সিলেটে নিরাপত্তা জোরদার: সবক’টি প্রবেশমুখে পুলিশের চেকপোস্ট
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ জুলাই ২০২৫, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনার পর নড়েচড়ে বসেছে সিলেটের পুলিশ প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে নগর জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। নগরের সবক’টি প্রবেশমুখে যানবাহনে করা হয় তল্লাশি। এতে নেতৃত্ব দেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন- সিলেটে গতকাল দুপুরের পর থেকে শুরু হয় চেকপোস্টে তল্লাশি চলমান থাকবে। এই চেকপোস্টে নাশকতা সৃষ্টিকারী কিংবা দুষ্কৃতকারীদের খোঁজা হচ্ছে। গতকাল বিকাল পর্যন্ত চেকপোস্টে কেউ আটক হয়নি। একইসঙ্গে জেলা পুলিশের তরফ থেকে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বেলা তখন ২টা। সিলেটের সুনামগঞ্জ রোডের তেমুখী পয়েন্ট। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মোহিদ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে ছিলেন পুলিশের ২০ থেকে ২৫ জন সদস্য। তারা সড়কে দাঁড়িয়ে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি করছিলেন। পাশাপাশি যাত্রীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একইসঙ্গে যানবাহনসহ যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়। তবে সন্দেহভাজন কাউকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা আটক করতে পারেননি।
বিকালে ওই এলাকায় নেতৃত্বে থাকা পুলিশের এসি মো. মোহিদ হোসেন জানিয়েছেন- পুলিশের হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় চেকপোস্ট বসিয়ে তারা তল্লাশি শুরু করেন। সুনামগঞ্জ সড়কে চলাচলকারী সকল যানবাহনে তারা তল্লাশি চালান। তবে বিকাল পর্যন্ত তারা সন্দেহভাজন কাউকে আটক করতে পারেননি। তিনি জানিয়েছেন- চেকপোস্টে যাত্রী, যানবাহনে তল্লাশি করা হচ্ছে। নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে- শুধু তেমুখী পয়েন্টেই নয়, নগরের প্রবেশমুখ এয়ারপোর্ট, টিলাগড়, চণ্ডিপুল এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ছিলেন। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- দিনের বেলা চেকপোস্টে সহকারী পুলিশ কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তারা থাকলেও রাতে পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তারা চেকপোস্টে তল্লাশি করেন।
রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত তারা নগরের কয়েকটি এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালান। এই তল্লাশির কারণ হচ্ছে; রাতের বেলা নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। নগরের ভেতরে কয়েকটি চিহ্নিত এলাকায়ও টহল জোরদার করা হয়। পুলিশের টহলে থাকা সকল টিমকে এলার্ট রাখা হয়েছে। গেল এক মাসে নগরের কয়েকটি এলাকায় রাতের বেলা চুরিসহ সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় নগরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করে। তবে পুলিশের কড়াকড়ির কারণে সেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তারা জানিয়েছেন- এবারের চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযানের উদ্দেশ্য হচ্ছে নাশকতাকারী ও চিহ্নিতদের গ্রেপ্তার করা। এজন্য তারা দিনে ও রাতে নগরের সব প্রবেশমুখে তল্লাশি করছেন। পাশাপাশি নগরের ভেতরেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগে থেকেই যৌথ বাহিনীর চেকপোস্ট ছিল।
রাতের বেলা নগরের প্রবেশমুখে তল্লাশি করা হতো। গতকাল পুলিশের হেডকোয়ার্টার থেকে নির্দেশনা আসার পর চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। এই তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। এদিকে জুলাই-আগস্টকে ঘিরে সতর্ক রয়েছে সিলেট জেলা পুলিশও। জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- জুলাই-আগস্টকে ঘিরে তারা আগে থেকেই সতর্ক রয়েছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তারা অস্থায়ীভাবে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা এএসপি সম্রাট হোসেন মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সিলেট জেলা পুলিশের কার্যক্রম আগে থেকেই চলমান রয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনার পর সেটি আরও জোরালো করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজন কোনো কিছু পাওয়া গেলে আটক করা হবে বলে জানান তিনি।








