রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘মোকাব্বিরের নাম শুনলেই মীর জাফরের কথা মনে হয়’

সুরমা নিউজ ডেস্ক :
মোকাব্বির খান। বর্তমানে বাংলাদেশর রাজনৈতিক অঙ্গণে বেশ আলোচিত একটি নাম। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঐক্যফ্রন্ট সর্মথিত গণফোরামের সূর্য প্রতীক নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সকল জল্পনা কল্পনার অবসানের ইতি দিয়ে তিনি শপথ বাক্য পাঠ করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন বয়কট করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে এখনও অনড় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিতরা শপথ নিবেন না বলে জানিয়েছিল ঐক্যফ্রন্ট। তবে এই নির্দেশ অমান্য করে শপথ নিয়েছেন সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর। সর্বশেষ শপথ নিয়েছেন গণফোরামের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোকাব্বির খান।

মোকাব্বির খানের শপথ নেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে তুমূল আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই তাঁর শপথ নেওয়াকে বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর বিএনপির সাথে বিশ্বসঘাতকতা বলে মন্তব্য করেছেন।

গেল জাতীয় নির্বাচন থেকে সিলেট-২ আসনে বিএনপি ছিটকে পড়লে স্থানীয় নেতাকর্মীরা সমর্থন দেন গণফোরামের মোকাব্বির খানকে। তাঁর হয়ে মাঠপর্যায়ে কাজও করেন। নির্বাচনের পর সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয় ঐক্যফ্রন্টের উচ্চ পর্যায় থেকে। কিন্তু সংসদে যেতে দফায় দফায় আলোচনা চলাকালে বিতর্কিত হয়ে পড়েন মোকাব্বির খান।

মোকাব্বির খান বলেন, আমি আমার নির্বাচনী এলাকার সকলের সাথে পরার্মশ করে শপথ নিয়েছি। আমি সংসদে বিরোধীদলের ভুমিকা পালন করবো।

শপথ নেওয়ার আগে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর পরিবারের সাথে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে কি না- জানতে চাইলেন তিনি বলেন, আমি জনগণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। সিলেট-২ আসনের সর্বস্থরের ভোটার আমাকে তাদের রায়ে নির্বাচিত করেছে। আমি কোনো পরিবারের নির্বাচিত প্রতিনিধি নই।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইলিয়াসপত্নী তাহসীনা রুশদীর লুনা বলেন, বিশ্বনাথবাসী একজন বেইমান মোকাব্বিরকে দেখেছে। তাকে আগে কেউ চিনত না। তার কোনো ভোট নেই। মোকাব্বিরের মিটিংয়ে ১০ জন লোকও হতো না। আমাদের সমর্থন নিয়েই সে এমপি হয়েছে। তার যোগ্যতা থাকলে সে যেন আবার প্রার্থী হয়।

এদিকে মোকাব্বির খানের শপথকে কেন্দ্র করে বিশ্বনাথ বিএনপিতে দেখা দিয়েছে বিভক্তি। শপথ নেওয়ার আগে মোকাব্বির খানের সভায় যোগ দেওয়ায় বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রইছ উদ্দিন মাস্টার ও তাহিদ মিয়াসহ বিএনপির স্থানীয় ৯ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা বিএনপি।

বিশ্বনাথ বিএনপির একাংশ মনে করছে, নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েছিলেন মোকাব্বির খান। বর্তমানে তিনি শপথ নিয়ে ইলিয়াস আলীর পরিবার ও বিশ্বনাথ বিএনপির সাথে প্রতারণা করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবদল নেতা বলেন, ‘আমাদের ভোটে বিজয়ী হয়ে মোকাব্বির খান এমপি হয়েছেন। তিনি এখন বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টর এর নির্দেশ না মেনে শপথ নিয়েছেন। এখন তো ‘মোকাব্বিরের নাম শুনলেই মীর জাফরের কথা মনে হয়ে যায়’।

মোকাব্বির খানের শপথ নেওয়ার বিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা যুবদল নেতা ইয়াবর আলী বলেন, তিনি (মোকাব্বির খান) বিশ্বনাথবাসীর সাথে একটি ডিগবাজী করেছেন। আমি মনে করি, মোকাব্বির খান ইলিয়াস আলীর জনপ্রিয়তাকে কাজে না লাগালে জামানত হারাতেন।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলছেন, মোকাব্বির খান একজন অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি। সময়ে এর জবাব তিনি পাবেন। নিজের স্বার্থে তিনি বেঈমানি করছেন। এলাকার মানুষও এর জবাব দেবে। বিএনপির নেতাকর্মীদের ভোটে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন, এই নেতাকর্মীরাও তাকে জবাব দেবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সাংসদ মোকাব্বির খানের শপথ নেওয়ার বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঐক্যফ্রন্টের নির্দেশ অমান্য করে মোকব্বির খান শপথ নিয়েছেন। তিনি জনগণের সাথে প্রতারণা করেছেন। অবশ্যই এ ব্যপারে আলোচনা করে সিন্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে ২৩ দলীয় ঐক্যজোট ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জামা দেন নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও তার পুত্র ইলিয়াস আবরার অর্নব।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ইলিয়াসপুত্র অর্নব মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলে ধানের শীষের চুড়ান্ত প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী মাঠে প্রচার প্রচারণা শুরু করেন তাহসিনা রুশদীর লুনা এবং প্রতীক বরাদ্ধের দিন লুনাকে সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাজ্য চলে যান গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খান। পরে লুনার মনোনয়নপত্র স্থগিত করে উচ্চ আদালতে দেওয়া আদেশে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি ইলিয়াপত্নী।

নির্বাচনের সপ্তাহ খানেক আগে মোকাব্বির খানকে ২৩ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায় বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো।

অসুস্থ তাহসিনা রুশদীর লুনার নির্দেশে নিখোঁজ এম ইলিয়াছ আলীর ছোট ভাই এম আছকির আলী ও ইলিয়াস পুত্র অর্নব অংশ নেন মোকাব্বির খানের প্রচারণায়। তারা বিভিন্ন সভা সমাবেশে আবেগময়ী বক্তব্য দেওয়ায় ভোটার সাধারণের মাঝে বিপুল সাড়া জাগে। পাশাপাশি ইলিয়াস আলীর প্রতি এই আসনের ভোটারা বেশ আবেগ প্রবণ হওয়ায় ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের স্থলে ‘উদীয়মান সুর্য্য’ প্রতীক চলে আসে মূল আলোচনায়।

ইলিয়াসপত্নী লুনার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারায় নীরব ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে ‘উদীয়মান সূর্য্য’ প্রতীকে মোকাব্বির খান বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন এমনটাই মন্তব্য করেছেন নির্বাচনী পর্যবেক্ষকেরা।

বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলায় বিএনপি-জামায়াত জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমর্থন ও স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে নির্বাচনী মাঠে কাজ করেছেন। ফলে গণফোরামের মোকাব্বির খান বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। সূত্র – যমুনা নিউজ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!