লন্ডনে মেয়রের হস্তক্ষেপে ওসমানী স্কুলের নাম পরিবর্তন স্থগিত
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ জানুয়ারি ২০১৭, ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ
লন্ডন অফিস:
পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশ কমিউনিটি অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থিত ওসমানী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ পরিবর্তনের বিতর্কিত পরিকল্পনা লন্ডনের টাওয়ার হেমলেট মেয়রের হস্তক্ষেপে স্থগিত হয়ে গেছে। সিলেটের কৃতী সন্তান এবং বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর নামে ১৯৮৬ সালে হোয়াইট চ্যাপেল এলাকায় একটি প্রাথমিক স্কুলের নামকরণ করা হয়েছিল। এখন সে নাম পাল্টে ‘ভ্যালেন্স প্রাইমারি’ নামকরণের একটি উদ্যোগ নিয়েছিল স্কুল কমিটি। কিন্তু পূর্ব লন্ডনের বাঙালিরা গোড়া থেকেই এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁরা বলছেন, শুধু বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলেই জেনারেল ওসমানীর নামে এই বিদ্যালয়টি চালু হয়নি। জেনারেল ওসমানীর নামে স্কুলটির নামকরণে প্রধানত দুটি মুখ্য বিষয় বিবেচনায় নেয়া হয়েছিল। এর একটি হচ্ছে, পূর্ব লন্ডন বাঙালি অধ্যুষিত এবং দল-মত নির্বিশেষে তাঁদের সবার কাছেই জেনারেল ওসমানীর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। অন্যদিকে ওসমানি বৃটিশ আর্মির হয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। ইস্ট লন্ডন অ্যাডভারটাইজারে প্রকাশিত ২৫শে জানুয়ারির এক রিপোর্টে দেখা যায় হোয়াইট চ্যাপেল ওসমানী প্রাইমারির স্কুল কর্তৃপক্ষ এখন বলছে যে, টাওয়ার হেমলেটের মেয়র জন বিগসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁরা ওসমানী নাম পাল্টানোর যে উদ্যোগ নিয়েছিল; সে বিষয়ে এখন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মতামত নেবে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্কুলটি ক্রমবর্ধমান হারে তহবিল সংকটে পড়ার কারণে তাঁরা স্কুলটির পুনঃনামকরণের পরিকল্পনা করেছিল। তাঁদের লক্ষ্য হলো, যাতে করে পার্শ্ববর্তী ভ্যালেন্স রোড নেইবারহুডের বাসিন্দাদের সহানুভূতি আদায় করতে সক্ষম হয়। গত ২৪শে জানুয়ারি রাতে অনুষ্ঠিত স্কুলের পরিচালনা পরিষদের বৈঠকে অংশ নিয়ে মেয়র যুক্তি দেন যে, এ ধরনের একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে ছাত্র-ছাত্রীদের বাবা-মায়ের মতামত গ্রহণ করাটা ঠিক হবে। টাওয়ার হেমলেটের কাউন্সিলে অবশ্য গত বুধবার এ বিষয়ে এক বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। আর সে বৈঠকে নেয়া এক সিদ্ধান্ত প্রস্তাবে বাঙালি কমিউনিটির কাছে ওসমানী নামটি যে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তা স্বীকার করা হয়। ২৫ জানুয়ারি টাওয়ার হেমলেট মেয়র মি. গিবস ইস্ট লন্ডন অ্যাডভারটাইজারকে বলেছেন, আমি সন্তুষ্ট যে স্কুলের গভর্নিং বডির সদস্যগণ নাম পরিবর্তনের বিষয়ে অভিভাবকদের মতামত গ্রহণে রাজি হয়েছেন। মেয়র অবশ্য স্বীকার করেন যে, ওসমানী প্রাইমারি স্কুলটি তহবিল সংকটে ভুগছে। স্কুলটি যাতে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারে তাই টাওয়ার হেমলেট কাউন্সিল স্কুলটিকে সাহায্য করার প্রস্তাব দিয়েছে। ১৯৮৬ সালে সাবেক রবার্ট মন্টিফিওর সেকেন্ডারি স্কুলটি যেখানে অবস্থিত রয়েছে, তার পাশেই ওসামানী স্কুলটির যাত্রা শুরু হয়। সিলেটের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯১৮ সালে জেনারেল ওসমানী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বৃটিশ আর্মিতে থেকে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। টাওয়ার হেমলেট মেয়র উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশিষ্ট ভূমিকা রাখার জন্য লন্ডনে বাঙালি কমিউনিটির মধ্যে ওসমানী একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের মর্যাদালাভ করে আসছেন। তাঁর কথায়, ‘একটি জাতি হিসেবে বাংলাদেশের জন্মে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেন জেনারেল ওসমানী।’ ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, স্কুলের অভিভাবকরা সম্প্রতি স্কুলের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়ে প্রথমবারের মতো গত সপ্তাহে জানতে পারেন যে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নাম পরিবর্তন কার্যকর হবে। স্থানীয় সরকারের কর্তৃপক্ষ কোনো স্কুলের নাম পরিবর্তন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্কুলের গভর্নরদের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারেন না। কিন্তু আলাপ-আলোচনা পর্যায়ে সিদ্ধান্ত পাল্টানোর প্রক্রিয়ায় তাঁরা বেশ প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।







