ওসমানীনগরে স্ত্রী হত্যাকারী স্বামী গ্রেফতার : বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা পুলিশের নিকট স্বীকার
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ মে ২০১৭, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
জুবেল আহমদ সেকেল:
সিলেটের ওসমানীনগরে গত মঙ্গলবার পারিবারিক কলহের জেরে বঁটি দিয়ে স্ত্রী সৈয়দা হেমী বেগমকে হত্যাকারী ঘাতক স্বামী পলাতক আব্দুল হান্নানকে ঘটনার সাড়ে চার ঘন্টা পর গ্রেফতার করেছে ওসমানীনগর থানা পুলিশ। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পলাতক আব্দুল হান্নান হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে অবস্থান করার বিষয়টি নিশ্চিত হবার পর গতকাল বুধবার ভোর সাড়ে চারটায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওসমানীনগর থানার এসআই মহিবুর রহমান একদল পুলিশ নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জের নতুন ব্রিজের মুখ নামক স্থানে এস আর আবাসিক হোটেলের ১২৩ নম্বর কক্ষে অভিযান চালিয়ে আব্দুল হান্নানকে গ্রেফতার করা হয়। শায়েস্তগঞ্জ থেকে ওসমানীনগর থানায় নিয়ে আসার পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী হেমী বেগমকে বঁটি দিয়ে উপর্যপোরী কুপিয়ে হত্যা করার কথা স্বামী ঘাতক আব্দুল হান্নান স্বীকার করেছে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার ওসি(তদন্ত) আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছে। এ দিকে হেমী খুনের ঘটনায় ঘাতক পিতা হান্নানকে একমাত্র আসামী করে তার দ্বিতীয় ছেলে আকিকুর রহমান নাহিন বাদী হয়ে গতকাল বুধবার সকালে ওসমানীনগর থানায় একটি হত্যা (মামলা নং-০৮) দায়ের করেছে। এ দিন দুপুরে গ্রেফতরকৃত আব্দুল হান্নানকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিতে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। জুডিশিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট ৬ষ্ঠ আতিকুল হায়দারের আদালতে ১৬৪ ধারায় আসামী হান্নান জবানবন্দি প্রদান করেছে। নিহত সৈয়দা হেমী বেগমের লাশ থানা পুলিশ সুতেহাল শেষে গতকাল বুধবার বিকেলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতল মর্গে ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। লাশ রাখা হয়েছে ওসমানী হাসপাতালের হিম ঘরে। নিহতের বড় ছেলে ও মেয়ে বুধবার রাতে ব্রিটেন থেকে দেশে আসার পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার নিহতের দাফন করা হবে। নিহত হেমী বেগমের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী কারী ওসমানীনগর থানার এসআই অনুজ কুমার বলেন, নিহতের মাথার পিছন, ডান ও বাম দিকে বঁটির ১০টি কুপের চিহ্ন রয়েছে। মাথার পেছন দিকে মগজ বেরিয়ে গেছে। দুই হাতেও একাধিক কুপের জখম রয়েছে।
মামলার বাদী নিহতের দ্বিতীয় ছেলে আকিকুর রহমান নাহিন বলেন, ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। খবর পেয়ে বাড়িতে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির আঙ্গীনায় আমার মাকে পড়ে থাকতে দেখি। আমার বাবা মাকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে মরা যাবার আগে মা আমাকে বলেছেন।
ওসমানীনগর থানার ওসি সহিদ উল্যা স্ত্রী হত্যাকারী ঘাতক হান্নানকে গ্রেফতার ও হত্যা মামলা রুজুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের জন্য আসামীকে গতকাল বুধবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার তাজপুর ইউপির খাশিপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। উপজেলার খাশিপাড়া গ্রামের ৫ ছেলে ও তিন মেয়ে সন্তানের জনক হান্নান ও তার স্ত্রী সৈয়দা হেমী বেগমের মধ্যে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পারিবারিক কলহ চলে আসছে। এ নিয়ে তাদের গ্রামের পঞ্চায়েত ও আত্নীয় স্বজনরা একাধিকবার সালিশ বৈঠক করে তাদের পারিবারিক কলহের সমাধান করতে পারেননি। গত রোববার হেমী বেগমের তৃতীয় ছেলে রুহিন মিয়া তার মায়ের নিকট টাকা চাইলে ছেলেকে টাকা দিতে অপারগত প্রকাশ করলে এ সময় রুহিন ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরে থাকা টিভি সহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এর জের ধরে গত দুদিন ধরে স্বামী হান্নান মিয়া তার স্ত্রী হেমী বেগমের সাথে ঝগড়া করে আসছেন। মঙ্গলবার ছেলে বাড়ির বাহিরে থাকার সুযোগে আবারও হান্নান মিয়া হেমী বেগমের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হান্নান মিয়া ঘরে থাকা বটিদা দিয়ে হেমী বেগমের মাথায় একাধিক কুপিয়ে পালিয়ে যান।







