ইলিয়াস আলীকে নিয়ে তাজুল ইসলামের মন্তব্যে সিলেটে হতাশা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
সুরমা নিউজ ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১৩ বছর আগে গুমের পর বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
গুম-খুনের অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলায় বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিলের পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।
এদিকে ইলিয়াস আলীকে নিয়ে তাজুল ইসলামের এই মন্তব্যে সিলেটে বইছে হতাশার বাতাস। সিলেটে বিএনপি সমর্থকসহ সাধারণ মানুষজন ইলিয়াস আলীকে গুমের পর হত্যা সংক্রান্ত খবর শুনে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, ‘১৩ বছর ধরে আমরা ইলিয়াস আলীর ফেরার অপেক্ষায়, চিফ প্রসিকিউটরের এই তথ্য যেন ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী সিলেটের সিংহপুরুষ আমাদের মাঝে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে ভূল প্রমাণিত হয়, আমরা বিশ্বাস করি ইলিয়াস আলী আবার আমাদের মাঝে ফিরবেন।’
ইলিয়াস আলী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রদলের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক সিলেট-২ আসনে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১২ সালের এপ্রিলে ঢাকার বনানীতে বাসার কাছ থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়; এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, গুমের ঘটনায় জিয়াউল আহসানসহ র্যাবের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া, ২০১৫ সালে বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদকে গুম করে ভারতে পাচার করার পেছনেও তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।
ইলিয়াস আলীসহ বিরোধী নেতাদের গুমের ঘটনায় তখনকার সরকারি সংস্থাগুলোরও হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোও সরব হলেও, কোনো সংস্থা তখনই স্বীকার করেনি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতারা এসব অভিযোগকে ‘নাটক’ বলেছিলেন।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা গোলাম কিবরিয়া মিহিন, হাফেজ জাকির ও চৌধুরী আলমের মতো ব্যক্তিরা গুমের পরিকল্পনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণের পর তদন্তে ৫০০ জনের হত্যার তথ্যও প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে।
জিয়াউল ১৯৯১ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। র্যাবের বিভিন্ন পদে কাজ করার পর ২০১৬ সালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি পান। পরে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও টেলিযোগাযোগ নজরদারির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিযুক্ত হন। ২০২২ সালে মহাপরিচালক পদে বসানো হয় এবং জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।








