শনিবার, ২৫ মে, ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
সিলেটের অলস গ্যাস কুপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের আবেদন যুবলীগ সভাপতির  » «   গোলাপগঞ্জে বৃদ্ধকে বাস থেকে ‘ধাক্কা দিয়ে ফেলে’ হত্যা করলো হেলপার  » «   ওসমানীনগরে থানা পুলিশের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন  » «   লন্ডনের ওভাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম থাকবে সিলেটিদের দখলে  » «   রাজনগরে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন, বন্যার আশঙ্কা  » «   বালাগঞ্জে আদালতের রায় উপেক্ষা করে জায়গা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৯  » «   সংস্কারের অভাবে বিশ্বনাথ বাইপাস সড়কের বেহাল অবস্থা : রাস্তা নয় যেন পুকুর  » «   শমশেরনগর-বিমানবন্দর সড়কে ড্রেনেজ ধ্বসে গর্ত, জনদুর্ভোগ চরমে  » «   মৌলভীবাজারে বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, তলিয়ে গেছে দেড় হাজার একর আউশ ক্ষেত  » «   বানিয়াচঙ্গে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ৮ম শ্রেণির ছাত্র গ্রেফতার  » «  

সাগরে নৌকাডুবি : বাবার লাশ আসেনি, ভাইয়েরটি যেন আসে

সুরমা নিউজ ডেস্ক:
পরিবারের স্বপ্ন বুনতে সৌদি আরবে গিয়ে প্রায় এক যুগ আগে মারা গেছেন বাবা অহিদ মিয়া। তখন অর্থের অভাবে লাশটিও দেশে আনা যায়নি, শেষবারের মতো দেখাও হয়নি তাঁর মুখ। বছরখানেক আগে বাবার অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশ ছাড়েন নোয়াখালীর চাটখিলের নাছির উদ্দিন (২৩)। কিন্তু নিয়তি তাঁকেও স্বপ্ন পূরণ করতে দেয়নি। গত বৃহস্পতিবার তিউনিসিয়ার উপকূলে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবির ঘটনায় ৩৯ বাংলাদেশির সঙ্গে তিনিও নিখোঁজ রয়েছেন।

নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া রুবেল নামের একই উপজেলার বাসিন্দা নাছির নিখোঁজ থাকার বিষয়টি প্রথম এলাকায় জানান। গত শনিবার রুবেল নিখোঁজ নাছিরের ছোট ভাই নাজিম উদ্দিনকে মোবাইলে জানান, তিনিসহ নাছির দুর্ঘটনাকবলিত নৌকায় ছিলেন। তিনি কূলে ফিরতে পারলেও নাছির সাগরের জলে ডুবে যান।

আজ বৃহস্পতিবার কথা হয় নিখোঁজ নাছির উদ্দিনের ছোট ভাই নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, তাঁদের দুই ভাই, এক বোনকে ছোট রেখে বাবা অহিদ মিয়া মারা যান প্রায় এক যুগ আগে ২০০৭ সালে। তখন তাঁদের পরিবারের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। উপায় না পেয়ে মা তাঁদের নিয়ে চাটখিলের মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাঁকড়াপাড়া থেকে পার্শ্ববর্তী সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের উলুপাড়ার নানার বাড়িতে আশ্রয় নেন। নানা-মামাদের সহায়তায় তাঁরা বেড়ে ওঠেন।

নাজিম উদ্দিন বলেন, তিনি নোয়াখালী সরকারি কলেজে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন। একমাত্র ছোট বোন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারের কথা চিন্তা করে গত বছরের মার্চ মাসে মামাদের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে তাঁর বড় ভাই নাছির উদ্দিন সোনাইমুড়ীর আমিশাপাড়া এলাকার আবুল কালামের মাধ্যমে লিবিয়া যান। কথা ছিল তাঁর ভাইকে ইতালি পৌঁছানো হবে। বিনিময়ে আবুল কালামকে দেওয়া হয় ১০ লাখ টাকা।

নাজিম উদ্দিন বলেন, ফরিদপুরের ওয়াসিম নামের এক ব্যক্তির কাছে তিনি নিজে সব টাকা পাঠিয়েছেন। ওয়াসিম টাকা পাঠাতেন কালামের কাছে। এভাবেই টাকা পাঠিয়ে তিন মাস আগে তাঁর এক মামা রাফেল ইতালি পৌঁছান। সে জন্য একই পথে তাঁর ভাই নাছিরও ইতালি যাওয়ার জন্য রাজি হন।

নাজিম উদ্দিন আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার তিউনিসিয়ার উপকূলে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনার খবর শোনার পর ওই দুর্ঘটনায় তাঁর ভাইও পড়তে পারেন বলে তাঁর সন্দেহ হয়। কিন্তু তিনি বাড়িতে মাকে কিছু বলেননি। গত শনিবার বিকেলে ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া চাটখিলের রুবেল ফোন করার পর মা সবকিছু জেনে যান। তখন থেকে মা নাছিমা বেগম শয্যাশায়ী।

নাজিম বলেন, ঘটনা শোনার পর থেকে মা নাছিমা বেগম শয্যাশায়ী। বাবার মতো ভাইয়ের লাশটি যেন বিদেশের মাটিতে হারিয়ে না যায়, এখন একমাত্র চাওয়া তাঁদের। সরকারিভাবে যেন তাঁর ‘লাশটি’ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয় সেই আকুতি পরিবারের সবার।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Email this to someone
email
Print this page
Print

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!