কুমিল্লায় ‘ধর্ষণকাণ্ড’ : ফজর আলী হাসপাতালে, বাকি ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ জুন ২০২৫, ২:৪৭ অপরাহ্ণ

সুরমা নিউজ ডেস্ক:
কুমিল্লার মুরাদনগরে এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত ফজর আলীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকী ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
এরআগে শনিবার (২৮ জুন) রাতভর অভিযান চালিয়ে চারজনকে এবং রোববার (২৯ জুন) ভোরে রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ফজর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রাশেদুল হক চৌধুরী রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেপ্তারের সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হয়ে বেদম প্রহারের শিকার হন ফজর আলী। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি পালিয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করছিলেন। সায়েদাবাদ থেকে তাকে আটক করে কুমিল্লায় আনা হয় এবং বর্তমানে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ হওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
গ্রেপ্তার অপর চারজনকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে তারা সরাসরি জড়িত বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।
ধর্ষণের শিকার নারীকে উদ্ধার করতে আসা লোকজন কেন ভুক্তভোগী নারীকে মারধর, গালিগালাজ করলেন কিংবা নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করলেন, এসব বিষয়ে কিছু জানতে পেরেছেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে এএসপি রাশেদুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা বেলা সোয়া ১১টার দিকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি। এখনো তেমন কোনো তথ্য জানা যায়নি। তবে পুরো বিষয়গুলো নিয়েই আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে বিস্তারিত জানাতে পারব।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লার মুরাদনগরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসা এক নারীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ফজর আলী নামে (৩৮) এক যুবকের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বাহেরচর পাঁচকিত্তা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়। শুক্রবার (২৭ জুন) বিকেলে এ ঘটনায় ওই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন। তার স্বামী দুবাই প্রবাসী। তিনি দুই সন্তানের মা।
এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ভিডিও ভাইরাল করার দায়ে চারজনকে এবং ঘটনার মূল অভিযুক্ত ফজর আলীকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লায় নেয় পুলিশ।







