সিলেটে ভোটের মাঠে লড়াইয়ে চার উপদেষ্টা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩০ অপরাহ্ণ

ওয়েছ খছরু:
তাদের ঘিরে নানা জল্পনা। ভোটের লড়াইয়ে আলোচনায় তারা। চারজনই সিলেট বিএনপি’র অভিভাবক, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও। এরা হলেন- তাহসিনা রুশদীর লুনা, ড. এনামুল হক চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সব স্পটলাইন এখন তাদের দিকে। দলের নেতাকর্মীদের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা শতভাগ। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের ঘিরে বিতর্ক কম। নির্ভরতার জায়গাও তারা। নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী বেগম তাহসিনা রুশদীর লুনা। ২০১২ সালের ১৭ই এপ্রিল ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর তাকে ঘিরেই স্বপ্ন বুনেন নেতাকর্মীরা। বলতে হয়নি বিশ্বনাথ, ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জের মাঠে তাকে নামতেই হয়েছে। স্বামীর অবর্তমানে ধরতে হয়েছে দলের হালও। একদিকে স্বামীর সন্ধান, অন্যদিকে নিজ এলাকায় নেতাকর্মীদের আগলে রাখার মতো দুরূহ কাজ তাকে করতে হয়েছে। ছাড়তে হয়েছে নিজের চাকরি জীবনও। তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। কোনো কিছুই অনুকূলে নয়। এই অবস্থায় তাকে বার বারই পড়তে হয়েছে চ্যালেঞ্জের মুখে। সব কিছু থেকে উতরে গেছেন লুনা। এখন ইলিয়াসের পরিবর্তে তিনিই হচ্ছেন সিলেট-২ আসনের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ছাড়াও বিরোধী বলয়েও তার রয়েছে গ্রহণযোগ্যতা। ফলে এবারের ভোটের মাঠে লুনাকেই ভাবা হচ্ছে অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। মনোনয়ন দিলেই পাস- এমন পরিস্থিতি এখন এ আসনে। লুনা নয়, মানুষ ভোট দেবে ইলিয়াসকেই। আবেগের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থীরাও সাজাতে পারছেন না ভোটের মাঠ। বাদ সাধছে মানুষই। ড. এনামুল হক চৌধুরী চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা। সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি তিনি। অতীত খুবই উজ্জ্বল। বিএনপি’র মধ্যপ্রাচ্য উইংয়ের শক্তিশালী মাধ্যম তিনি। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত নেতা। দলের কাছে কিছুই চাননি। কঠিন সময়ে দলের জন্য কাজ করে গেছেন। সিলেট বিএনপি’র ঘরোয়া রাজনীতি থেকে দূরে অবস্থান তার। সর্বশেষ তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সফর সঙ্গী হয়ে লন্ডনে গেছেন। ফলে তাকে নিয়ে সিলেট-৬ আসনের ভোটাররা স্বপ্ন দেখছেন। বেশিদিন হয়নি ভোটের মাঠে নেমেছেন। এরই মধ্যে তিনি ফেলেছেন সাড়াও। সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তাকে নিয়ে ভাবছেন এলাকার সচেতন ভোটাররা। ইতিমধ্যে ভিন্ন আঙ্গিকে প্রচারণা শুরু করেছেন তিনি। শিক্ষার্থী, নারী ও সংখ্যালঘু ভোটার সহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। শিক্ষিত সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। সিলেট-১ হচ্ছে মর্যাদাপূর্ণ আসন।
মিথ আছে; সিলেট-১ আসনে যে দল জয়লাভ করে সেই দল সরকার গঠন করে। এ আসনে ২০১৮ সালে বিএনপি’র প্রার্থী ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বনেদি পরিবারের সন্তান। তার পিতা খন্দকার আব্দুল মালিক ছিলেন এ আসনের এমপি। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে হাঁটছেন তিনি। এক হাতে চালাচ্ছেন সিলেট বিএনপিকে। ভোটের মাঠে রয়েছে গ্রহণযোগ্যতা। দলের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি পৌঁছে গেছেন। দীর্ঘ এক যুগ ধরে মাঠে থাকায় সবার সঙ্গে সংখ্য বেড়েছে। ফলে সিলেট-১ আসনে খন্দকার মুক্তাদির অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়ে উঠছেন। গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি সিলেটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট বিএনপি’র কাছে ভোটের ম্যাজিক ম্যান। কথায় আছে আরিফ যেদিকে ভোট সেদিকে যায়। সামনে সব দরোজা খোলা তার জন্য। প্রস্তুত তিনিও। এমপি হতে চাইলে সুযোগ আছে আবার মেয়র হওয়ারও সুযোগ আছে। দু’টিই তার নিয়ন্ত্রণে এখন। দলও তাকে নিয়ে কঠিন হিসাব কষছে।
নগর কী ছাড়বেন আরিফ- এ প্রশ্ন সবার। সিলেটের মানুষের কাছে প্রিয়জন তিনি। সিলেট-৪ আসন তার জন্য উন্মুক্ত। সেখানে যাবেন কি না- গভীর চিন্তায় মগ্ন। চাইছেন সিলেট-১ আসন। এ আসনেও তার শক্তিশালী ভোট ব্যাংক রয়েছে। কী করবেন আরিফ- সেটিই এখন দেখার বিষয়। বরাবরই তিনি রাজনীতিতে রহস্যময় হয়ে ওঠেন। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। যেমনটি ঘটেছিলো ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে। আরিফ ট্রাম্পকার্ডে জয় হয় বিএনপি’র। ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনেও একই ঘটনা ঘটে। দলীয় প্রতীকে বাজিমাত করেন আরিফ। ২০২৩ সালে এসে দলের বাধ্যবাধকতা মেনে নিজ থেকেই ছাড়েন সিটি করপোরেশনের ভোটের মাঠ। এবার সুযোগ বিস্তর। কোনটি কাজে লাগাবেন বা কাজে লাগানো উচিত- সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে আরিফের হিসাব ভিন্ন। সিলেটের উন্নয়ন। যে উন্নয়নের জন্য তিনি মুখিয়ে আছেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কীভাবে কাজে লাগাবেন নিজেকে সেটি নিয়ে তাকে ভাবতে হচ্ছে। সিলেট বিএনপি’র নেতারা জানিয়েছেন- স্থায়ী কমিটি, সহ-সভাপতি, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক পর্যায়ে কেউ নেই সিলেটের। নেতাশূন্য অবস্থা। ফলে চার উপদেষ্টাকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখছেন সিলেট বিএনপি’র নেতাকর্মীরা।







