নগর বিএনপিকে সাজাতে সিলেটে নেতাদের উদ্যোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ আগস্ট ২০২৫, ৮:০২ অপরাহ্ণ
নির্বাচনের আগে সিলেট মহানগর বিএনপি’র বাকি থাকা থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কাজ শুরু করা হচ্ছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে নগর বিএনপি’র শীর্ষ দু’নেতার ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের পর এ কাজ শুরু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নেতারা। তাদের টার্গেটে আগামী এক মাস। এই সময়ের মধ্যে বাকি থাকা ১৫টি ওয়ার্ড ও ছয়টি থানা কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এজন্য ইতিমধ্যে প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে। নগর বিএনপি’র নেতারা জানিয়েছেন, কমিটিগুলো সাজাতে দু’টি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। একটি হচ্ছে- যারা বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের নেতৃত্বে আনা হবে। অন্যটি হচ্ছে- যারা বিগত দিনে দোসর হিসেবে ছিলেন তারা যাতে কোনোভাবে নেতৃত্বে না আসেন সেদিকে নজর রাখা হবে। সিলেট নগর বিএনপি’র অধিভুক্ত ইউনিট ছিল নগরের ২৭টি ওয়ার্ড। সেটি প্রায় আড়াই বছর আগে বর্ধিত হয়েছিল। সিটি করপোরেশনের বর্ধিত অংশে পড়েছে নতুন ১৫টি ওয়ার্ড। নগরের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ছয়টি থানা। নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৯টি ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কাজ গণ-অভ্যুত্থানের পূর্বে শেষ করা হয়েছিল। এই ওয়ার্ডগুলোর বেশির ভাগই পূর্বে সিলেট সদর উপজেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রথমে পাড়া এবং পরে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়। এখনো আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে কার্যক্রম। কয়েক মাস আগে নগরের ছয়টি থানা কোতোয়ালি, এয়ারপোর্ট, শাহপরান, মোগলাবাজার, দক্ষিণ সুরমা ও জালালাবাদ থানা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সিলেট নগর বিএনপি’র নেতারা কেবলমাত্র আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দিয়ে থানা কমিটিগুলো গঠন করেন। তবে, এখনো পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি হয়নি। গত সপ্তাহে সিলেট নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ঢাকায় গিয়ে দলীয় কার্যালয় থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে ভার্চুয়্যালি সভা করেন। সেখানে তারা দু’জন নগরের সাংগঠনিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। এ রিপোর্ট উপস্থাপনের পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামী ১০ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে নগর বিএনপি’র বাকি থাকা কমিটিগুলোকে পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশ দেন। যার প্রেক্ষিতে নগর বিএনপি’র শীর্ষ দু’নেতা সিলেটে ফিরে কাজ শুরু করেছেন। তারা জানিয়েছেন, সিলেট নগরের দক্ষিণ অংশের ৪০, ৪১, ৪২, ২৮, ২৯, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে এখনো ওয়ার্ড বিএনপি’র কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এজন্য তারা হোমওয়ার্ক করছেন। বিশেষ করে এসব ওয়ার্ডের পাড়া বা মহল্লা কমিটি গঠনের দিকে নজর দিয়েছেন। ইতিমধ্যে এই কাজ প্রায় শেষের পথে।
সুতরাং আগস্টের মধ্যেই তারা প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে সভা করে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। দলের নেতারা ওয়ার্ড পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। গণ-অভ্যুত্থানের আগে নগরের ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কমিটি তারা গঠন করেছিলেন। ফলে এই ওয়ার্ডগুলোতে এখন সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। নতুন অন্তর্ভুক্ত এসব ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা সম্মেলন ও কাউন্সিলের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গণ-অভ্যুত্থানের কয়েক মাসের মাথায় সিলেট নগরের ছয়টি ওয়ার্ডের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি থানার আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের নাম ঘোষণা করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এখন নির্দেশনা রয়েছে- ওই ছয়টি থানার আহ্বায়ক কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ করা। দলের নেতারা জানিয়েছেন, ঘোষিত ছয় আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন না কিংবা দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন- এমন নেতাদের দিয়ে আহ্বায়ক কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে। এতে করে দলের তৃণমূলে কিছুটা অস্বস্তি বিরাজ করছে। বিশেষ করে এয়ারপোর্ট থানার আহ্বায়ককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ছিলেন বঞ্চিত থাকা নেতারা। নগরের দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্দেশনা দিয়েছেন ঘোষিত ছয় থানা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার জন্য। এজন্য তারা কার্যক্রম শুরু করেছেন। সিলেটের কোতোয়ালি ও দক্ষিণ সুরমা থানার আহ্বায়ক কমিটি ১৫ সদস্যবিশিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি চারটি কমিটি সাত সদস্য দিয়ে গঠন করা হবে। সিলেট নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানিয়েছেন, ১০ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের হাতে সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমরা নগরের তৃণমূলকে পুরোপুরি সাজাতে চাই।
এজন্য আগামী ১০ই আগস্ট থেকে তারা পুরোদমে কাজ শুরু করবেন। প্রয়োজনে একদিনে দু’টি ওয়ার্ডের সম্মেলন করে টার্গেট পূরণ করা হবে। বলেন, এখন কমিটি গঠন করতে নেতাকর্মী বাছাইয়ে সবচেয়ে বেশি সময় লাগছে। আমাদের টার্গেট দুটো। একটি হচ্ছে- যারা ন্যূনতম ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আন্দোলনে ছিলেন সেসব নেতাকর্মীদের পর্যায়ক্রমে যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্বে আনা। আরেকটি হচ্ছে- ডেভিল বা দোসরদের চিহ্নিত করে বাদ দেয়া। এ দু’টি প্রক্রিয়া শেষ করে কমিটি করা হবে বলে জানান তিনি। সিলেট নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেট নগর বিএনপি’র পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে পাড়া বা মহল্লাগুলোকে সাজানো হয়েছে। ৩১ দফার প্রচার ও সদস্য সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে নগরের তৃণমূলে এমনিতেই বিএনপি’র গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এখন নির্বাচনকে সামনে রেখে দল গোছানোর কাজ শুরু করা হবে। জানান, নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি ফিরে এলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আটকে থাকা কাজগুলো সমাপ্ত করা হবে।








