বিয়ের অনুষ্ঠানে মাংস কম দেওয়ায় সং ঘর্ষ, আহত ২০
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
লালমনিরহাটে বিয়ের অনুষ্ঠানের অ্যাপায়নে মাংস কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০জন আহত হয়েছে বুধবার (২ এপ্রিল) দিনগত মধ্যরাতে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের কাজিচওড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কাজিরচওড়া গ্রামের একরামুল খাঁনের মেয়ে বিথী আক্তারের সঙ্গে একই এলাকার মনসুর আলীর ছেলে আল মামুনের আলোচনা সাপেক্ষে বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়। পূর্ব আলোচনা অনুযায়ী বুধবার বিকেলে বর মামুনকে কেনাকাটা করে দিয়ে বিয়ের আসরে আসার আমন্ত্রণ জানায় কনেপক্ষ। কেনাকাটায় দেরি করায় বর যাত্রীদেরও কনের বাড়িতে যেতে কিছুটা দেরি হয়। এ নিয়েও তাদের মাঝে মনোমালিন্য ছিল। দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর যাত্রীদের খাবার পরিবেশন করা হয়। সেখানে পরিবেশনে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এবং মাংস কম দেওয়া নিয়ে বিতর্ক বাধে। একপর্যায়ে কনের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে আলো নিভে দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এতে অন্ধকারে দুই পক্ষের নারী শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এ সময় বর পক্ষের গাড়িও আটক করে রাখে কনে পক্ষের লোকজন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে নয়জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। বর আল মামুন তার আত্মীয়ের বাড়িতে এবং কনে বিথী আক্তার পাশের এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বিয়ে হয়ে গেলেও সংঘর্ষের কারণে তাদের দেখা হয়নি।
বরের দুলাভাই (ভগ্নিপতি) আহত সুজন ইসলাম বলেন, বর যাত্রী যাওয়ার কথা ছিল ৪০ জন আমরা গিয়েছিলাম ৩২জন। এতগুলো মানুষের খাবার পরিবেশন করতে মাত্র দুইজন লোক। তার ওপর প্লেটে বালু, বেসিনে পানি নেই। ভাত দিলেও তরকারির খবর নেই। এ নিয়ে একটু কথা কাটাকাটি হলে কনের চাচা বাড়ির ভেতর থেকে লাঠি এনে আলো নিভিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। অন্ধকারে তাদের লাঠির আঘাতে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়েছে। বেশি আহত হয়েছে বর পক্ষের লোকজন।
কনের চাচাত ভাই নয়ন খাঁন বলেন, বর পক্ষের লোকজন বেশি এসেছিল। তাই খাবার সংকট ছিল। মাঝ রাতে কোথাও খাবার পাওয়া যাবে না। তাই সামান্য করে সবাইকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ নিয়ে বর পক্ষের একজন খারাপ মন্তব্য করায় মারামারি লেগে যায়। এতে আমাদেরও পাঁচ/সাতজন আহত হয়েছে।
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সোয়াদ হোসেন বলেন, বিয়ে বাড়িতে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ২০জন আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছিল। কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি গেলেও নয়জন ভর্তি রয়েছেন। লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরনবী বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।