জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে খেলাফত মজলিসের ক্ষোভ বাড়ছে
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১:৪১ পূর্বাহ্ণ
রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে খেলাফত মজলিসের(ঘড়ি মার্কা) মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদির প্রবর্তিত “ওয়ান ক্যান্ডিডেট ওয়ান ব্যালট পলিসি”—রাজনৈতিক মহলে যেটি এখন “ইসলামপন্থীদের এক বাক্স ভোট নীতি” নামে আলোচিত—মূলত একটি ভোটব্যবস্থা-সংক্রান্ত নীতি যেখানে একই আদর্শ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে থাকা দলগুলো একই প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানায়। মাঠপর্যায়ে এই স্লোগান জনপ্রিয়তা পেলেও অভিযোগ উঠেছে, জামায়াতে ইসলামী খেলাফত মজলিসের অগ্রযাত্রাকে “আড়াল” করার চেষ্টা করছে।
খেলাফতপন্থী নেতাদের অভিযোগ—জামায়াত-ঘনিষ্ঠ সংবাদ মাধ্যমে খেলাফত মজলিসের কার্যক্রমে নিয়মিত ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, রাজনৈতিক মাঠে খেলাফত মজলিসকে “প্যারালাল ইসলামি শক্তি” হিসেবে দেখেই জামায়াত এ ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে।
পোস্টার থেকে ঘোষণায়—ভুলের পুনরাবৃত্তি
সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে খেলাফত মজলিসের আমীর আব্দুল বাসিত আজাদ সভাপতিত্ব করলেও জামায়াতের প্রেস থেকে প্রকাশিত পোস্টারে তাঁর নাম ভুল ছাপা হয়, যা প্রুফে সঠিক থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃত বলে দাবি করেন খেলাফতের এক জেলা নেতা। একই সমাবেশে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর সভাপতির নাম ঘোষণা করতে গিয়ে “ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি আজকে সভাপতিত্ব করছেন” বলে ভুল পরিচয় প্রদান করায় উপস্থিতদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং অনেকের মতে এটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুল। এদিকে, এক সাবেক ছাত্রনেতার দাবি—খেলাফত মজলিসের মহাসচিবের আসনে চাপ সৃষ্টি করতে জামায়াত তাদের পূর্বের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নতুন প্রার্থী দেয়, যা স্থানীয় খেলাফত নেতাদের মতে “মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগের কৌশল” ছাড়া কিছু নয়।
যুগ্ম মহাসচিবের পদবি ভুল প্রচার—”ইচ্ছাকৃত অপপ্রচার”
৯ নভেম্বর খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ৮ দলের প্রেস ব্রিফিংয়ের সংবাদ জামায়াতের ভেরিফায়েড পেজে প্রকাশিত হয়।
সংবাদটিতে খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিবের পদবী ভুলভাবে অন্য দলের যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একাধিকবার সংশোধনের অনুরোধের পরও ভুলটি বজায় থাকায় খেলাফতকর্মীরা এটিকে “ইচ্ছাকৃত অপপ্রচার” হিসেবে দেখছেন।
ঘড়ি ও রিকশা প্রার্থীকে মুখোমুখি করে ভোট ভাগের অভিযোগ
খেলাফতসমর্থক কয়েকটি সোশ্যাল গ্রুপে অভিযোগ এসেছে—যেসব আসনে ঘড়ি মার্কার প্রার্থী এগিয়ে আছেন, সেখানে জামায়াত-ঘনিষ্ঠ নেতারা রিকশা মার্কার প্রার্থীকে দাঁড় করিয়ে ভোট ভাগ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কর্মীদের ভাষায়— “ঐক্যের কথা বললেও মাঠে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।”
কেন্দ্রীয় খেলাফত নেতৃত্ব চাপে, শূরা সভা ডাকতে প্রস্তুতি
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে—এই ধারাবাহিক ভুল উপস্থাপন, অবমূল্যায়ন ও রাজনৈতিক চাপের কারণে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতারা যথেষ্ট অস্বস্তিতে আছেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি শূরা সভা ডাকার প্রস্তুতি চলছে।
“দল নয়—দেশ ও দ্বীনকে অগ্রাধিকার” মাঠপর্যায়ের নেতারা মনে করেন—ঘড়ি ও রিকশা মার্কা যদি এক হয়ে প্রার্থী দেয়, তবে ৮ দলীয় জোটের তুলনায় বেশি রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে খেলাফত মজলিসের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলছে— “এই সমঝোতায় দল হিসাবে খেলাফত মজলিস(ঘড়ি মার্কা) বড় লাভ না হলেও দেশে ইসলামী শক্তির ইতিবাচক বার্তা যাবে। দেশ ও দ্বীনকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা ‘One Box’ নীতিতে কাজ করে যাচ্ছি।”








