আওয়ামী লীগ ঠেকাতে সিলেটে প্রশাসনের প্রস্তুতি
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ নভেম্বর ২০২৫, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
একটি মিছিলে ঘুম ভাঙলো সিলেট প্রশাসনের। ছাত্রলীগের কর্মীরা নগরের লামাবাজার এলাকায় সাত সকালে মিছিল করেছে। এ ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে স্বস্তি নেই প্রশাসনে। কার্যক্রম ঠেকাতে ইতিমধ্যে নগরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সূত্র বলছে; সিলেটে সংগঠিত হচ্ছে আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। গণ-অভ্যুত্থানের সময় মাঠছাড়া নেতাকর্মীরা আড়ালে থেকে দলকে সুসংগঠিত করে মাঠে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেই প্রস্তুতির জানান তারা ইতিমধ্যে দিয়েছেন। গত তিনদিন আগে নগরে মিছিল দেয়া হয়েছে। আর মিছিলটি ছিল প্রকাশ্যে। গতকাল সিলেটের আদালত পাড়ায়ও স্লোগান দেয়া হয়েছে। জায়গীরদার আলম মামুন নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেপ্তারের ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মীরা স্লোগান দেয়।
আর এই স্লোগান দেয়ার পর সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন- ‘নাম তার জাহাঙ্গীর আল মামুন। অল্প বয়সেই তৈরি করেছে শত শত কর্মী, অসংখ্য মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে কারাগারে থাকার পরেও আজকে সিলেট কোর্ট প্রাঙ্গণ প্রকম্পিত হয়েছে মামুনের কণ্ঠে জয় বাংলার দৃপ্ত স্লোগানে। আমি যাদের পক্ষে কথা বলি বুঝেশুনে তারপর বলি, আমার সঙ্গে যারা রাজনীতি করে তারা করে আদর্শ দেখে, সিলেট নয় সমগ্র বাংলাদেশে এমন বুকের পাঠা খুব কম ছেলেদের আছে, আমি মামুনের চেয়েও বেশি তার সহযোদ্ধাদের স্যালুট দেই।’
তিনি উল্লেখ করেন- ‘সমগ্র আদালত পাড়া আজ শেখ হাসিনা আসবে-বাংলাদেশ হাসবে স্লোগানে মুখরিত ছিল, এই ছেলেরা তৈরি হচ্ছে মুজিব রণাঙ্গনের অকুতোভয় সেনানী হয়ে। সাব্বাশ মামুন ইনশাআল্লাহ অন্ধকার কেটে আলো আসবেই। আবার দেখা হবে চিরচেনা রাজপথে।’ স্লোগানের ভিডিও ক্লিপটি গতকাল বিকালে ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ঘটনাটি নিয়ে আইনজীবীরাও অবাক হন। তারা জানিয়েছেন- এমন ঘটনা সচরাচর সিলেটের আদালত পাড়ায় ঘটে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কম থাকার কারণে এ ঘটনা ঘটছে। তারা বলেন- স্লোগান দেয়ার সময় বন্দি ছিলেন আসামি একজন। অন্যরা ছিল বাইরে। তারা সুসংগঠিত হয়ে আদালত এলাকায় স্লোগান দিয়েছে। এটি সবাইকে অবাক করেছে বলে জানান তারা। সিলেটের মাঠে ছাত্রলীগের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে তারা ভাবছেও।
সিলেট-৬ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু উপলক্ষে মাজার জিয়ারত করে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন- আওয়ামী লীগ যদি রাতের আঁধারে মিছিল দেয় সেখানে কিছু করার থাকবে না। তবে প্রকাশ্যে দিনের বেলা মিছিল দিলে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে প্রতিহত করবে। সিলেটের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- ছাত্রলীগের মিছিলের পর নগরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মিছিল এবং কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে জানিয়েছেন- নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ। অবৈধ কার্যক্রম ঠেকাতে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সিলেট মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ বা অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম ঠেকাতে তারা তৎপরতা বাড়িয়েছেন। সিলেট নগরে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। হঠাৎ যাতে কেউ ঝটিকা মিছিল না করতে পারে সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নগরে সাদা পোশাকে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে জেলার ১৩টি উপজেলায়ও একইভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। সম্প্রতি পুলিশের হেডকোয়ার্টার থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা এসেছে। সেই নির্দেশনা মতো নগর ও জেলা পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তারা।








