সিলেটে পরিবহন সেক্টরকে শৃঙ্খলা ফেরাতে উদ্যোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
আসাম প্যাটার্নের অনিন্দ সুন্দর সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। টার্মিনালের ভেতরে থাকে বাস। এবড়োখেবড়োভাবে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকে। পারাইরচকে রয়েছে কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল। সেখানে ট্রাক থাকে না। নগরের প্রবেশমুখ কদমতলী, হুমায়ূন রশীদ চত্বর যেন অস্থায়ী ট্রাক টার্মিনাল। সার্কিট হাউসের সামনে। সুরমার তীরের সুন্দর পরিবেশ। সেখানেও গড়ে তোলা হয়েছে অস্থায়ী ট্রাক টার্মিনাল। নগর জুড়ে রয়েছে সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড। কোথাও কোনো শৃঙ্খলা নেই। যে যার মতো স্ট্যান্ড বসিয়ে পরিবহন খাতকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। শৃঙ্খলা না থাকায় নগর জুড়ে বেড়েছে যানজট। কোনো পরিবেশও নেই। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম এসব দেখে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে নজর দিয়েছেন। গতকালই তিনি নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। দুপুরে তিনি নিজেই পরিদর্শনে যান কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা। পরিদর্শনকালে গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন। কথা বলেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গেও। তবে নান্দনিক টার্মিনাল থাকা সত্ত্বেও বাইরে কেন এত গাড়ি। এ নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাইরে গাড়ি থাকার কারণে কদমতলী থেকে কিনব্রিজের দক্ষিণ মোড় পর্যন্ত অন্য কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারে না।
পরিবহন নেতারা জানালেন; গাড়ি বেড়েছে। এ কারণে বাইরে রাখা হচ্ছে। আর ভেতরে দোকানপাট। জায়গাও নেই। তাদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে টার্মিনালের ভেতরে থাকা কয়েকটি অস্থায়ী দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। কয়েকটি দোকান রয়ে গেছে। ওই দোকানগুলোও সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক যখন টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখছিলেন তখন সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে চলছিল অবৈধ সিএনজি অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান। গোটা কোর্ট পয়েন্ট, সিটি পয়েন্ট যেন সিএনজি স্ট্যান্ড। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শত শত সিএনজি অটোরিকশা সড়ক দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে। কোর্ট পয়েন্ট, মধুবন মার্কেটের সম্মুখ, কুদরতউল্লাহ মার্কেট, পুলিশ ফাঁড়ি, সিটি পয়েন্ট সবখানেই সিএনজি স্ট্যান্ড। এসব স্ট্যান্ডে থাকা সিএনজি অটোরিকশার কাগজপত্র চেক করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সেখানে ছিলেন জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা।
তারা টানা কয়েক ঘণ্টা যানবাহনের কাগজপত্র তল্লাশি করেন। এ সময় ওই এলাকায় সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা কমে আসে। যানবাহনের কাগজপত্র তল্লাশির সময় অভিযানের কর্মকর্তারা মিডিয়ার সামনে কথা বলেননি। জানান- জেলা প্রশাসক মহোদয় এ সম্পর্কে মিডিয়ায় কথা বলবেন। ক’দিন আগে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় নগর জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গড়ে তোলা অবৈধ স্ট্যান্ড নিয়ে কথা বলেছেন প্রশাসন সহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা কীভাবে চলে সেটি নিয়েও তারা কথা বলেন। সভায় আলোচনাক্রমে নগরের শৃঙ্খলা ফেরাতে জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে পরিবহন সেক্টরের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি সিএনজি অটোরিকশার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি নগরে অবৈধভাবে চলাচল করা সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে এসব অটোরিকশা নগর থেকে না সরালে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সিলেট জেলা ও নগর মিলে বৈধ অটোরিকশা আছে ১৯ হাজার ২০০। ২০১৪ সাল পর্যন্ত এসব বৈধ অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়। এরপর থেকে যেসব অটোরিকশা সিলেটের সড়কে চলাচল করছে সেগুলো সবই অবৈধ।
এর সংখ্যা বৈধের চেয়ে দ্বিগুণ হবে বলে পরিবহন সেক্টরের কর্মকর্তারাই জানিয়েছেন। এই অবৈধ অটোরিকশার কারণে নগর জুড়ে যানজট। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন- নগরে বৈধ অটোরিকশার জন্য পার্কিংয়ের নির্ধারিত স্থান নির্ধারণ করে দেয়া হবে। পার্কিংয়ের জন্য কোথায় কোথায় ব্যবস্থা করা যায় তা আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে সিএনজি চালকরা অনেক সময় পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে সড়কে চলে আসে। এতে যানজট সৃষ্টি হয়। এখন আমরা তাদের সতর্ক করছি। তারপরও তারা নিয়ম না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে সিলেটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ভেতরে গাড়ি রাখার প্রতিবন্ধকতার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি টার্মিনাল-সংশ্লিষ্টদের একসপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়ে বলেন- এর মধ্যে সবকিছুতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। টার্মিনালের পর্যাপ্ত পার্কিং এরিয়া থাকতে সড়ক জুড়ে গাড়ি এলোপাতাড়ি করে রাখা হবে কেন- এটি করা যাবে না। যে যে সমস্যা রয়েছে সেগুলোকে চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। বাস টার্মিনাল পরিদর্শনকালে সিলেট-ঢাকা ৬ লেন মহাসড়কের সংস্কার সম্পর্কে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন- এই মহাসড়কের কাজ জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে বিলম্ব হচ্ছে। তবে সমপ্রতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিলেট এসেছিলেন। আমরা তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আশা করছি ২-৩ মাসের মধ্যে সিলেট অংশের অধিগ্রহণ কাজ শেষ হবে। ইতিমধ্যে ইউটিলিটি যেগুলো ছিল- যেমন বিদ্যুৎ-গ্যাসলাইন সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ৫-৬ মাসের মধ্যে এই সড়কের কাজ পুরোদমে শুরু হবে বলে আশা করছি।








