জামিন পেলেন চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামি বুলবুল
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ আগস্ট ২০২৫, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
ওসমানীনগর প্রতিনিধি:
সিলেটের ওসমানীনগরে আলোচিত কিশোর রবিউল ইসলাম নাঈম হত্যা মামলার প্রধান আসামি বগুড়া রেস্টুরেন্টের মালিক বুলবুল ফকির আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। প্রায় ২৪ দিন কারাগারে থাকার পর গত ২৭ আগস্ট আদালতের নির্দেশে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট বুধবার বিকেলে রবিউল হত্যা মামলার প্রধান আসামী বগুড়া রেস্টুরেন্টের মালিক বুলবুল ফকির প্রায় ২৪ দিন কারাগারে থাকার পর আদালতের নির্দেশে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এর আগে, গত ২৫ জুলাই ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম বগুড়া রেস্টুরেন্ট থেকে নিখোঁজ হয় রবিউল ইসলাম নাঈম (১৪)। এরপর রবিউলের স্বজনরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখোজিঁ করে না পেয়ে ওসমানীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন। ৩ আগস্ট মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল এলাকার রেলস্টেশনের পার্শ্ববর্তী ডোবা থেকে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে কুলাউড়া থানা পুলিশ। সেটিকে রবিউলের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করে পরিবার। ৫ আগস্ট রেস্টুরেন্ট মালিক বুলবুল মিয়া রবিউলের হত্যাকারী দাবি করে তার বিচার ও থানায় মামলা না নেয়ার অভিযোগ তুলে রবিউলের লাশ নিয়ে নিহতের পরিবারসহ এলাকাবাসী ওসমানীনগর থানা ঘেরাও করে প্রায় ২ ঘন্টা সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিহতের স্বজনসহ বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। রাতে রবিউলের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এর আগে অভিযুক্ত বুলবুল ফকিরকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয় । ৮ আগস্ট রাতে নিহত রবিউলের মা পারুল বেগম বাদি হয়ে রেস্টুরেন্ট মালিক বুলবুলকে প্রধান আসামী করে (মামলা নং-০৮) দায়ের করেন। মামলায় আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়। কিন্তু দাফনের ১৭ দিন পর রবিউলকে তার আত্নীয়ের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর এলাকা থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো ঘটনাই নতুন মোড় নেয়।
রবিউলের খোজে তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি, এসময় রবিউলের খালা নাছিমা বেগম বলেন, রবিউলকে পাওয়ার পর সে এখনও বাড়িতে আসে নি। তিনি জানান রবিউল এখনও মৌলভীবাজারে আছে।
কারাগার থেকে ফিরে বুলবুল ফকির বলেন, আমি গরীব মানুষ বগুড়া থেকে এসে এখানে আমি ছোট ব্যবসা করি। একটা মিথ্যা মামলার জন্য আজ আমার পরিবার রাস্তায়। ২৪ দিন জেলে থেকে আজ আমি মানসিক বিপর্যস্ত। কান্নাজড়িত কন্ঠে বুলবুল বলেন, আমি বাইরে থাকলে ওরা আমাকে মেরে ফেলতো। আমার ছোট্ট বাচ্চা, আমার অসুস্থ মা বাড়িতে এদের দায়িত্ব কে নিতো। এলাকাবাসীর কাছে অনুরোধ আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাসিয়েছে আমি এর বিচার চাই। আমি আইনের আশ্রয় নিবো যাতে আমার মতো আর কাউকে এরা ফাসাতে না পারে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, দাফন করা অজ্ঞাত লাশের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি, রবিউল তার পরিবারের সাথে আছে।








