গুলশানে চাঁদাবাজি অপুকে চিনলেও সম্পৃক্ততা ‘অস্বীকার’ উপদেষ্টা আসিফের
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ আগস্ট ২০২৫, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
সুরমা নিউজ ডেস্কঃ
গুলশানে সাবেক এক এমপির বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অভিযোগ করা ব্যক্তি জানে আলম অপুকে চিনলেও তার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকার দাবি করেছেন উপদেষ্টা।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আসিফ মাহমুদ বলেছেন, অভিযোগটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি বলেন, ‘ছাত্র অধিকার পরিষদে থাকার সময় ২০২২ সালে তিনি জানে আলম অপুকে চিনতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অপুর সঙ্গে তার কোনো কথা হয়নি।’
উপদেষ্টা সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘এ ধরনের একটা ক্লেইম আসার পরে আমি খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আজ দেখলাম, তার স্ত্রী পরিচয়ে এক নারী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আমি খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি কী ঘটনা। তবে তিনি (নারী) সেখানে দাবি করেছেন অপুকে গুম করে নিয়ে এই স্টেটমেন্ট আদায় করা হয়েছে। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তাহলে তা অত্যন্ত শঙ্কাজনক।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৫ মিনিটের ওই ভিডিওতে জানে আলম বলেন, ‘যেদিন সাবেক এমপির বাসায় তারা চাঁদার টাকা নিয়েছিলেন, সেদিন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে গুলশানের একটি জায়গায় তার সাক্ষাৎ হয়েছিল।’
চাঁদাবাজির ওই ঘটনায় মাথায় হেলমেট পরা অবস্থায় মোটরবাইকে করে সেখানে যাওয়া একজনকে আসিফ মাহমুদ বলে দাবি করা হয়েছে সেই ভিডিওতে। সেই ব্যক্তি তিনি কি না জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘তিনি প্রায়ই রাতে ৩০০ ফুটের নীলা মার্কেটে যান হাঁসের মাংস খেতে। আর বেশি ভোর হয়ে গেলে নীলা মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়, তখন তিনি যান গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে। তবে সেদিন সেখানে গিয়েছিলেন কি না মনে করতে পারছেন না।’
তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে হেলমেট পরা যে কাউকে যদি আমাকে বলে দাবি করা হয়, এটা কতটুকু আসলে বিশ্বাসযোগ্য। এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না, যেহেতু এটা নিয়ে তদন্ত চলছে।’
চাঁদাবাজির ওই ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নেই দাবি করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমার মনে হয় না, এখনো কেউ এ রকম কোনো প্রমাণ দিতে পেরেছে যে, ওই ঘটনায় আমার সম্পৃক্ততা আছে। বরং যার (জানে আলম অপু) সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, এই সাক্ষাৎকার একজন রাজনৈতিক নেতার বাসায় নেওয়া হয়েছে, একজনকে জোরপূর্বক নেওয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, এটা অত্যন্ত গুরুতর একটা অভিযোগ। এটা পরিবারের দিক থেকে এসেছে, যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য, এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে। তো এর সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতার যে কথা বলা হচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
ইশরাক জোর করে ভিডিও বক্তব্য নিয়েছেন, দাবি অপুর স্ত্রীর
ভিডিও প্রকাশের পর জানে আলম অপুর স্ত্রী কাজী আনিশা বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন জোর করে ওই বক্তব্য আদায় করেছেন।
শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সাংবাদিকদের আনিশা বলেন, ‘জুলাইয়ের ৩১ তারিখ রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে পরদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত অপুকে বন্দি করে যে স্বীকারোক্তি নিল, সেটা কারা নিল? এবং গোপীবাগ কার বাসা? গোপীবাগ কি বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের বাসা না?
কাজী আনিশা অভিযোগ করেন, ইশরাক অপুকে জোর করে তুলে নিয়ে নিজের বাসায় ভিডিও করতে বাধ্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘অপুকে তো বিএনপি নেতা ইশরাকের বাসার সামনে থেকেই ধরে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো কিছু ভিডিও-ছবি সবই ইশরাকের বাসার ভিডিও।’
তিনি আরও বলেন, ‘বুধবারের ভিডিওটা কাটছাঁট করে প্রকাশ করা হয়েছে। স্টেটমেন্ট নেওয়ার ১৪ দিন পর তা সামাজিক মাধ্যমে ছাড়া হয়েছে। চার দিন রিমান্ডে রেখে অপুকে দিয়ে নাম বলানোর চেষ্টা করা হয়েছে।’ এনসিপিকে দাবানোর জন্য অপুকে ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন অপুর স্ত্রী।
প্রসঙ্গত, গুলশানে চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপু। পরে তার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদাবাজির ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ভিডিওটি ধারণ করেন জানে আলম অপু।








