মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর রাফি হত্যা : ছোট ভাইয়ের হাতে খুন!
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ আগস্ট ২০২৫, ৫:২৮ অপরাহ্ণ

সুরমা নিউজ ডেস্ক:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে ছাত্রদল নেতার হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। গত ৯ই আগস্ট সকালে নিজ ঘরে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম রাফি (২৬)’র গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, আপন ছোট ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছেন রাফি। তদন্তে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গতকাল দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ মহি উদ্দিন ও নোবেল চাকমা।
পুলিশ জানায়, সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের ছোট ভাই হাফিজিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থী (বয়স ১৬) ঘটনার দিনই (৯ই আগস্ট) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। পরবর্তীতে নিহতের স্ত্রী এবং আশেপাশের মানুষের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রোববার সে তার ভাইকে ঘুমের মধ্যে দা’ দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে। সে জানায়, ঘটনার আগের দিন ৮ই আগস্ট রাত অনুমান ৮টার দিকে তার ভাই নিহত রাফির কাছে মাদ্রাসার পরীক্ষার ফি বাবদ ৫শ’ টাকা চায়। পড়ালেখায় অমনোযোগী হওয়ায় রাফি ছোট ভাইকে টাকা না দিয়ে গালিগালাজ এবং দুর্ব্যবহার করে। এ ঘটনায় বড় ভাইয়ের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। পরদিন শনিবার সকালের দিকে ঘুম থেকে ওঠে দেখে তার মা ও রাফির স্ত্রী নেই। রাফির ঘরের সব দরজাও খোলা ছিল। এ সুযোগে খাটের নিচে থাকা ধারালো দা দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় রাফির ঘাড়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা বেসিনে ধুয়ে পরিষ্কার করে পুনরায় খাটের নিচে রেখে দেয় ঘাতক ছোট ভাই। তার পরনে থাকা রক্তমাখা লুঙ্গিও খাটের নীচে রেখে দেয়। এ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম করতে থাকে।
তবে এটাই বড় ভাইকে খুন করার একমাত্র কারণ ছিল না। রাফি চাইতো তার ছোট ভাই মাদ্রাসায় থেকে পড়াশোনা করুক। কিন্তু সে মাদ্রাসায় না থেকে বাড়িতেই বেশি থাকতো। এসব কারণে অভিভাবক হিসেবে বড় ভাই রাফি প্রায়ই তার ছোট ভাইকে শাসন করতো। কিন্তু বড় ভাইয়ের শাসন সে মেনে নিতে পারেনি। এ ছাড়া নিহত রাফি পরিবারের অমতে প্রেম করে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে এ নিয়ে রাফির স্ত্রীর সঙ্গে মা ও ভাইয়ের মনোমালিন্য ছিল। প্রায়ই দেবর-ভাবি এবং ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। ঘাতক ছোট ভাইয়ের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, খাটের নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা এবং রক্তমাখা লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত আব্দুর রহিম রাফি রহিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে এবং মুন্সীবাজার বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বারের ভাতিজা। রাফির ৬ মাসের একটি শিশু সন্তান রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ মহি উদ্দিন ও নোবেল চাকমাসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







