০১৭ সালের পর মারা যাবে তাদের ক্ষেত্রে এ নিয়ম কার্যকর হবে। এ বেনিফিট পেতে হলে বেঁচে থাকা পার্টনারকে রাষ্ট্রীয় পেনশন ভোগের বয়সী হতে হবে। মারা যাওয়া পার্টনার তাঁর চাকরি জীবনে অবশ্যই পর্যাপ্ত ন্যাশনাল ইন্সুরেন্স প্রদান করতে হবে।
শুধু নতুন করে বেনিফিট কর্তন নয়; যেসব বেনিফিট চালু রয়েছে সেগুলোতে প্রতি বছর ক্ষতির শিকার হবেন বেনিফিট গ্রহীতারা। কেননা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সরকার চার বছরের জন্য বেনিফিট রেইট ফ্রিজ ঘোষণা করে। অথ্যাত মূল্যস্ফীতির সাথে তাল মিলিয়ে বছর বছর বেনিফিটের পরিমান বৃদ্ধি আর কার্যকর হচ্ছে না। ফলে যতই দিন যাচ্ছে প্রাপ্ত বেনিফিট দিয়ে মানুষ কম জিনিস কিনতে পারছে। বেনিফিট ব্রিজ করার মাধ্যমে সরকার বছরে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে।







