অপরাধীদের তালিকা দিয়ে পৃথিবীকে বিদায় জানালেন সিলেটের কিশোর গ্যাং সদস্য
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ৫:০৮ অপরাহ্ণ

সুরমা নিউজ :
সিলেট মহানগরে কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে খুন হয়েছেন ফাহিম আহমেদ নামে এক উঠতি গ্যাং লিডার। মৃত্যুর আগে ফাহিম তার খুনি, গ্যাংয়ের অন্য সদস্যদের নাম বলে গেছেন পুলিশকে। পুলিশ সেই তালিকা ধরে অভিযান শুরু করেছে।
পুলিশ জানায়, ফাহিম সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বুধবার মারা যান। মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বেডে শুয়ে হামলাকারীদের নাম প্রকাশ করে যান তিনি। সেই ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
মৃত্যুর আগে ফাহিম জানান, মাইল্লা, পেটকাটা ফাহিম, আলম, সবুজ, নুরুজ্জামান, তুহিন, দুবাই মুন্না, রনি, কুদ্দুস, জুয়েল ও রশিদ নামের ব্যক্তিরাই তার ওপর হামলা চালিয়েছে।
শাহপরান থানার ওসি মনির হোসেন জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত ফাহিমের বড় ভাই মামুন আহমেদ (২৫) ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ‘বুলেট মামুন গ্রুপ’ নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতেন। গত ১০ অক্টোবর মামুনকে দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ১১টি মামলা রয়েছে। মামুন কারাগারে যাওয়ার পর ছোট ভাই ফাহিম গ্যাংটির নিয়ন্ত্রণ নেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংয়ের সঙ্গে এলাকায় আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয় তার। এর জের ধরেই সোমবার রাতে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন ফাহিম।
এলাকাবাসীর দাবি, দুইপক্ষের পেছনেই রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে, যার ফলে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বালুচর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ফাহিমের মৃত্যুর পর প্রতিশোধের আশঙ্কা রয়েছে, যা নতুন করে সংঘর্ষ ডেকে আনতে পারে।
নিহত ফাহিম সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার কান্দিগাঁও গ্রামের হারুন রশীদের ছেলে। পরিবার নিয়ে সিলেট নগরীর শাহপরান থানার বালুচর ছড়ারপাড় এলাকায় বসবাস করতেন তারা।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ফাহিম হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। যারা আইনের বাইরে থেকে অপরাধের রাজত্ব কায়েম করতে চাইছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।







