লিবিয়া হয়ে ইতালি যাত্রা : ৫ মাস ধরে খোঁজ নেই ১৪ যুবকের
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ জুলাই ২০২৫, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ

সুরমা নিউজ ডেস্ক:
স্বপ্ন দেখেছিলেন উন্নত জীবনের, লিবিয়ার সাগর পাড়ি দিয়ে পৌঁছাবেন ইতালি। অথচ, দালালের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব মাদারীপুরের রাজৈরের একটি ইউনিয়নের ১৪ যুবকের পরিবার। প্রথমে তাদের লিবিয়ার বন্দিশালায় আটকে রেখে চালানো হয় নির্যাতন। ভিটেমাটি বিক্রি আর চড়া সুদে মুক্তিপণের লাখ লাখ টাকা এনে দালালদের হাতে তুলে দিলেও ৫ মাস ধরে আদরের সন্তানদের খোঁজ মিলছে না। এতে পাগলপ্রায় পরিবার। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
খলিলের খোঁজ নেই ৫ মাস ধরে। এই কান্না বাবা আজিজ খালাসির। সন্তানকে ফিরে পাবার আশায় ছবি হাতে নিয়ে ঘুরছেন বিভিন্ন এলাকায়। তার অভিযোগ, কৌশল খাটিয়ে ছেলের পাসপোর্ট নেয় দালালচক্র। পরে একে একে দালালের হাতে তুলে দেন ৩৬ লাখ টাকা। খলিল এখন কোথায় আছে জানেন না তিনি। এদিকে, দিনমজুর সোহেল চৌকিদারও পড়েছেন এই ফাঁদে। বাড়ি ছাড়ার আগে স্ত্রী রুনা বেগম ও তিন মেয়েকে রেখে যান। লাখ লাখ টাকা দালালরা হাতিয়ে নিলেও দীর্ঘদিন ধরে সোহেলের খোঁজ না থাকায় দিশাহারা পরিবার।
একই অবস্থা মাদারীপুরের রাজৈরের বাজিতপুর ইউনিয়নের ১৪ যুবকের পরিবারে।
স্বজনদের অভিযোগ, মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য বাজিতপুর গ্রামের মৃত আয়নাল হাওলাদারের ছেলে বাবুল হাওলাদার প্রলোভন দেখিয়ে প্রত্যেক পরিবারের কাছ থেকে প্রথম নেন ১৫-২০ লাখ টাকা। পরে লিবিয়ায় বন্দি করে আদায় করেন আরও ৩০-৪০ লাখ টাকা। তবুও সন্ধান মিলছে না যুবকদের। ঘটনার পর ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়েছে অভিযুক্ত বাবুল ও তার পরিবার। তবে বাবুলের স্বজনরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অকপটে স্বীকারও করেছে। ওদিকে পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
নিখোঁজরা হলেন- রাজৈর উপজেলার পাখুল্লা গ্রামের জাহাঙ্গীর বেপারীর ছেলে সালমান বেপারী, চৌরাশী গ্রামের মোসলেম শিকদারের ছেলে বাবুল শিকদার, একই গ্রামের মজিবর বয়াতির ছেলে সাজ্জাদ বয়াতি, জাকির মাতুব্বরের ছেলে বাদল মাতুব্বর, কানাই রায়ের ছেলে লিটন রায়, নিরঞ্জন বাড়ৈর ছেলে বাঁধন বাড়ৈ, কিসমদ্দি বাজিতপুর গ্রামের আলম চৌকিদারের ছেলে ইমন চৌকিদার, একই গ্রামের অহিদুল মাতুব্বরের ছেলে নয়ন মাতুব্বর, আজিজ খালাসির ছেলে খলিল খালাসি, সোনা মিয়া চৌকিদারের ছেলে সোহেল চৌকিদার, নয়াকান্দি বাজিতপুর গ্রামের গৌরাঙ্গ বাড়ৈর ছেলে গৌতম বাড়ৈ, একই গ্রামের সামচু সরদারের ছেলে ইমরান সরদার, শ্রীনাথদী বাজিতপুরের জলিল বয়াতির ছেলে আল আমিন বয়াতি ও শ্রীনদী গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান ঘরামির ছেলে আলী ঘরামি।
এই ঘটনায় জড়িত বাজিতপুর ইউনিয়নের সাধুর আশ্রমের মৃত আয়নাল হাওলাদারের ছেলে বাবুল হাওলাদার, বাবুল হাওলাদারের মেয়ে সোনিয়া আক্তার ও শশী আক্তার, বাবুলের স্ত্রী চুন্নু বেগমও রয়েছেন। ঘটনার আগে লাখ লাখ টাকা এই দালালচক্র অসহায় পরিবারগুলোর কাছে থেকে নেয়।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান বলেন, নিখোঁজ স্বজনদের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মূলত এই পরিবারের লোকজন প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধি কাউকেই না জানিয়ে ছেলে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর ব্যবস্থা করে। যখন সমস্যা পড়ে তখন বিষয়টি জানাজানি হয়। এই ব্যাপারে সবাই সতর্ক থাকলে এমন ঘটনা আর কখনই ঘটতো না। কিন্তু পরিবারগুলো মনে করে একবার ইতালি পৌঁছাতে পারলে জীবনের পরিবর্তন হবে। কিন্তু জীবনকে মৃত্যুর মুখে ফেলে দিয়ে এমন যাত্রা কখনই কাম্য নয়।







