সিলেটে প্রবাসী ভাতিজার বাসা ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিলেন চাচা!
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

সুরমা নিউজ ডেস্কঃ
সিলেটে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ভাতিজার বাসা ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে তার আপন চাচার বিরুদ্ধে। এখন ভাঙারি ব্যবসায়ী দুতলা এই বাসাটি ভেঙে ফেলছে। এমন ঘটনা ঘটেছে সিলেট নগরের ৩৭ নং ওয়ার্ডের আখালিয়া এলাকায়।
আখালিয়ার কলাপাড়া এলাকায় যৌথ মালিকানাধীন জমিতে প্রায় ৩০ বছর আগে প্রবাসী আয়াজ আলী একটি দ্বিতল বাসা নির্মাণ করেন। এই জমির মালিক আয়াজ আলী ও তার ছোট ভাই রাকিব আলী। বছর আটেক আগে আয়াজ আলী মারা যান। তার ছেলে সাদিক আলীসহ পরিবারের সব সদস্যরা যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। দেশে থেকে বাসাটি দেখভাল করতেন ভাই রাকিব আলী।
আয়াজ আলীর ছেলে সাদিক আলী অভিযোগ করেন, আব্বা মারা যাওয়ার পর আমার চাচা রাকিব আলী আমাদের সব সম্পদ দখল করে নেওয়ার তৎপরতা শুরু করেন। এতে আমরা বাধা দিলে তিনি আমাদের ভাইবোনদের হুমকী প্রদান করেন।
সাদিক আলী বলেন, কয়েক মাস আগে আখালিয়ায় আমাদের বাসাটি ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন চাচা রাকিব আলী। এই বাসার জায়গাটি যৌথ মালিকানাধীন হলেও বাসাটি আমার বাবা নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের কিছু না জানিয়েই চাচা বাসাটি ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর মাস দেড়েক আগে ওই ভাঙারি ব্যবসায়ী আমাদের বাসা ভাঙা শুরু করে। বিষয়টি জানার পর আমরা ভাঙারি ব্যবসায়ীকে বাধা দেই। কিন্তু এখন সে পুরো বাসা ভেঙে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।
আমরা বিষয়টি সিটি করপোরেশনের স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর ও পুলিশকে জানিয়েও কোন সুরাহা পাচ্ছি না।
এ প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রিয়াজ মিয়া বলেন, এই বাসায় রাকিব আলীই থাকতেন। তার ভাইয়ের পরিবার যুক্তরাজ্যে থাকেন। ফলে স্থানীয়ভাবে এটি আমরা রাকিব আলীর বাসা বলেই জানতাম।
তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে রাকিব আলী আমাকে ফোনে জানান, তিনি বাসাটি ভেঙে ফেলবেন। সেসময় আমি আপত্তি জানিয়েছিলাম। এতো টাকা খরচ করে নির্মিত একটি বাসা না ভাঙার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি অ্যাপার্টম্যান্ট করবেন বলে বাসাটি ভাঙার কথা জানান। এরপর তিনি এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বাসাটি বিক্রি করে দেন।
কাউন্সিলর রিয়াজ বলেন, রাকিব আলীর কাছ থেকে কেনার পর ভাঙারি ব্যবসায়ী বাসাটি ভাঙার কাজ শুরু করে। তখন তার ভাতিজা যুক্তরাজ্য থেকে আপত্তি জানান। এই প্রথম আমরা জানতে পারি এটি যৌথ মালিকানাধীন বাসা। রাকিব আলীও আমার কাছে স্বীকার করেছেন এটি যৌথ মালিকানাধীন বাসা। তখন আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসা ভাঙার কাজ বন্ধ রাখি।
সাবেক এই কাউন্সিলর আরও বলেন, বাসা ভাঙার কাজ বন্ধ রাখার পর ভাঙারি ব্যবসায়ী বারবার আমাকে চাপ দিচ্ছে। কারণ সে ১০ লাখ টাকা দিয়ে বাসাটি কিনেছে। তার তো কোন দোষ নেই। ফলে আমি রাকিব আলী ও সাদিক আলী দুজনকেই বলেছি, নিজেরা বসে বিষয়টি মিমাংসা করে নেওয়ার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোন মিমাংসা করতে পারেনি। ফলে আমার পক্ষেও এর সমাধান দেওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি এখন পুলিশ দেখছে।
অভিযোগ পেয়ে সম্প্রতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জালালাবাদ থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন। শনিবার তিনি বলেন, যৌথ মালিকানাধীন বাসা এভাবে রাকিব আলী একা বিক্রি করে দেওয়া ঠিক হয়নি। আমরা দুপক্ষকে দেশে এসে বিষয়টি সমাধান করতে বলেছি। তারা ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় নিয়েছেন। নিজেরা বসে সমাধান করতে না পারলে এ ব্যাপারে আলাদত সিদ্ধান্ত নেবে।
এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাদিক আলী বলেন, আব্বা মারা যাওয়ার পর থেকে আমরা যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগে চাচা রাকিব আলী আরমাদের দেশের সব সম্পদ দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আগে আমাদের না জানিয়েই তিনি বাসা বিক্রি করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি উল্টো আমাদের ভাই-বোনদের হুমকি প্রদান করেন। এরআগে তিনি আমার বাবার একটি গাড়ি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। সেই টাকাও আমাদের দেননি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে রাকিব আলীর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আছেন বলে জানা গেছে।
সুত্র-সিলেটটুডে






