‘ইসলামি জোটে’ চোখ জামায়াতের
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ জুলাই ২০২৫, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
সুরমা নিউজ ডেস্কঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রামের সবকটি আসনেই তৎপর বিএনপি ও জামায়াত। বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ করা না হলেও আগেভাগেই প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠ গোছানো শুরু করেছে জামায়াত। আলোচনায় থাকা ইসলামি দলগুলোর জোটের সমর্থন আর বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভক্তিকেই আগামী নির্বাচনের জন্য পুঁজি করতে চান জামায়াত প্রার্থীরা।
জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় সুসংগঠিত একটি দল। টানা ১৬ বছর অনেক ঝড়-তুফান মোকাবিলা করে আমরা টিকে আছি। দলের বিভিন্ন স্তরে এখন অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব এসেছে। সাধারণ মানুষের কাছে দলের প্রতি দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ধারণা বদলে দিয়ে নতুন ইমেজ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছেন তারা। তাছাড়া চব্বিশের অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নেতিবাচক নানা কর্মকা- জামায়াতের রাজনীতির জন্য অনেকটা আশীর্বাদ হয়ে উঠছে।
নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও এখন থেকে আরও ছয় মাস আগে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করে জামায়াত। পরে প্রতিটি আসনে দলের প্রার্থীদের পরিচয় প্রকাশ্যে নিয়ে আসে তারা। বিভিন্ন এলাকায় এসব প্রার্থীকে পরিচয়ও করিয়ে দেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে পুরোদমে মাঠে রয়েছেন জামায়াত প্রার্থীরা। নিয়মিত নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের কাছাকাছি পৌঁছার চেষ্টা করছেন তারা।
জামায়াতের দায়িত্বশীল একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, আগামী নির্বাচন কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে সমমনা ইসলামি দলগুলোর জোট গঠনের বিষয়টি মাথায় রেখেই তারা সামনে এগোচ্ছেন। চেষ্টা করছেন তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব গোছানোর। বিশেষ করে চট্টগ্রামের অধিকাংশ আসনে ইসলামী ঐক্যজোট ও কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যে ভোটব্যাংক রয়েছে, সেটাকে নিজেদের বক্সে আনতে সুকৌশলে কাজ করছে তারা। পাশাপাশি সবকটি আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছে তারা। যাতে নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিতদের পরোক্ষ সমর্থন আদায় করা যায়।
আগের বিভিন্ন নির্বাচনের ফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, চট্টগ্রামের সব আসনে জামায়াত ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের কমবেশি তৎপরতা থাকলেও তিনটি উপজেলায় তাদের রয়েছে শক্ত অবস্থান ও জনসমর্থন। এগুলো হলো লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী। লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আসন থেকে একাধিকবার জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আবার বাঁশখালীতে উপজেলা চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছেন তাদের মনোনীত প্রার্থী। অন্যদিকে ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, পটিয়া ও বাঁশখালীতে শক্ত অবস্থান রয়েছে হেফাজতের। আবার নগরীতেও কিছু কিছু এলাকায় ভালো সাংগঠনিক অবস্থান রয়েছে এসব দলের। সব মিলিয়ে ইসলামী দলগুলোর সম্ভাব্য জোটের সমর্থন তাদের সঙ্গে যোগ হলে অন্যান্য আসনেও ভোটের ক্ষেত্রে জামায়াত প্রার্থীরা ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারে। আবার অধিকাংশ আসনেই প্রকাশ্য গ্রুপিং রয়েছে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রতিদ্বন্দ্বীদের ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। এই গ্রুপিংয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় হরহামেশা চলছে সংঘাত-সংঘর্ষ। হতাহত হয়েছে একাধিক দলীয় নেতাকর্মী। এসব কারণে আগামী নির্বাচনে এলাকার সাধারণ মানুষ এদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে বলে আশা করছে জামায়াত নেতৃত্ব। এ ছাড়া, দলের মনোনয়নবঞ্চিতদের অনেকে আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও আবির্ভূত হতে পারে নির্বাচনে। এটাকেও নিজেদের প্রার্থীর জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জামায়াত।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির আলাউদ্দিন সিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রামের সব আসনে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। দল থেকে যাদের প্রার্থী করা হয়েছে তারা নিজ নিজ এলাকায় কাজ করছেন। নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে প্রতিটি এলাকায়। তিনি বলেন, চব্বিশের অভ্যুত্থান পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ড মানুষ দেখেছে। রাজনীতি ও রাষ্ট্রপরিচালনায় যে ধরনের স্বৈরাচারী ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে দেশের ছাত্র-জনতা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আবারও সে ধরনের কর্মকান্ড ফিরে আসুক, জনগণ সেটা চায় না। সেদিক থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া সমমনা ইসলামি দলগুলোর নির্বাচনী জোট গঠনের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তা যদি বাস্তবে রূপ নেয় তাহলে আগামী নির্বাচনে চট্টগ্রামেও এই জোট ভোটের হিসাব পাল্টে দিতে পারে।
জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের দল থেকে চট্টগ্রামের সব আসনে অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ইমেজের লোকজনকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে প্রত্যেক প্রার্থী জনগণের কাছে যাচ্ছেন, এলাকার মানুষের সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে এলাকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। সব মিলিয়ে ভোটারদের কাছে নিজের ও দলের একটা ভালো ইমেজ তৈরির জন্য আমাদের প্রার্থীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন চায়। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হাতে মানুষ নিরাপদ থাকতে চায়, ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে চায়। চাঁদাবাজি, হাট দখল, ঘাট দখল এসব থেকে মুক্তি পেতে চায়। তাদের এ প্রত্যাশা পূরণের প্রত্যয় নিয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছে।








