রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বালুচর এলাকার ত্রাস হিরণ মাহমুদ নিপু

সুরমা নিউজ ডেস্ক :
সিলেট নগরীর বালুচর এলাকায় চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর উপর হামলা এবং মামলা তুলে নেয়ার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরন মাহমুদ নিপু ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ করে সোমবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন হামলার শিকার হওয়া ব্যবসায়ী বালুচরের রহমান প্যালেস সি-ব্লকের ১০নং রোডের ১৫৬নং বাসার বদরুল হক চৌধুরীর ছেলে মো. কাইয়ুম চৌধুরী আনাছ।

সংবাদ সম্মেলনে মো. কাইয়ুম চৌধুরী আনাছ বলেন- সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক বহিস্কৃত সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপু বালুচর এলাকার সকল অপরাধের গডফাদার। সে ওই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ কর্মকান্ড ছাড়াও সে মাদক ব্যবসার ও অস্ত্র ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বালুচর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও তাদের চাঁদাবাজি থেকে রক্ষা পায়নি।

তিনি বলেন- বালুচর এলাকার এমন কোনো ব্যবসায়ী নেই যাদের নিকট থেকে নিপু চাঁদা আদায় করে না। বাসা ও দেওয়াল নির্মাণ করতে গেলেও তাকে চাঁদা দিতে হয়। ভয়ে কেউ কখনও প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করার সাহস পায় না। দীর্ঘদিন ধরে নিপুর সহযোগী আলম, সাইদুল ইসলাম বাহার ও গিয়াসের কাছে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা চাঁদা দিয়ে আসছিলেন তিনিও। কিন্তু সম্প্রতি তিনি চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা তাকে ভয়ভীতি দেখায়। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৬ মার্চ রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে মুছব্বির মিয়ার মার্কেটের সামনে নিপু ও তার সহযোগীরা তার উপর হামলা চালায়। হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায়, পিঠে, হাতে বিভিন্ন জায়গায় কুপায়। এসময় হামলাকারীরা তার কাছ থেকে নগদ ১৯ হাজার টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন- হামলার শিকার হয়ে ওসমানী হাসপাতালের ১১নং ওয়ার্ডে ভর্তি থাকাবস্থায় গত ২৮ মার্চ তিনি শাহপরাণ থানায় একটি অভিযোগ প্রেরণ করলে পুলিশ মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করে। পরে তিনি গত ২ এপ্রিল সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালত বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

আদালত মামলাটি গ্রহণ করার জন্য শাহপরাণ থানা পুলিশকে নির্দেশ দিলে গত ৬ এপ্রিল শাহপরান থানায় মামলাটি রুজু হয় (মামলা নং-০৬)। নিপু ছাড়াও এ মামলার অন্য আসামিরা হলো- বালুচর এলাকার আলম মিয়া (৪৫), সাইদুল ইসলাম বাহার (২৩), বোরহান মিয়া (২০), ঝুনুন মিয়া (৩০), সামছু মিয়া (৪০), শাহাব আহমদ (২৮), জুয়েল মিয়া (২৭), সবুজ ওরফে এন্ডিং সবুজ (৩০), মো. গিয়াস উদ্দিন (৪০) এবং কাওছার (২৬) মোট ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জন।

মো. কাইয়ুম চৌধুরী আনাছ বলেন-মামলা রুজু হওয়ার পর সে মামলা তুলে নেয়ার জন্য তাকে এবং তার পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। সে পরিবারের লোকজনকে হুমকি দিয়ে বলেছে দায়েরকৃত মামলা তুলে না নিলে তারা আমাকে খুন করবে। এমনকি পরিবারের কেউই রেহাই পাবে না। এই ঘটনায় কাইয়ুম চৌধুরী শাহপরাণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন (জিডি নং- ৫০১)।

তিনি হিরন মাহমুদ নিপু ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের উর্দ্ধতন মহল ও সরকারদলীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!