ভাঙা ঘরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুনামগঞ্জের জামালের মানবেতর জীবন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জুলাই ২০২৫, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

সুরমা নিউজ ডেস্কঃ
জরাজীর্ণ ছোট্ট একটি ঘর। বছরখানেক আগে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরটি হেলে পড়ে পাশের বিল্ডিংয়ে। কাত হয়ে যাওয়া ঘরটি বিল্ডিংয়ের দেয়ালে ভর দিয়ে কোনোরকমে দাঁড়িয়ে আছে। ঘরের টিনের ছাউনি প্রায় পুরোটাই ফুটো। সামনের দিকের টিনের বেড়া জীর্ণ অবস্থায় টিকে থাকলেও বাকি তিনদিকে বেড়া নেই। ছন ও মাটি দিয়ে তৈরি তিনদিকের বেড়া ধসে পড়েছে। ছেঁড়া কম্বল, লুঙ্গি ও প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে চারদিক ঘিরে রাখা হয়েছে ঘরটির। এই ভাঙা ঘরেই স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মকসুদপুর গ্রামের হতদরিদ্র জামাল উদ্দিন।
সরজমিন দেখা যায়, বৃষ্টির পানি পড়ে স্যাঁতসেঁতে ঘরটিতে একটিমাত্র চৌকি রয়েছে। চৌকির উপরে টানানো রয়েছে পলিথিন। বৃষ্টি এলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পলিথিনের নিচে আশ্রয় নেন। পরিবার ও গ্রামের লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০ হাত প্রস্থ ও ৩০ হাত দৈর্ঘ্যের পৈতৃক ভিটা ছাড়া সম্বল বলতে কিছুই নেই জামালের। ১৩ বছর বয়সে অগ্নিকাণ্ডজনিত দুর্ঘটনায় দু’পা পুড়ে ঝলসে যায় তার। দীর্ঘ চিকিৎসায় সুস্থ হলেও চামড়া ও রগে টান পড়ে কর্মক্ষমতা হারান তিনি। প্রায় ১৫ বছর আগে একই গ্রামের দিনমজুর গফুর মিয়ার মেয়ে শাহিদা বেগমকে বিয়ে করেন জামাল উদ্দিন। কাজকর্ম কিছু করতে পারেন না বলে মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবন ধারণ করছেন তিনি। অভাবের তাড়নায় বড় ছেলেকে লালন-পালনের জন্য বোনের বাড়িতে রেখেছেন। সরকারি কোনো সাহায্যও জোটেনি এখন পর্যন্ত।
এ বিষয়ে জামাল উদ্দিন বলেন, আমার চারটি ছেলে। আমার ঘরটা ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। একটা দুর্ঘটনার পর থেকে আমি কোনো কাজ করতে পারি না। একবার খেলে আরেকবার খেতে পারি না। এখন আপনারা আমাকে একটু সাহায্য করে ঘরটা করে দিলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভালোভাবে থাকতে পারতাম। তার স্ত্রী শাহিদা বেগম বলেন, ভাঙা ঘরে বাচ্চা নিয়ে ঘুমাই। কখন যে ভেঙে পড়ে, সে ভয়ে রাতে ঘুমে হয় না।
মকসুদপুর গ্রামের সংবাদকর্মী রবিনূর বলেন, জামাল উদ্দিন একজন হতদরিদ্র ব্যক্তি। দিনমজুরের কাজ করার ক্ষমতাও তার নেই। তার চারটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এরা খুবই সুশ্রী। দেখলে মনে হবে ধনাঢ্য পরিবারের। অথচ তারা তিনবেলা খেতে পায় না। আমাদের তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসহায়ভাবে জীবন কাটাচ্ছেন জামাল উদ্দিন। কিন্তু প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিদের নজর এখনো পড়েনি তার দিকে। তার ঘরটি করে দিলে অবুঝ শিশুদের নিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারবে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা কামনা করেছেন জামাল উদ্দিন।সুত্র-মানবজমিন







