সিলেট ২: ইলিয়াস আলীর ছায়া লুনায়
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
এম. ইলিয়াস আলী। বিএনপি’র সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। ২০১২ সাল থেকে নিখোঁজ তিনি। এরপর থেকে দলে অনুপস্থিত। কোথায় আছেন, কেমন আছেন, কেউ জানে না। বেঁচে আছেন কিনা তাও কেউ জানে না। তবুও তার জন্য এখনো অন্তহীন অপেক্ষা। সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি। বলা হয়ে থাকে এ আসনের ভোটারের নয়নমণি ছিলেন তিনি। হঠাৎই গুম। ঢাকা থেকে তুলে নিয়েছিল সরকারের বাহিনী। চারিদিকে শূন্যতা। এই শূন্যতা, শূন্যতায় কাটছে সময়। ইলিয়াসের অবর্তমানে হাল ধরেন তার স্ত্রী বেগম তাহসিনা রুশদীর লুনা। বড় চ্যালেঞ্জ। স্বামীর সন্ধান চেয়ে ধরনা দিয়েছেন সব পর্যায়ে। কোনো সুখবর মিলেনি। এলাকারও হাল ধরেছেন। ইলিয়াসের অবর্তমানে লুনাই হচ্ছেন সিলেট-২ আসনের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। কঠিন কাজ। সহজ করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। করতে হয়েছে নিজের সঙ্গে যুদ্ধ। নানা প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে ইলিয়াসের অভাব পূরণ করার প্রাণান্তকর লড়াই চালাতে হয়েছে।
সিলেট-২ আসন। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের আসন। প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। ২০১৮ সালে স্বামীর আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী হন লুনা। সরকারের তরফ থেকে আসে বাধা। ভোটে দাঁড়ালেই পাস। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের তরফে নানা নাটকীয়তা। লুনাকে টেনে ধরার চেষ্টা। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। সফল হয় ষড়যন্ত্রকারীরা। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বদল। মেনে নেন লুনা। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীকে জয়ী করতে নিজে নেমেছিলেন মাঠে। তার ইশারায় জয় হয়েছিল গণফোরাম নেতা মোকাব্বির খানের। কিন্তু জয়ের পর লুনা এবং বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর বিএনপিকেই সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেন মোকাব্বির খান। পরের নির্বাচনে তিনিও টিকতে পারেননি। অসহায় আত্মসর্ম্পণ করে দেশ ছেড়েছেন। তাহসিনা রুশদী লুনা মাঠে রয়ে গেলেন। বিএনপি, এলাকার মানুষকে নিয়ে চলতে থাকলেন। ইলিয়াসের প্রিয় মানুষদের কারণে এক মুহূর্তের জন্য ছাড়তে পারেননি এলাকা। সামনে নির্বাচন। লুনাই হচ্ছেন এ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী- এমনটি এখনো ভাবা হচ্ছে। দলের পক্ষ থেকে জানা গেছে, আবেগের এ আসনে লুনাতেই ভরসা বিএনপি’র। তিনি পেতে যাচ্ছেন ধানের শীষের টিকিট। তবে মনোনয়ন যুদ্ধে নেমেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির। বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। করছেন গণসংযোগ।
ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন। এ আসনে এবার শক্তিশালী প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুনতাসির আলী। ২০০১ সাল থেকেই ভোটের মাঠে রয়েছেন। গ্রহণযোগ্য রাজনীতিবিদের পাশাপাশি ভালো সংগঠকও। ইসলামী ঘরানার ভোটে রয়েছে আলাদা আধিপত্য। ইলিয়াসের আসনে ভোটে লড়াইয়ে বারবার পিছু হটেন। এবারের ভোটের মাঠ আগে থেকেই সাজানোর চেষ্টা করছেন। দলের নীতি নির্ধারক পর্যায়ে নেতা হয়ায় দিনে দিনে ভোটের মাঠে তাকে চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে। এবার মুনতাসির আলীকে নিয়ে স্বপ্ন বুনছেন দলের নেতাকর্মীরা। তিনিও এলাকার ভোটারের কাছে পরিচিত মুখ। সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তাকে পছন্দ করেন সবাই। বিভিন্ন দাতা সংস্থার মাধ্যমে সবসময়ই মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। ২০২২ সালের বন্যায় ঘুরে বেড়িয়েছেন গোটা নির্বাচনী আসন। খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা জানান, ইলিয়াসের সঙ্গেও লড়াই করেছেন মুনতাসির। ভোটের মাঠে দিন দিন তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। জামায়াতে ইসলামী এ আসনে বারবারই খেই হারিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর এলাকা।
এ আসনে জামায়াতের তেমন শক্ত অবস্থান নেই। তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে জামায়াত এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিছু ভোটও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান। তিনিও পরিচিত মুখ। এবার জামায়াত ভোট ব্যাংক বাড়াতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন নেতারা। এ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী ড. মুফতি হাফেজ লুৎফুর রহমান ক্বাসিমী। তিনি নতুন মুখ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আমীর উদ্দীন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা এখলাসুর রহমান ও এনসিপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী মিনহাজুর রহমান মিঠু মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী এখনো মাঠে নেই। আলোচনায় আছেন সাবেক এমপি ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া। সাবেক এমপি মকসুদ ইবনে আজিজ লামার নামও ভোটের মাঠে শোনা যাচ্ছে।
মানবজমিন







