সিলেটে জামানকে নিয়ে ফের গুঞ্জন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ৬:১৩ অপরাহ্ণ

ওয়েছ খছরু:
এবার দলের ভেতরে নয়। বাইরের গুঞ্জন। ফোকাসেও তিনি। এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাবেক নেতা। কী করতে চাচ্ছেন তিনি। এ নিয়ে এন্তার আলোচনা বিরোধী শিবিরে। এই বিরোধী শিবির কারা- প্রশ্ন আসতেই পারে। তারা হচ্ছে সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জামানের কর্মসূচি তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। কেন এমন করছেন জামান, হিসাব মেলাতে পারছেন না তারা। ২০২১ সালে নিজ থেকেই পদত্যাগ করেছিলেন। এখনো পদে ফেরেননি। ফেরার প্রক্রিয়া কী সেটি নিয়ে ধোঁয়াশা চলছে। তবে এরই মধ্যে জামান সিলেটের রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হয়েছেন। বিএনপি’র নেতা হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সিলেট বিএনপি’র নেতাকর্মীরা তাকে নিয়ে নীরব। ইতিমধ্যে জামান সিলেট-৪ আসনের নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। চাচ্ছেন বিএনপি’র মনোনয়ন। ভোটের মাঠে সাড়া ফেলছেন। দিয়েছেন শোডাউনও। চষে বেড়াচ্ছেন আসনের তিনটি উপজেলা জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ। কোথাও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন আবার কোথাও রয়েছেন স্থানীয় জনগণ। এখনো এ আসনে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মাঠে নেমেছেন। বলছেন; ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশেই তিনি মাঠে নেমেছেন। পাল্টেছে পরিস্থিতি। তবু জামান অনড়। টিকিট চান, প্রার্থী ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত মাঠেই থাকবেন। জামান যে ভোটের মাঠে আছেন সে ম্যাসেজ ভোটারের কাছে পৌঁছে গেছে। দলের কর্মকাণ্ডে অ্যাক্টিভ জামান। ৭ই নভেম্বরের প্রথম প্রহরে সিলেটে কর্মসূচি পালন করেছেন। নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে করেছেন র্যালি। মধ্যরাতে তার এই র্যালি নজর কেড়েছে সবার। শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে জামান সিলেটের রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন। আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন। রায়ের আগে ও পরে করেছেন মিছিল। এই মিছিলকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরে জামানকে নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা। যে আলোচনা প্রকাশ হচ্ছে না। তবে ভেতরে ভেতরে কম্পন সৃষ্টি হচ্ছে সেটি অনেকেই জানেন। শেখ হাসিনার রায় ঘোষণার পর সিলেটে মিষ্টি বিতরণ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি। আনন্দ মিছিল হয়েছে। তবে বিএনপি’র তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কর্মসূচি পালন হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি। মাঠে শক্তি বাড়াচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এক ধরনের প্রস্তুতি আছে। কিন্তু জামানের কর্মসূচি ভাবিয়ে তুলেছে পলাতক থাকা আওয়ামী লীগের নেতাদের। পূর্ব সিলেটের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান জামানের। ওখানে আওয়ামী লীগেরও শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনের সময় চারদিক থেকে প্রশাসনিকভাবে জামানকে কাবু করা হয়। শেষ দিকে ঘরবন্দিই ছিলেন তিনি। পেশায় আইনজীবী। রাজনীতির পাশাপাশি আদালতেও যাওয়া-আসা করেন। সেখানেও তার পরিধি সংকুচিত হয়ে এসেছিল। জামান অস্থির হলে অস্থির হয় সিলেট। তাকে নিয়ে নানা পরিকল্পনা। মামলার পর মামলা। আওয়ামী লীগের শেষ দিকে এসে জামান কিছুটা ব্যাকফুটে। তার বিরুদ্ধে ‘শুট আউট’ অর্ডার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে নিয়ে ব্যস্ত। দলের ভেতরেও স্বস্তিতে ছিলেন না। একেক করে দলের ভেতরেও তাকে শক্তিহীন করার পরিকল্পনা চলে। সর্বশেষ ২০২১ সালে সিলেট স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটিও তার হাতছাড়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হন জামান। দেন পদত্যাগের ঘোষণা। এতে কিছুটা স্বস্তি পান। প্রশাসনের নজর তার উপর থেকে ধীরে ধীরে সরে যায়। সিলেট বিএনপি’র সিনিয়র সারির নেতাদের কাতারে ছিল জামানের অবস্থান।
ভোট ও রাজনীতির মাঠে থাকা জামানের স্পষ্ট ঘোষণা- আমি তো দল ছাড়িনি। পদ ছেড়েছি। কোথাও যাইনি। বিএনপিতেই আছি। তার অনুসারীরা কিছু না পাওয়ায় তিনি লোভনীয় পদ ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন। জামানকে ঘিরে বর্তমানে সিলেট আওয়ামী পরিবারে তুমুল আলোচনা। জামান কেন সরব সে হিসাব তারা মেলাতে পারছেন না। শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপিতে যারা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তাদের মধ্যে জামান অন্যতম। এ কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কেন জামানের দিকে নজর রাখছেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন- শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে সিলেটে যারা সবচেয়ে বেশি উৎফুল্লতা দেখিয়েছেন তাদের মধ্যে জামান ছিলেন অগ্রভাগে। দলীয় ভাবে বিএনপি রাজপথের রাজনীতিতে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালেও জামানের অ্যাক্টিভিটিজ তারা ভালো চোখে নেননি। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জামানের অবস্থান স্পষ্ট সেটি তার এবারের কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে বলে জানান তারা।







