গ্রিসে চাকরির প্রলোভনে লিবিয়ায় পাচার
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২:২৩ অপরাহ্ণ

সুরমা নিউজ ডেস্কঃ
ইউরোপের দেশ গ্রিসে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় মানব পাচার ও নির্যাতন করে দেশে বসে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল একটি চক্র। এমন অভিযোগে মানব পাচারকারী চক্রের সক্রিয় এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতের নাম মোহাম্মদ নজির হোসেন (৫৫)। বুধবার বিকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সিআইডিতে মানব পাচার আইনে তদন্তাধীন দু’টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলায় চক্রের গ্রিস প্রবাসী সদস্য শরীফ উদ্দিন গত বছর দেশে এসে ভুক্তভোগী যুবককে গ্রিসে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখান। জনপ্রতি ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি হলে ভুক্তভোগীরা প্রথমে পাসপোর্ট ও ২ লাখ টাকা শরীফের কাছে জমা দেন। ওই বছরের জুলাইয়ে দুজনকে বাংলাদেশ থেকে দুবাই-মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে তাদের মাফিয়া গোষ্ঠীর কাছে তুলে দেয়া হয়। মাফিয়ারা তাদের ইউরো-ডলার ছিনিয়ে নেয় এবং আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন চালায়।
সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার নজির ও তার সহযোগীরা লিবিয়ায় আটক দুই ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং অন্যজনের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। মুক্তিপণ নিলেও তাদের ছেড়ে না দিয়ে লিবিয়ার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ৪৫ দিন জেল খাটার পর আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার সহায়তায় দুইজন ২৯শে আগস্ট দেশে ফেরে। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডেমরা থানায় দায়ের হওয়া আরেক মামলার তদন্তেও একই চক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। সেখানে অভিযোগ রয়েছে-চক্রের সদস্য মো. বাহাদুর ফারাজীর টোপে এক যুবক গ্রিসে চাকরির আশায় ৮ লাখ টাকা ও পাসপোর্ট দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট, ভিসা ও টিকিট সরবরাহ করেন নজির। পরে লিবিয়ায় নিয়ে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় এবং ১১ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। টাকা নেয়ার পর তাকে মরুভূমিতে ফেলে যায় দালালরা। সেও একইভাবে ২৫শে আগস্ট দেশে ফিরতে সক্ষম হন। সিআইডি জানায়, নজির হোসেন এর আগেও বিমানবন্দর থানার প্রতারণা মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নজির স্বীকার করেন তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে লোভ দেখিয়ে ইউরোপ নেয়ার কথা বলে লিবিয়ায় পাচার করতেন। চক্রটি এ পর্যন্ত ১৯ জনের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সহায়তায় দেশে ফিরলেও বাকিরা এখনো লিবিয়ার বিভিন্ন মাফিয়া গোষ্ঠীর কাছে আটক রয়েছে। সিআইডি’র মানব পাচার ইউনিট (টিএইচবি) জানিয়েছে, গ্রেপ্তার নজির দুই মামলার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে সোপর্দ ও রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্ঘাটনে সিআইডি’র তদন্ত-অভিযান চলমান রয়েছে।







